১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দেখব এবার আকাশটাকে

রাজধানী ঢাকা মহানগরী সংলগ্ন পূর্বাচলে ১৩০ তলাবিশিষ্ট একটি আন্তর্জাতিক কনভেনশন ও এক্সিবিশন সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ স্বভাবতই ব্যাপক কৌতূহল ও আগ্রহ সৃষ্টি করছে জনমনে। বাংলাদেশ তো বটেই, সমগ্র উপমহাদেশেই এরূপ সুউচ্চ ভবন নির্মাণের প্রস্তাব এই প্রথম। সুবিশাল ও বহুমুখী এই স্থাপনা প্রকল্পে বিনিয়োগ করছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক কেপিসি ডেভেলপমেন্ট গ্রুপ। শুরুতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য বলা হয়েছিল চীনকে। তারা নাকি সম্মতও হয়েছিল। পরে কেপিসি গ্রুপের আগ্রহের বিষয়টি লক্ষ্য করে সবুজ সঙ্কেত দেয়া হয় প্রতিষ্ঠানটিকে। উল্লেখ্য, কেপিসি গ্রুপের স্বত্বাধিকারী জন্মসূত্রে বাংলাদেশী এবং সিলেটের অধিবাসী। বিশ্বব্যাংকের গত বার্ষিক অধিবেশনের সময় ওয়াশিংটনে অবস্থানকালে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী কেপিসি গ্রুপের চেয়ারম্যানের আগ্রহের বিষয়টি জানতে পারেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে প্রকল্প সংক্রান্ত একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা ২০১৭ সালে। ২০১৬ সালে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের প্রস্তাবিত (আইডিবি) বার্ষিক বৈঠক যাতে নতুন কনভেনশন সেন্টারে করা যায়, সেটা মাথায় রেখে সংশ্লিষ্টদের কাজ শুরু করার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

পূর্বাচলে ২৪৫ একর জমি আছে। প্রকল্পটির জন্য ৫৬ দশমিক ৩ একর জমি প্রয়োজন হলেও উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানকে জমি দেয়া হচ্ছে ৬০ একর। ইতোমধ্যে সয়েল টেস্টও সম্পন্ন হয়েছে। ১৩০ তলার কনভেনশন সেন্টারটিতে পাঁচ হাজার আসনের একটি গ্যালারি এবং ৫০০ আসনের দুটো গ্যালারি থাকবে। এর বাইরেও থাকবে একাধিক সেমিনার কক্ষ, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের জন্য ১০০টি দফতর, ক্যাফেটেরিয়া, রেস্তরাঁ, প্রদর্শনী সেন্টার ইত্যাদি। কাছাকাছি আরও থাকবে একাধিক হোটেল, শপিং প্লাজা, পার্ক, পার্কিং স্পেস ইত্যাদি। ২০১৭ সালের মধ্যে এত স্বল্প সময়ে এত বিশাল একটি কমপ্লেক্সের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা দুরূহ হলেও কেপিসি গ্রুপ জানিয়েছে, তারা পারবে।

অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং জনসংখ্যার ক্রমবর্ধমান চাপে রাজধানী ঢাকা ইতোমধ্যেই বসবাসের প্রায় অনুপযোগী হয়ে উঠেছে। অসহনীয় ও তীব্র যানজট, জনজট ও জলজট প্রায় নিত্যসঙ্গী ঢাকাবাসীর। এমতাবস্থায় দীর্ঘদিন থেকেই রাজধানী অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহলে। সরকারী পর্যায়েও এনিয়ে শুরু হয়েছে চিন্তাভাবনা। সবদিক বিবেচনা করে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে পূর্বাচলকে। ঢাকা থেকে প্রকল্প এলাকায় যেতে প্রবেশ পথ রয়েছে ১১টি। সুতরাং যানজট হওয়ার কথা নয়। পূর্বাচলে জমির পরিমাণ ২৪৫ একর। এখানে ছয়তলাবিশিষ্ট ৬ হাজার ২৮৩টি আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হবে, যাতে বসবাস করতে পারবে ১৫ লাখ মানুষ। এর বাইরেও থাকবে কিছু সুরম্য সুউচ্চ ভবন, আন্তর্জাতিকমানের হাসপাতাল, স্কুল, কলেজ, স্টেডিয়াম, সুইমিংপুল, গলফ মাঠ, বয়স্কদের আবাসন, হেলিপ্যাড, শপিংমল, সুপার মার্কেটসহ নানা সুযোগ-সুবিধা। সব রকম সুযোগ-সুবিধাসহ আধুনিক ও ডিজিটাল একটি উপশহর আর কি। পর্যায়ক্রমে সেখানে সচিবালয় সরিয়ে নেয়া হলে ঢাকার ওপর চাপ কমবে অনেকাংশে; কমবে ভোগান্তিও। এসবই এখন সময়ের দাবি।

সুউচ্চ ভবনের সাফল্য ও সার্থকতা এখানেই যে, অনেক ক্ষেত্রে তা একটি দেশকে পর্যন্ত চিহ্নিত করার জন্য যথেষ্ট বলে বিবেচিত হয়ে থাকে। যেমন, দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা, মক্কার মক্কা রয়্যাল কøক টাওয়ার হোটেল, নিউইয়র্ক সিটির ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার, তাইপেই ১০১,সাংহাই ওয়ার্ল্ড ফিনান্সিয়াল সেন্টার, হংকংয়ের ইন্টারন্যাশনাল কমার্স সেন্টার, কুয়ালালামপুরে পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার ইত্যাদি। ভাবতে বেশ ভাল লাগছে যে, পূর্বাচলে ১৩০ তলা কনভেনশন সেন্টারটি নির্মিত হলে রাজধানী ঢাকা তথা বাংলাদেশও বিশ্বসভায় একদিন পরিচিতি পাবে সুউচ্চ ভবনের ভিত্তিতে।