২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাস্তুভিটা হারিয়ে...

মোঃ রফিকুল ইসলাম

স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মের ৪৫ বছরে দেশ অনুন্নত থেকে উন্নয়নশীল, উন্নয়নশীল থেকে আজ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হলেও সমস্ত মানুষের ভাগ্য সমান্তরালভাবে পরিবর্তিত হয়নি। বাংলাদেশের শহর-নগর-বন্দরে ক্রমবর্ধমান হারে ভাসমান বা ছিন্নমূল মানুষের উপস্থিতি তারই প্রমাণ। বাংলাদেশে নদী-ভাঙ্গন ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষ হারাচ্ছে তার বাস্তুভিটা, জীবিকার তাগিদে পাড়ি জমাচ্ছে নগরে-বন্দরে কিন্তু মিলছে না নতুন বাস্তুভিটা, বাধ্য হয়ে মানুষ বসবাস করছে রাস্তা-ঘাটে, ফুটপাথে, রেল স্টেশনে, বাস টার্মিনালে, বিপণীবিতানে, ফ্লাইওভারের নিচে, পরিত্যাক্ত ভবনে, পার্কে, মাঠে ও বস্তিতে; এরাই ভাসমান বা ছিন্নমূল মানুষ। একটি অসমাজতান্ত্রিক দেশে মানুষে মানুষে ধন-সম্পদে অসমতা থাকবে তা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু, বিবিধ কারণে মানুষ ছিন্নমূল হয়ে ভাসমান মানবতের জীবন-যাপন করবে তা অত্যন্ত অমানবিক । যেসমস্ত কারণে মানুষজন ছিন্নমূল ও ভাসমান, তা হলো- চরম দারিদ্র্য, বেকারত্ব, চড়া সুদের নিষ্পেষণ, প্রাকৃতিক দূর্যোগÑ বিশেষ করে নদী-ভাঙ্গন। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে, প্রতিবছর প্রায় ৬০ হাজার মানুষ উদ্বাস্তু হচ্ছে নদী-ভাঙ্গনের কারণে। যা একটি পরিবেশগত ও প্রাকৃতিক একটি সমস্যা। সাম্প্রতিককালে এর সাথে যোগ হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা। সারাবিশ্বে ক্রমবর্ধমান হারে কার্বণ ডাইঅক্সাইডের নিঃসরণ ও বনজ সম্পদ উজাড়ের ফলে জলবায়ুর উষ্ণতা বেড়েছে বিপজ্জনক হারে। এর প্রভাবে পর্বতশৃঙ্গ ও সমুদ্রপৃষ্ঠের বরফরাজি দ্রুত গলে বাড়িয়ে দিচ্ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির উচ্চতা। ফলে, তলিয়ে যাচ্ছে ও লবণাক্ত হচ্ছে উপকূলীয় এলাকার ফসলী জমি ও আবাসস্থল, ধংসপ্রাপ্ত হচ্ছে উপকূলীয় এলাকার কৃষি ব্যবস্থা ও অবকাঠামো। মানুষ হচ্ছে উদ্বাস্তু ভাসমান। তারা জানছেই না কাদের ভোগ-বিলাসিতায় আর কার্বণ নিঃসরণে তাদের কপাল পুড়েছে। এ পরিস্থিতির অন্যতম নিষ্ঠুর শিকার আজ বাংলাদেশ। ভাসমান মানুষের উল্লেখযোগ্য অংশ হচ্ছে জলবায়ু উদ্বাস্তু। দেশে এখন ভাসমান মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪৮ লাখ, বেসরকারী হিসাবে তা প্রায় ১ কোটি। শুধু ঢাকা শহরেই বস্তিবাসী মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩৫ লাখ এবং সম্পূর্ণ বাস্তুহীন ভাসমান মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ। ভাসমান এ মানুষজনের চরম দুর্দশা ও সৃষ্ট নাগরিক ও সামাজিক সমস্যা উপহাস করছে আমাদের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও নগরের চাকচিক্যকে। নেত্রকোণা থেকে

নির্বাচিত সংবাদ
এই মাত্রা পাওয়া