২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

স্বপ্নভঙ্গের কথকতা

কামরুল হাসান

পৃথিবীর সব অঞ্চলেই কমবেশি জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটছে। জলবায়ুর এ পরিবর্তন প্রকৃতিগত নয়, বরং বেশির ভাগই মানবসৃষ্ট। প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাড়ছে। ফলে একদিকে যেমন হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটছে, তেমনি বাড়ছে সহায়-সম্বলহীন ভাসমান মানুষের সংখ্যা। জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকিপূর্ণ দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষে। এক সময় ভাসমান মানুষ বলতে বেদে সম্প্রদায়কে জানতাম, বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ভাসমান মানুষের সংখ্যা সেখানে থেমে নেই। নদী-হাওড় এলাকার ভাঙ্গনের ফলে এক একটি জনপদে মানুষদের এক-একটি স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার হচ্ছে। কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন, বাজিতপুর, নিকলী, ইটনা উপজেলার ৫০টি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সেখানকার দশ সহস্র্রাধিক পরিবার হয়েছে ভাসমান। রাজবাড়ী জেলার ৩টি উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ৩০টি গ্রাম পদ্মার ভাঙ্গনে হাজার হাজার পরিবার বাস্তুহারা। সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী উপজেলার থানা ভবন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও উপজেলা কার্যালয় নদীগর্ভে। যমুনা নদীর করাল গ্রাসে বসতভিটা, জমি-জমা হারিয়ে বড় বড় গৃহস্থ পরিণত হয়েছে দিনমজুরে। কুড়িগ্রাম জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত ষোল নদ-নদীর ভাঙ্গন ক্রমেই তীব্রতর হচ্ছে। ৭ লাখ মানুষ আশ্রয় নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধে। ভাসমান মানুষদের মধ্যে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নারী ও শিশুরা। চরাঞ্চলে যে নারীরা গৃহস্থালি কাজে সহায়তা করত, রক্ষণশীলতার কারণে তারা অন্য কাজে নিয়োজিত হতে পারছে না। শিকার হচ্ছে বিবাহ বিচ্ছেদের। ভাসমান মানুষ বেঁচে থাকার জন্য কাজের সন্ধানে ছুটছে অন্যত্র। গড়ে উঠছে বস্তি। ১৯৯৭ সালে ঢাকার বস্তির সংখ্যা ছিল ২৯৯১টি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১৪ এর জরিপ অনুযায়ী বস্তির সংখ্যা ১৩৯৯৪টি। এতে বসবাস করছে ২২ লাখ ৩২ হাজার ১৪৪ জন ভাসমান মানুষ। জলবায়ু পরিবর্তন, আবহাওয়া উষ্ক হওয়ায় সমুদ্রের উপরিভাগ ক্রমেই স্ফীত হয়ে উঠছে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ১৭ ভাগ ভূমি লোনা পানিতে তলিয়ে যাবে। নেমে আসবে এক বড় মানবিক বিপর্যয়। বেঁচে থাকার পথ হবে সঙ্কুচিত। প্রায় ৫ কোটি মানুষ হবে ভাসমান। এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন জরুরী।

কালিহাতী, টাঙ্গাইল থেকে