২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তামিলনাড়ুতে ভয়াবহ বন্যায় ২শ’ লোকের প্রাণহানি

তামিলনাড়ুতে ভয়াবহ বন্যায় ২শ’ লোকের প্রাণহানি
  • এক শ’ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ লাগাতার বৃষ্টিতে ভারতের তামিলনাড়ুর জনজীবন থমকে গেছে। গত ১০০ বছরের মধ্যে সর্বাধিক বৃষ্টিতে রাজ্যের প্রধান শহর চেন্নাইসহ অন্যান্য জায়গায় দেখা দিয়েছে ভয়াবহ বন্যা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ২ শতাধিক লোক প্রাণ হারিয়েছে। খবর এনডিটিভি, এএফপি, বিবিসি ও দ্য হিন্দু অনলাইনের।

আগামী আরও কয়েক দিন ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে। বন্যায় বিদ্যুতবিহীন হয়ে পড়েছে চেন্নাইয়ের ৬০ শতাংশ এলাকা। এসব এলাকার কিছু অংশ গত এক সপ্তাহ ধরে বিদু্যুতবিহীন রয়েছে। চেন্নাইয়ের অধিকাংশ রাস্তাঘাট ও ঘরবাড়ি ডুবে গেছে। বন্যার পানি চেন্নাইয়ের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতেও প্রবেশ করেছে। বাতিল করা হয়েছে বহু ফ্লাইট। ফলে বিমানবন্দরে বহু যাত্রী আটকা পড়েছে। বিমানের পাশাপাশি বহু ট্রেন সিডিউলও বাতিল করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিস, ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসকিউ ফোর্স, পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়ের করা হয়েছে। বিমানবাহিনীর পাশাপাশি উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছে দশ হাজার ডুবুরি। কেন্দ্রের সিনিয়র মন্ত্রীদের সঙ্গে জরুরী বৈঠক করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। লোকসভা বৈঠকেও বুধবার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা ভয়াবহ এ পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করছেন। বিমানবন্দরের পরিচালক দীপক শাস্ত্রি জানিয়েছেন, পানি না নামা পর্যন্ত বিমান ওঠা-নামা বন্ধ থাকবে।

চেন্নাইয়ে চিকিৎসা করাতে যাওয়া অন্যান্য দেশের বহু রোগী পড়েছে চরম বিপাকে। তাদের সাহায্যে হেল্প লাইন চালু করেছে রাজ্য সরকার। বৃষ্টি শুরুর পর থেকে চেন্নাইয়ের স্কুল-কলেজ বন্ধ রয়েছে। আটকে পড়া লোকজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে সহায়তা চাইছেন। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে সব রকম সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর এক টুইটার বার্তায় মোদি বলেন, জয়ললিতার সঙ্গে তামিলনাড়ুর বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছি। এ দুঃখজনক সময়ে তাকে সব ধরনের সমর্থন ও সহযোগিতার নিশ্চয়তা দিয়েছি।

ভয়াবহ এই মুহূর্তে একে অপরের পাশে দাঁড়িয়েছে চেন্নাইবাসী। শহরের বাসিন্দারা অপরিচিত লোকদের জন্য বাড়ির দরজা খুলে দিচ্ছে। নিজেদের খাবার, আশ্রয় এমনকি মোবাইল রিচার্জও একে অপরের সঙ্গে ভাগাভাগি করছে। দক্ষিণ চেন্নাইয়ের এক শপিংমল কর্তৃপক্ষ বন্যায় আটকে পড়াদের সাহায্য করতে রাতেও দোকান খোলা রাখার ঘোষণা দিয়েছে। চেন্নাইয়ের পুলিশ কর্মকর্তা রমনা গোদা বলেছেন, আমরা জনগণকে সহায়তা করতে চাচ্ছি। কিন্তু আমাদের কাছে প্রয়োজনীয় উদ্ধার বোট নেই। তবে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা সতর্ক রয়েছি। গত নবেম্বর থেকে চেন্নাইয়ে মোট ১০৪৯ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে ভারতের আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে।