২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অস্ট্রেলিয়ার চারটি বিরল অর্জন

  • প্রথম ডে-নাইট টেস্ট ক্রিকেট;###;সৈয়দ মাজহারুল পারভেজ

অনেকদিন ধরেই বিষয়টি নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছিল। বিষয়টি নিয়ে আইসিসি অকেদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছিল। অফিস ফেরত মানুষগুলো যাতে ক্রিকেট খেলা দেখা থেকে বঞ্চিত না হয় সে লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক দিবা-রাত্রির টেস্ট ক্রিকেটের অভিষেকটা কেমন হবে তা নিয়ে ক্রিকেটামোদী পাঠক-দর্শকের গুঞ্জনের শেষ ছিল না। শেষ পর্যন্ত সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ হলো সাদা পোশাকের অভিজাত ক্রিকেটের প্রথম ‘ডে-নাইট টেস্ট ম্যাচ’। সূচিত হলো টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসের আরও একটি নতুন অধ্যায়। যেখানে ফ্লাড লাইটের আলোয় টেস্ট ক্রিকেট উপভোগ করবেন ক্রিকেটামোদীরা। টেস্ট ক্রিকেটকে আরও আনন্দময় করে তুলতে ‘ডে-নাইট টেস্ট ক্রিকেট’ একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। প্রথম টেস্টের জয়ের নায়কেরাই এবারও জয় করায়ত্ত করে। জয়ের ক্ষেত্রে কোন পরিবর্তন হয়নি। প্রথম টেস্ট, টেস্ট ক্রিকেটের শতবর্ষের ম্যাচ ও প্রথম একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচের মতো যথারীতি স্টিভেন স্মিথের অস্ট্রেলিয়াই জিতেছে। এবার ব্যবধান ৩ উইকেটের। তবে ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম টেস্টের সঙ্গে পার্থক্য ছিল এটাই, প্রথম টেস্টে প্রতিপক্ষ হিসেবে ছিল ইংল্যান্ড। আর এবার তাদের বদলে নিউজিল্যান্ড। প্রতিপক্ষ ছাড়া ভেন্যু মেলবোর্নের পরিবর্তে এডিলেড। এ নিয়ে পরে আলোচনায় আসছি। তার আগে প্রথমে টেস্ট ক্রিকেটের শুরু নিয়ে দু’বার কথা বলা যেতেই পারে।

এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়, উনিশ শতকের শেষ এবং বিশ শতকের শুরুর সময়কালটা ছিল ক্রিকেটের জন্যে স্বর্ণোজ্জ্বল অধ্যায়। ১৮৭৬-৭৭ মওশুম ক্রিকেট ইতিহাসের এক গৌরবময় সময়। এ সময়ে ক্রিকেট ইতিহাসে সূচিত হয় এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। এ মৌসুমে ইংল্যান্ড দল অস্ট্রেলিয়া সফরে যায়। ১৮৭৭ সালের ১৫ মার্চ অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত হয় ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম টেস্ট ম্যাচ। প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়া ৪৫ রানে ইংল্যান্ডকে পরাজিত করে টেস্ট ইতিহাসের প্রথম ম্যাচ জয়ের অনন্য কৃতিত্ব অর্জন করে। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে নেতৃত্ব দেন ডি. ডব্লু. গ্রেগরি এবং ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কত্ব করেন জেমস লিলি হোয়াইট। অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার চার্লস ব্যানারম্যান টেস্ট ক্রিকেটের প্রথম শতরান করার গৌরব অর্জন করেন। অস্ট্রেলিয়ার মিডউইন্টার প্রথম টেস্ট ক্রিকেটে ইনিংস ৫ উইকেট লাভ করেন। প্রথম টেস্টের আম্পায়ার ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার সি. কার্টিস এবং বি. রিড। প্রসঙ্গত বলা যায়, ১৯৭৬ সালে টেস্ট ক্রিকেটের শতবার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে একই দল (অস্ট্রেলিয়া), একই মাঠে (মেলবোর্ন), একই দলের (ইংল্যান্ড) বিপক্ষে, একই ব্যবধানে (৪৫ রানে) পরাজিত হয়। ব্যাপারটা কাকতালীয় বৈকি।

একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের শুরুটাও সেই অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের হাত ধরেই। সে এক মজার ঘটনা। ১৯৭০-৭১ মৌসুম ইংল্যান্ড অস্ট্রেলিয়া সফরে যায়। বৃষ্টির কারণে মেলবোর্নের তৃতীয় টেস্টটি পরিত্যক্ত হওয়ায় ক্রিকেট কর্তৃপক্ষ টিকেট কাটা অসহিষ্ণু হতাশ দর্শকদের শান্ত করার জন্যে ৪০ ওভারের (তখন ৮ বলে ওভার ছিল) একটি এক দিনের ক্রিকেট ম্যাচের আয়োজন করে। ১৯৭১ সালের ৫ জানুয়ারি মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত প্রথম একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়া ৫ উইকেটে ইংল্যান্ডকে পরাজিত করে প্রথম টেস্টের মতো প্রথম ওয়ান ডে ক্রিকেটের প্রথম ম্যাচ জয়ের গৌরব অর্জন করে। প্রথম ওয়ান ডে ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে নেতৃত্ব দেন বিল লরি এবং ইংল্যান্ডের পক্ষে রে. ইলিংওয়ার্থ। ইংল্যান্ডের জন এডরিচ ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ হন।

শুধু প্রথম দিবা-রাত্রির টেস্ট ক্রিকেটের বেলায় অভিষেকটা অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের মধ্যে হলো না। ইংল্যান্ডের বদলে রেকর্ডের পাতায় ঢুকে গেল নিউজিল্যান্ড। আর এবার বঞ্চিত হলো মেলবোর্ন। টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসের ১৩৮ বছরে প্রথম ‘ডে-নাইট টেস্ট ম্যাচ’ অনুষ্ঠিত হলো এ্যাডিলেডে। যদিও এ ম্যাচের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল ‘গোলাপি বল’ দিয়ে খেলা। এবারই প্রথম টেস্ট ম্যাচে গোলাপি বল দিয়ে খেলা হয়। তবে এ্যাডিলেডের সবুজ ঘাসের মাঠে যদিও ব্যাটসম্যানরা কোকাবুরার গোলাপি বলে তেমন স্বাচ্ছন্দ্যে খেলতে পারেনি। একটা ম্যাচ দিয়েই সব বিচার করা যায় না। এই এক ম্যাচই শেষ নয়। আরো ২/১টা ম্যাচ খেলার পর বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম টেস্ট, টেস্ট ক্রিকেটের শতবর্ষের ঐতিহাসিক ম্যাচ, প্রথম একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ ও ঐতিহাসিক দিবা-রাত্রির এই প্রথম টেস্ট ম্যাচে অনবদ্য বিজয়, এই ৪টি অর্জন ৫ বারের বিশ্বকাপ জয়ী অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে গেল আরও অনেক উচ্চতায়। আর সেই সঙ্গে এ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে নেতৃত্ব দিয়ে স্টিভেন স্মিথ ও নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক বেন্ড্রন ম্যাককালামও হয়ে গেলেন সে ইতিহাসের অংশ। প্রথম দিবা-রাত্রির টেস্ট ম্যাচের সঙ্গে এঁরাও ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে থাকবেন। প্রথম দিবা-রাত্রির টেস্ট ম্যাচের স্কোর : নিউজিল্যান্ড ২০২ ও ২০৮ এবং অস্ট্রেলিয়া : ২২৪ ও ১৮৭/৭ অস্ট্রেলিয়া ৩ উইকেটে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ : জশ হ্যাজেলড (অস্ট্রেলিয়া)

লেখক : ক্রীড়ালেখক, কথাসাহিত্যিক ও সাহিত্য সংগঠক

syedmayharulparvey@gmail.com