২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যুক্তরাষ্ট্র ইসলামিক স্টেটকে মদদ দিচ্ছে!

  • গভীর সন্দেহ ইরাকীদের

ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে চলমান লড়াইয়ে সামনের কাতারের ইরাকী সৈন্যদের মনে যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে গভীর সন্দেহবোধ বিদ্যমান। তারা বলছেন, তারা সবাই ভিডিওতে মার্কিন হেলিকপ্টার থেকে জঙ্গীদের কাছে অস্ত্র ফেলার দৃশ্য দেখেছেন। অনেকের দাবি, তাদের বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজন সেই সহযোগিতার অনুরূপ দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছেন।

সাধারণ মানুষও এরূপ ভিডিও দেখেছেন, একই কথা শুনেছেন। তারা একই ভাবে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরাক, বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য ও সম্ভবত এর তেলসম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা দেখানোর অন্য উদ্দেশ্যে ইসলামিক স্টেটকে (আইএস) মদদ যোগাচ্ছে। এ নিয়ে কোন সন্দেহ নেই, বলে মন্তব্য করেন মোস্তফা সাদি। তিনি জানান, তার বন্ধু মার্কিন হেলিকপ্টারগুলোকে আইএস অবস্থানগুলোর ওপর পানির বোতল ফেলতে দেখেছেন। তিনি একটি শিয়া মিলিশিয়া দলের অন্যতম কমান্ডার। এ দলটি ইরাকী সেনাবাহিনীর পাশে থেকে গত মাসে উত্তর ইরাকের বেইজির কাছে তেল শোধনাগার থেকে জঙ্গীদের হটিয়ে দিতে সাহায্য করেছিল।

তিনি বলেন, ইসলামিক স্টেট প্রায় শেষ হয়ে গেছে। তারা দুর্বল। যদি আমেরিকা তাদের মদদ দেয়া বন্ধ করে, তাহলে আমরা তাদের কয়েকদিনের মধ্যেই হারাতে পারি। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা বলেন, এ অভিযোগ এতই অবিশ্বাস্য যে, এর জবাব দেয়া নিষ্প্রয়োজন। বাগদাদভিত্তিক ওই সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল স্টিভ ওয়ারেন বলেন, একে হাস্যকর বললেও কম বলা হবে। স্পষ্টত পশ্চিমের কেউ-ই এটি বিশ্বাস করবে না। কিন্তু দুর্ভাগ্যের কথা, ইরাকের জনসাধারণের একাংশ এটি বিশ্বাস করে। প্যারিস ও অন্যত্র ইসলামিক স্টেটের হামলার প্রেক্ষিতে রণক্ষেত্রে দলটির বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেয়ায় আহ্বান জোরদার হচ্ছে। এ অবস্থায় ইরাকীদের মনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি এত সন্দেহবোধ থাকার মধ্যে ওবামা প্রশাসন চাইলেও ইরাকে আইএসবিরোধী লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারবেন কি-না, তা স্পষ্ট নয়।

প্রতিবেশী দেশ জর্দানভিত্তিক বিশ্লেষক কির্ক সোওয়েল বলেন, আমরা সন্ত্রাসীদের সমর্থন যোগাচ্ছি বলে যদি তারা মনে করে, তাহলে আমাদের কি প্রভাব থাকতে পারে? তিনি ইনসাইড ইরাকী পলিটিক্স নামে এক নিউজ লেটার বের করে থাকেন।

বিদেশী সৈন্যের প্রয়োজন নেই ॥ ইরাকী প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল-আবাদি ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিদেশী সৈন্যের প্রয়োজনীয়তা বাতিল করে দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে এক বিশেষ অভিযান বাহিনী মোতায়েন করছে, ওয়াশিংটনের মঙ্গলবার এ ঘোষণার পর আল-আবাদি তার প্রয়োজনীয়তা বাতিল করে দেন। দেশটিতে মার্কিন বিশেষ বাহিনী পাঠানো হলে তাদের ওপর হামলা চালানোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে শক্তিশালী শিয়া মুসলিম মিলিশিয়ারা। খবর চ্যানেল নিউজ এশিয়া অনলাইনের।