২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

২১ অগাস্ট মামলায় আ. লীগ নেতা বাচ্চুর সাক্ষ্য

অনলাইন রিপোর্টার ॥ একুশ অগাস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আজিজুর রহমান বাচ্চু রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

বুধবার ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনের বিশেষ এজলাসে বসে ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন তার সাক্ষ্য নেন।

রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ বলেন, এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ২০০তম সাক্ষী হিসাবে বাচ্চু আদালতে সাক্ষ্য দেন। বিচারক আগামী ৭ ও ৮ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন রেখেছেন। আসামিপক্ষ ওই সময় সাক্ষী বাচ্চুকে জেরা করতে পারবে।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলে ২০০৪ সালের ২১ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার জনসভায় গ্রেনেড হামলা চালানো হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন তখনকার বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা। সমাবেশে একটি ট্রাককে মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বিকালে শেখ হাসিনা বক্তব্য শেষ করে নামার মুহূর্তে শুরু হয় গ্রেনেড হামলা। ১৩ থেকে ১৪টি গ্রেনেড সেদিন বিস্ফোরিত হয়েছিল বলে গোয়েন্দারা জানান।

হামলায় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন, আহত হন অনেকে। ওই হামলায় শেখ হাসিনার শ্রবণেন্দ্রীয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী আওয়ামী লীগ নেতা বাচ্চুও ঘটনার দিন সমাবেশে গিয়ে গ্রেনেড হামলায় গুরুতর আহত হন।

প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ধানমন্ডি সেন্ট্রাল হাসপাতাল এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের কলকাতার পিয়ারলেস হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি। তার শরীরে ৫০০টির মতো গ্রেনেডের স্প্লিন্টার ঢুকে যায়।

কয়েক দফা চিকিৎসার পর এখনও শরীরে ৩৭টি স্প্লিন্টার রয়েছে বলে আদালতকে জানান ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা বাচ্চু।

রাষ্ট্রপক্ষের এই সাক্ষী আদালতে গ্রেনেড হামলার ঘটনার বর্ণনা দেন।

এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ৪৯২ জনের সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে বলে আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ জানান।

এদিকে বুধবারের সাক্ষ্যগ্রহণের সময় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, হুজি নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ এ মামলায় কারাগারে থাকা আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়।

অন্যদিকে জামিনে থাকা আসামি খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক, সাবেক আইজিপি মো. আশরাফুল হুদা, শহিদুল হক ও খোদা বক্স চৌধুরী এবং মামলার তিন তদন্ত কর্মকর্তা সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সিআইডির সিনিয়র এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান, এএসপি আব্দুর রশীদ ও সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুল ইসলাম আদালতে হাজির হন।