২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রবাসী আয়ে ধীরগতি

  • নবেম্বরে দেশে রেমিটেন্স এসেছে ১১৮ কোটি ২৯ লাখ ডলার

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ প্রবাসী আয়ে যেন ভাটা পড়েছে। ফলে চলতি অর্থবছরের প্রতি মাসেই আগের অর্থবছরের একই মাসের চেয়ে কম রেমিটেন্স পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা। সর্বশেষ নবেম্বর মাসে প্রবাসীরা যে পরিমাণ রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন তা গেল অর্থবছরের একই মাসের চেয়ে প্রায় ৪ শতাংশ কম। এছাড়া চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসের (জুলাই-নবেম্বর) হিসাবে প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক ধারায় নেমে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রবাসী আয়ের এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-নবেম্বর এই পাঁচ মাসে প্রবাসীরা দেশে রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন ৬১৬ কোটি ৯৬ লাখ ডলার, যা গেল অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৪ কোটি ২৪ লাখ ডলার বা দশমিক ৬৭ শতাংশ কম। গেল অর্থবছরের জুলাই-নবেম্বর পর্যন্ত দেশে রেমিটেন্স এসেছিল ৬২১ কোটি ২০ লাখ ডলার। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নবেম্বর মাসে প্রবাসীরা রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন ১১৩ কোটি ৭৫ লাখ ডলার, যা গেল অর্থবছরের একই মাসের চেয়ে ৪ কোটি ৫৪ লাখ ডলার বা ৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ কম। গেল অর্থবছরের নবেম্বর মাসে দেশে রেমিটেন্স আসে ১১৮ কোটি ২৯ লাখ ডলার। তবে চলতি অর্থবছরের অক্টোবর মাসের চেয়ে নবেম্বর মাসে রেমিটেন্স বেড়েছে ৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার বা ৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

প্রতি অর্থবছরই ঈদের আগের মাসগুলোতে প্রবাসীরা দেশে বেশি রেমিটেন্স পাঠান। কিন্তু এবার ঈদের আগের মাসগুলোতেও গেল অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে রেমিটেন্স কম আসতে দেখা গেছে। গেল অর্থবছরে ঈদ-উল-ফিতরের আগের মাস জুলাইতে ১৪৯ কোটি ২৪ লাখ ডলারের রেমিটেন্স আসে। কিন্তু এবার ঈদ-উল-ফিতরের আগের মাস জুলাইতে এসেছে ১৩৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার। তবে গেল অর্থবছরের ঈদ-উল-আযহার আগের মাসের চেয়ে না কমলেও একইহারে রেমিটেন্স আসে এবারের ঈদ-উল-আযহার আগের মাস সেপ্টেম্বরে। ঈদ-উল-ফিতর ও ঈদ-উল-আযহার পরবর্তী মাসগুলোতেও রেমিটেন্স প্রবাহে তেমন গতি আসেনি। প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের আগস্ট মাসে দেশে রেমিটেন্স আসে ১১৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার। গেল অর্থবছরের একই মাসে রেমিটেন্স এসেছিল ১১৭ কোটি ৪৩ লাখ ডলার। এছাড়া গেল অক্টোবর মাসে রেমিটেন্স এসেছে ১০৯ কোটি ৮৪ লাখ ডলার, যা গেল অর্থবছরের অক্টোবর মাসে ছিল ১০১ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

এদিকে নবেম্বর মাসে বেসরকারী ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিটেন্স এসেছে ৭৭ কোটি ৭২ লাখ ডলার। সরকারী আট ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৩৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার। আর বিদেশী নয় ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১ কোটি ৪২ লাখ ডলার। বরাবরের মতো নবেম্বরেও সবচেয়ে বেশি ২৫ কোটি ৪৬ লাখ ডলার রেমিটেন্স এসেছে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যানে আরও দেখা যায়, গেল অর্থবছরের পুরো সময়ে দেশে রেমিটেন্স আসে ১ হাজার ৫৩১ কোটি ৬৯ লাখ ডলার, যা ২০১৩-১৪ অর্থবছরের চেয়ে ১০৮ কোটি ৮৬ লাখ ডলার বা ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেশি। তবে দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় পর ২০১৩-১৪ অর্থবছরে প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক ধারায় নেমে গিয়েছিল। ওই অর্থবছরে প্রবাসী আয় কমেছিল ১ দশমিক ৬১ শতাংশ।