২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গোড়াই-সখীপুর সড়ক বেহাল ॥ যান চলাচলে ঝুঁকি

নিজস্ব সংবাদদাতা, টাঙ্গাইল, ২ ডিসেম্বর ॥ কার্পেটিং, ইট, বালু ও খোয়া উঠে গিয়ে খানাখন্দকে পরিণত হয়েছে টাঙ্গাইলের গোড়াই-সখীপুর সড়ক। কোথাও কোথাও বড় বড় গর্ত হয়ে ছোট ছোট পুকুরে পরিণত হয়েছে। বেহাল এই সড়ক দিয়ে যানবাহনগুলো অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। এ জন্য এই সড়কে যাতাযাতকারী যাত্রীদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এলাকাবাসী জানায়, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই থেকে সখীপুর পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এই সড়কটি টাঙ্গাইলের পাহাড়ী অঞ্চলের বাসিন্দাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক সড়ক। মির্জাপুর উপজেলা ছাড়াও সখীপুর, কালিহাতী, ঘাটাইল এবং মধুপুর উপজেলার পাহাড়ী অঞ্চলের বিশাল এলাকার জনগণ এবং মালামাল পরিবহনে ঢাকা ও টাঙ্গাইলের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র সড়ক এটি। এই আঞ্চলিক সড়কটি দিয়ে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় কয়েক হাজার ছোট-বড় যানবাহন চলাচল করছে বলে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রটি আরও জানান, বিপুল যানবাহন চলাচল এবং বৃষ্টির কারণে ইট, বালু, খোয়া ও বিটুমিন উঠে গিয়ে খানাখন্দকে পরিণত হয়েছে। কোথাও কোথাও বড় বড় গর্তেও সৃষ্টি হয়ে পুকুরে পরিণত হয়েছে। ফলে বিপুল যানবাহন অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে বলে জানা গেছে। এই সড়কে চলাচলকারী সিএনজিচালক আজিজুল ইসলাম, বাসচালক আব্দুল আলীম, ট্রাকচালক রাজ্জাক মিয়াসহ অনেকেই জানান, গোড়াই থেকে সখীপুর পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার রাস্তা যেতে যেখানে বড়জোড় ৪০/৪৫ মিনিট সময় লাগার কথা, সেখানে সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে বর্তমানে সময় লাগছে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা। তারা আরও জানান, রাস্তার এই বেহাল অবস্থার কারণে তাদের যানবাহনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বিকল হয়ে পড়ে। তাছাড়া যে কোন সময় এই সড়কে বড় ধরনের দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন।

এই সড়ক দিয়ে নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রী মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক বিএসসি, লাল মিয়া, হালিম সিকদার জানান, সড়কটির দুরাস্থার কারণে যাত্রীদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে পাহাড়ী অঞ্চলের বেগুন চাষীরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। ঢাকা থেকে পাইকার না আসায় তারা কম দামে বেগুন বিক্রি করছেন বলে কৃষকরা জানান। তারা দ্রুত রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের মির্জাপুরের সহকারী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম খান জানান, ভারি যানবাহন চলাচল বেড়ে যাওয়ায় সড়কটির এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া গোড়াই এলাকায় মিল কারখানাগুলোর পানি সড়কে জমে থাকায় কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। এছাড়া ২৭ কিলোমিটার সড়কটি সংস্কারের জন্য ১১ কোটি ২৬ লাখ টাকার একটি প্রকল্প তৈরি করে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। স্থানীয় এমপি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি একাব্বর হোসেন টাকা যাতে দ্রুত বরাদ্দ হয় সেজন্য চেষ্টা করছেন বলেও তিনি জানিয়েছেন।