২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তিস্তার ভাঙ্গনে আমি ভাসমান

মোঃ সেলিম মিয়া

১৯৯৫ সালে আমার বসতভিটা তিস্তা নদীর করাল গ্রাসের শিকার হয়। এরপর আমি ভাসমান জীবন যাপনই করছি। এজীবন কতটা অসহায় তা ভাসমানেরাই জানে। আমার মতো অনেকেই বাধ্য হয়ে জীবন-জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন শহরে গিয়ে পরিত্যক্ত জায়গায় অথবা রেল লাইনের ধারে ঝুঁকিপূর্র্ণ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দিন যাপন করছে। এরা সামাজিক, রাজনৈতিক, শিক্ষা-চিকিৎসা, খাদ্য-বস্ত্র, বাসস্থানসহ সকল মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। এদের পুনর্বাসন করা রাষ্ট্র ও সমাজের কর্তব্য হলেও তা হচ্ছে না। নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যাওয়া জায়গাজমি পরবর্তীকালে চর আকারে জেগে উঠলে ভাসমানরা এলাকায় ফিরে আসলেও জমির সহজবোধ্য ও জালমুক্ত কাগপত্র না থাকায় সমস্যায় পড়েন। জমির পরিমাপ, মালিকানা ও চর দখল নিয়ে শুরু হয় অনিয়ম, অনাচার। এ যেন জোর যার মুল্লুক তার, লাঠি যার মাটি তার অবস্থা। চলতে থাকে দাঙ্গাহাঙ্গামা, খুনাখুনি ও মামলা মোকদ্দমা। ফলে প্রকৃত অনেক ভূমিমালিক অজ্ঞতা ও সীমাবদ্ধতার কারণে বঞ্চিত হয়ে আবারও প্রিয় এলাকা ছেড়ে চলে যায় ভাসমান তথা ছিন্নমূল জীবনে। তখন কাজের অভাবে বৃদ্ধি পায় অপরাধ প্রবণতা ।

বাংলাদেশ সরকার স্বাধীনতার পর থেকেই খাদ্য নিরাপত্তা গড়ে তোলার এবং ইদানীং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রতিনিয়ত এসকল বিষয়ে ভয়াবহ চিত্র ও বিবরণ প্রকাশ পাচ্ছে। কিন্তু সমাধান হচ্ছে না কিছুতেই। রাষ্ট্রিয় ও সামাজিকভাবে শুভশক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে ভূমিদস্যুদের প্রতিহত করে প্রকৃত জমির মালিকদেরকে জমি পাইয়ে দেয়া জরুরি। ভূমিদস্যুদের কবলে থাকা খাসজমিগুলো উদ্ধার করে এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তের খাসজমিগুলো উদ্বাস্তু, ভাসমান ও ভূমিহীনদেরকে বণ্টন করে আবাসনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়া জমির মালিকদের অনুদান ও সহজ কিস্তিতে আর্থিক সহায়তা দিয়ে দেশের উন্নয়নে উৎপাদক জনগোষ্ঠিতে পরিণত করা এবং স্থায়িত্বের জন্য ‘ল্যান্ড কার্ড’ প্রদানের মাধ্যমে তাদের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নসহ সার্বিক টেকসই সমাধান করা যেতে পারে। এবিষয়ে জাতীয় স্বার্থে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কার্যকর দৃষ্টি কামনা করছি।

সুন্দরগঞ্জ পৌরশহর,

গাইবান্ধা থেকে

নির্বাচিত সংবাদ
এই মাত্রা পাওয়া