১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আবাসন মানবিক অধিকার

এসএ বিপ্লব

বিশ্বের দিকে তাকালে দেখতে পাই অন্ন-বস্ত্র সমস্যার সঙ্গে আজ ভয়াবহ আকার পরিগ্রহ করেছে আবাসন সমস্যা। এ বিংশ শতাব্দিতে হাজার হাজার মানুষ উন্মুক্ত আকাশের নিচে কিংবা ঝুপড়িতে বা বস্তি নামক নরককু-ে বাস করে। রাস্তার ধারে, ভাসমান অবস্থায় নদীতে, বাসস্ট্যান্ড ও রেললাইনের কথা তো বলাই বাহুল্য। আর এসব জায়গা থেকেই দুরারোগ্য ব্যাধি ও নানা সমাজবিরোধী কার্যকলাপ তাদের গ্রাস করে। অথচ সুস্থ ও নিরাপদ আশ্রয় তো সমাজবদ্ধ মানুষের প্রাথমিক প্রয়োজন। রবিঠাকুর বলেছিলেন : ‘বহুদিন মনে ছিল আশা/ধরণীর এক কোণে/রহিব আপন-মনে/ধন নয়, মান নয়, একটুকু বাসা/ করেছিনু আশা’। কিন্তু কবির এ কথা যেন আজ শুধু কল্পনায় রয়ে গেছে। কেননা ঝড়-বন্যা-ভূমিকম্প অগ্নোৎপাত, যুদ্ধ ও ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি কারণে মানুষ আজ ভাসমান অবস্থায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। এ ছাড়াও মানুষের লোভ-লালসা তাকে গৃহহারা করেছে। শক্তিমানের সময় তৃষ্ণার আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে তার স্বপ্নের বাসগৃহ, জাতি-বিদ্বেষ ও ধর্ম-বিদ্বেষ তার বাসগৃহ কেড়ে নিয়ে তাকে সাজিয়েছে বিশ্বপথের ভিক্ষুক। ভিক্ষুক মানেই হচ্ছে ‘ভাসমান ক্ষুধার্ত কাঙ্গাল।’ অথচ মনে প্রশ্ন জাগে সব থাকতেও কোন অপরাধে মানুষ আজ ভাসমান বা পথবাসী, কেন তারা গৃহহারা শরণার্থী? ইতিহাস এ বিষয়ে চিরকাল থেকেছে নিরুত্তর।

অথচ বিশ্বজোড়া নিরাশ্রয় মানবগোষ্ঠীকে মুক্ত আকাশের নিচে অসহায় দিনযাপনের গ্লানি থেকে মুক্তি দিয়ে তাদের গৃহ-স্বপ্নকে সফলতা দানের জন্য প্রথম ১৯৮৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর জাতিসংঘের মহাসচিব জেভিয়ায় পেরেজ দ্য কুয়েলার ১৯৮৭ সালকে ‘আন্তর্জাতিক আবাসন বর্ষ’ রূপে ঘোষণা করে বলেছিলেন : আবাসন হলো মানুষের মৌল অধিকার ও প্রয়োজন। সে জন্য বিশ্বের সকল সরকারের প্রতি তিনি সমাজের দুর্বলতম এবং ভাসমান মানুষকে অগ্রাধিকার দানের জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন। এই বর্ষ পালনের উদ্দেশ্য হলো : লাখ লাখ ভাসমান মানুষকে গৃহনির্মাণে এবং ভাগ্য নির্মাণে সাহায্য করা।

অন্য সব দেশের মতো বাংলাদেশেও বাসস্থান বা ভাসমান মানুষ- এ সমস্যা আজ বিরাট রূপ নিয়েছে। এ জন্যই অনেকে জরিপ করে বলেছেন : বিভিন্ন দিক থেকে বাংলাদেশ কঠিন সমস্যার মধ্যে থাকা একটি অন্যতম দেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মানুষ প্রতিনিয়ত হচ্ছে বাস্তুহীন, ভাসমান। জনসংখ্যার মারাত্মক চাপের ফলেও আজ ভাসমান মানুষ একটি বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবার বাংলাদেশের গ্রামের দুর্বলতম জনগোষ্ঠী, শহরের ফুটপাথ ও ঝুপড়িবাসীদের জীবনে দৈশিক উন্নয়ন বিশেষ প্রভাব রাখে না। তাছাড়াও আছে শহরের চিহ্নিত ও অচিহ্নিত বস্তিসমূহ।

জানি না ২০৫০ সালের মধ্যে ভাসমান মানুষসহ অন্যসব সঙ্কটের সমাধান কি সম্ভব হবে কিনা? এসব কিছু থেকে এখন আমাদের এমন অবস্থার কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন, যাতে ভাসমান মানুষ অন্তত মাথা গোঁজার ঠাঁই করে নিতে পারে। এক্ষেত্রে সরকারী খাত ও উন্নয়ন সহযোগীদেরও এগিয়ে আসতে হবে। কেননা প্রত্যেক দেশের সরকারের কাজ হচ্ছে মানুষের জানমাল ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা। আমাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাই গড়ে তুলতে পারে আজকের ভাসমান মানুষের নিরাপত্তায় ঝুঁকিহীন বাংলাদেশ।

নারায়ণগঞ্জ থেকে