২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নানা কর্মসূচীতে পার্বত্য শান্তি চুক্তির বর্ষপূর্তি পালন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পার্বত্য শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের ১৮তম বর্ষপূর্তির দিন বুধবার রাজধানীতে নানা কর্মসূচী পালিত হয়েছে। জাতীয় নাগরিক উদ্যোগ আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা রোডম্যাপ অনুযায়ী চুক্তি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। আর চুক্তি বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে সমঅধিকার আন্দোলন।

বুধবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের সেমিনার কক্ষে আয়োজিত পার্বত্য শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের ১৮তম বর্ষপূর্তির আলোচনা সভার আয়োজন করে জাতীয় নাগরিক উদ্যোগ। কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য, জনসংহতি সমিতির সহসভাপতি ঊষাতন তালুকদার এমপি, সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, শিক্ষাবিদ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, নাট্যকার মামুনুর রশীদ, সাংবাদিক মোজাম্মেল হোসেন, ঢাবি শিক্ষক মেজবাহ কামাল, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, ঢাবির সহযোগী অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, আইইডির নির্বাহী পরিচালক নুমান আহমেদ খান, মানবাধিকারকর্মী এ্যাডভোকেট নীলুফার বানু প্রমুখ।

সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, যখন কোন সরকার চুক্তি করে তা বাস্তবায়ন করাও সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। সরকার যেন তার নৈতিক দায়িত্ব থেকে সরে না আসে। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দই চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। তাই রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের দায়িত্ব হচ্ছে চুক্তি বাস্তবায়ন করা।

ঊষাতন তালুকদার এমপি বলেন, ১৮ বছর অতিবাহিত হলেও চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো সরকার বাস্তবায়ন করেনি। পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি কমিশন সংশোধন আইন সংসদে পাস করার কথা থাকলেও বিগত অধিবেশনে তা করা হয়নি। চুক্তি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া মূলত অকার্যকর অবস্থায় রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে সরকারের পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ অবিলম্বে প্রণয়ন করে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করতে হবে।

পার্বত্য কালো চুক্তি বাতিল করতে হবে ॥ সমঅধিকার আন্দোলন ॥ ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাসের সামনে পার্বত্য কালো চুক্তি বাতিল ও ৯ দফা দাবিতে বুধবার মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলন। এতে সভাপতিত্ব করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মনির। প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি এবং বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতা আবু নাছের মোঃ রহমত উল্লাহ। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সুপ্রীমকোর্টের আইনজীবী এ্যাডভোকেট মোঃ আলম খান, সমঅধিকার নারী নেত্রী রোজিনা বেগম, সমঅধিকার ছাত্র আন্দোলন নেতা লোকমান হোসেন ও সমঅধিকার যুব আন্দোলন নেতা এম. সালাউদ্দিন।

আবু নাছের মোঃ রহমত উল্লাহ বলেন, তথাকথিত শান্তিচুক্তির নামে সন্তু লারমাকে পাহাড়ের যাবতীয় ক্ষমতা ছেড়ে দেয়ার চক্রান্ত চলছে। চুক্তি বাতিল করতে হবে। এ্যাডভোকেট আলম খান বলেন, একটি অসম চুক্তির মাধ্যমে পাহাড়ের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী বাঙালীদের সকল জাতীয় মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। সরকার এসব বন্ধ না করলে পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে বলে এ্যাডভোকেট আলম খান আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

মনিরুজ্জামান মনির বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার আছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে কথা বলার। এ সমস্যা শুধু পার্বত্যবাসী বাঙালীদের নয়, এটি একটি জাতীয় সমস্যা। জাতীয়ভাবেই এই পার্বত্য কালো চুক্তি বাতিলের দাবিকে বাস্তবায়ন করতে হবে।