২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শেষ পর্যন্ত থাকবে তো দেশী ক্রিকেটারদের আধিপত্য?

  • বিউটি পারভীন

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) টি২০ বেশ জমজমাট শুরু থেকেই। নানাবিধ চমক, ঘটনা, বিতর্ক নিয়ে ইতোমধ্যেই আগ্রহ কাড়তে পেরেছে এ আসরটি। মাঝে এক বছর দেশের অন্যতম ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক এ জনপ্রিয় ক্রিকেট আসর বন্ধ থাকার পর আবারও শুরু হয়েছে। আর এর মধ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেটও পৌঁছে গেছে অন্যরকম এক উচ্চতায়। সেজন্যই এবার বিপিএলের শুরু থেকেই বিপুল দর্শক উপস্থিতিও দেখা গেছে। ঢাকায় প্রথম পর্বে ৬ দিনের খেলায় অনেক দর্শক-ভক্ত এসেছেন মাঠে। আর প্রথমপর্বের শেষে বিদেশী ক্রিকেটারদের সঙ্গে টক্কর দিয়ে এগিয়ে ছিলেন দেশের ক্রিকেটাররা। ব্যাটে-বলে সেরা ছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। তবে চট্টগ্রামে শুরু হওয়া দ্বিতীয় পর্বে এবং পরবর্তীতে ঢাকায় তৃতীয় পর্বে বড় তারকাদের আগমন ঘটবে। পাকিস্তানের শহীদ আফ্রিদি, শোয়েব মালিক, সোহেল তানভীর, আহমেদ শেহজাদ, উমর আকমল, ওয়াহাব রিয়াজ, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইল, কাইরন পোলার্ড, দক্ষিণ আফ্রিকার রবিন পিটারসেন ও কুইন্টন ডি কক এবং ইংল্যান্ডের ক্রিস জর্ডানরা যোগ দেবেন। শেষ পর্যন্ত দেশের ক্রিকেটাররা তাদের নৈপুণ্য ধরে রাখতে পারবেন? ব্যাটে-বলে যে আধিপত্য তা অটুট থাকবে? বিপিএলের আগের দুই আসরেও খেলেছেন গেইল-আফ্রিদিরা। একাই দুটি সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন ক্যারিবীয় বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান গেইল। এবারও তিনি আসছেন। চট্টগ্রাম পর্বেই এবার সিলেট সুপারস্টারসে যোগ হচ্ছেন আফ্রিদি আর ঢাকায় ফিরতি পর্বে বরিশাল বুলসে যোগ দেবেন গেইল। প্রথম পর্বে নৈপুণ্যের দিক থেকে বিদেশীরা পিছিয়ে ছিলেন স্থানীয় ক্রিকেটারদের চেয়ে। অথচ বিদেশী ক্রিকেটারদের তালিকায় ছিলেন কুমার সাঙ্গাকারা, তিলকারতেœ দিলশান, নুয়ান কুলাসেকারা, অজন্থা মেন্ডিস, সচিত্র সেনানায়েকে, থিসারা পেরেরা, পাকিস্তানের সাঈদ আজমল, নাসির জামশেদ, মোহাম্মদ আমির, মোহাম্মদ সামি, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সুনিল নারাইন, লেন্ডল সিমন্স, ড্যারেন সামি, মাারলন স্যামুয়েলস, ইংল্যান্ডের রবি বোপারা, জশুয়া কব, জিম্বাবুইয়ের ব্রেন্ডন টেইলর, এলটন চিগুম্বুরার মতো তারকারা। এদেরকে ছাপিয়ে ব্যাটে-বলে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররাই ছিলেন এগিয়ে। বিশেষ করে গত দুই আসরে মাঠ মাতানো জামশেদ, দিলশান, টেইলররা পুরোপুরি ব্যর্থ। আর বোলিংয়ে ব্যর্থ হয়েছেন বাকিরা। চলতি আসরে বাংলাদেশ জাতীয় দলের ওপেনার চিটাগাং ভাইকিংসের অধিনায়ক তামিম ইকবালই এগিয়ে ব্যাট হাতে। দুটি অর্ধশতকসহ ৩৮.৫০ গড়ে তিনি ৪ ম্যাচে করেছেন ১৫৪ রান। অবশ্য তেমন পিছিয়ে নেই সাঙ্গাকারা (১৩৪ রান) ও দিলশান মুনাবিরা (১৩৩ রান)। এই দুই লঙ্কান ব্যাটসম্যান প্রথম পর্ব শেষে রান করার দিক থেকে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে। আর দ্বিতীয় স্থানে থাকা স্যামুয়েলস (১৪২) রান করলেও তাঁকে দেশে ফিরতে হয়েছে জাতীয় দলের হয়ে খেলার জন্য।

আর বোলিংয়ে শীর্ষে আছেন সাকিব আল হাসান। ৪ ম্যাচে তিনি নিয়েছেন ৯.২০ গড়ে ১০ উইকেট। চলতি বিপিএলের একমাত্র হ্যাটট্রিকটি করেছেন বরিশাল বুলসের পেসার আলআমিন হোসেন। তিনি সিলেট সুপারস্টারসের বিরুদ্ধে পর পর তিন বলে আউট করেন বোপারা, নুরুল হাসান ও মুশফিককে। বোলিং নৈপুণ্যে বাংলাদেশের বোলাররাই এগিয়ে আছেন বিদেশীদের তুলনায়। সাকিবের পরে সিলেট সুপারস্টারসের মোহাম্মদ শহীদ ও ঢাকা ডায়নামাইটসের মুস্তাফিজুর রহমান আছেন ৮টি করে উইকেট শিকার করে। আর সার্বিকভাবে বিপিএলের রেকর্ডে বর্তমানে সেরা বোলার সাকিব। তাঁর উইকেট শিকার সংখ্যা ৪০! ব্যাটিংয়েও বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানের শ্রেষ্ঠত্ব। চলতি আসরে এখন পর্যন্ত মুশফিক ব্যাট হাতে ৪ ম্যাচে করেছেন ৪৯.০০ গড়ে ৯৮ রান। সেদিক থেকে চলতি বিপিএল। টি২০ আসরে আট নম্বরে তিনি। তবে তিন আসর মিলিয়ে এখন সর্বাধিক রানের মালিক হয়ে গেছেন তিনি। ছাড়িয়ে গেছেন অস্ট্রেলিয়ান তারকা ব্র্যাড হজকে। তিন আসর মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ২৮ ম্যাচ খেলে মুশফিকের রান ৭৭২। আর দুইয়ে নেমে যাওয়া হজের রান ২৩ ম্যাচে ৭৫৬। চলতি আসরেও মুশফিকের ব্যাটে রান থাকলেও জাতীয় দলের তারকা ব্যাটসম্যানরা হয়েছেন ব্যর্থ। সে তালিকায় আছেন ওপেনার সৌম্য সরকার ও ইমরুল কায়েস এবং দুই অলরাউন্ডার সাব্বির রহমান রুম্মান ও নাসির হোসেন। ব্যাট হাতে জাতীয় দলের এ চার ক্রিকেটারই একেবারে নিস্প্রভ।

জিম্বাবুইয়ের বিরুদ্ধে ইনজুরির কারণে খেলতে পারেননি সৌম্য। জাতীয় দলে ঢোকার পর দারুণ আলো ছড়িয়েছিলেন এ ওপেনার। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে খেলা সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজেও দারুণ খেলেছেন। তবে ২২ বছর বয়সী সৌম্য সম্প্রতি বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও তেমন সুবিধা করতে পারেননি। এবার বিপিএল দিয়ে আবার নিজেকে ফিরে পাওয়ার লড়াই ছিল সৌম্যের। কিন্তু সে লড়াইয়েও তিনি ব্যর্থ। অথচ ‘প্লেয়ার্স বাই চয়েজ’ পদ্ধতিতে প্রথম সুযোগেই তাঁকে দলে ভিড়িয়েছে রংপুর রাইডার্স। ৫ ম্যাচ খেলে উল্লেখযোগ্য কোন ইনিংস খেলতে পারেননি সৌম্য। ১৩.৪০ গড়ে করেছেন মাত্র ৬৭ রান। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ইনিংস মাত্র ২০ রানের। সোমবার বন্দরনগরী চট্টগ্রামে বিপিএলের দ্বিতীয় পর্ব। এবার ব্যাট হাতে নিজেকে ফিরে পাওয়ার লড়াই এ ওপেনারের। জিম্বাবুইয়ের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজে সুযোগ করে নেয়া ওপেনার ইমরুল কায়েস দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়েছিলেন। তিনিও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের জন্য বিশেষ কিছু করতে পারেননি। ৪ ম্যাচে মাত্র ১২.৩৩ গড়ে করতে পেরেছেন ৩৭ রান। সর্বোচ্চ অপরাজিত ২৪ রানের ইনিংস খেলেছেন ঢাকা পর্বের শেষ ম্যাচে ডায়নামাইটসের বিরুদ্ধে। এবার সেটা ধরে রাখার পালা তাঁর চট্টগ্রাম পর্বে।

একইভাবে ব্যর্থ হয়েছেন জাতীয় দলের দুই অপরিহার্য ক্রিকেটার সাব্বির ও নাসির। বরিশাল বুলসের হয়ে খেলা সাব্বির ৩ ম্যাচে ১২.০০ গড়ে করেছেন মাত্র ৩৬ রান, সর্বোচ্চ ১৫! জিম্বাবুইয়ের বিরুদ্ধে অবশ্য ৩৩ ও ৫৭ রানের দুটি ইনিংস খেলেছিলেন ওয়ানডেতে। তবে মারকুটে ব্যাটসম্যানের তকমা থাকলেও দুই টি২০ ম্যাচে করতে পেরেছিলেন ১ ও ১৮! ওই ব্যর্থতা এবার বিপিএলেও কাটাতে পারেননি তিনি। জাতীয় দলে ফেরার পর নিজের অবস্থান টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে তেমন সুবিধা করতে পারেননি অলরাউন্ডার নাসির। চলতি বিপিএলেও ব্যাট হাতে তেমন সুবিধা করতে পারছেন না ঢাকা ডায়নামাইটসের আইকন। ৪ ম্যাচে ১৮.৩৩ গড়ে ৫৫ রান করেছেন নাসির। তবে শেষ ম্যাচে ৩৩ রানের একটি ভাল ইনিংস উপহার দিয়েছেন।