২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চিটাগাং ভাইকিংসের বিলম্বিত ভেল্কি সিলেটের হার ১০ উইকেটে

স্পোর্টস রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে ॥ তিলকারতেœ দিলশানের বিখ্যাত শটটি দেখতে অধীর অপেক্ষায় থাকে ক্রিকেটপ্রেমীরা। সেই ‘দিলস্কুপ’ শটটি অবশেষে ছয় ম্যাচ পরে গিয়ে খেললেন চিটাগাং ভাইকিংসের দিলশান। সিলেট সুপার স্টারসের রুবেল হোসেনের করা ষষ্ঠ ওভারের শেষ বলে গিয়ে স্কুল মেরে উইকেটরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকালেন। যে শটটি ‘দিলস্কুপ’ নামেই পরিচিতি পেয়ে গেছে। এ শটটি যেন চিটাগাংয়ের বদলে যাওয়ার চিত্রই ফুটিয়ে তুলল। হঠাৎই আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠলেন চিটাগাংয়ের সব ক্রিকেটার! সেই আত্মবিশ্বাস দলটিকে অবশেষে এ আসরের সবচেয়ে বড়, ১০ উইকেটের জয়ও এনে দিল। যা বিপিএলেরই দ্বিতীয় বড় জয়। টানা চার ম্যাচ পর জয়ের মুখও দেখল চিটাগাং। তামিম ইকবাল (৬৭*) ও দিলশান (৬৭*) মিলেই ১৪০ রানের জুটি গড়ে ম্যাচ জিতিয়ে দিলেন। চিটাগাংয়ের যেন আনন্দের সময় চলে আসল। সেই আনন্দের ভিড়ে সিলেটের হয়ে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে যে ঝড় তুললেন শহীদ আফ্রিদি, তা নিয়ে কারও ভাবনাই থাকল না।

কোন্ দলটির বিপক্ষে জিতল চিটাগাং? প্রতিপক্ষ দলটি সিলেট সুপার স্টারস। যে দলটির বিপক্ষে তামিম ইকবালের আলাদা ‘রাগ-ক্ষোভ’ রয়েছে। এই দলটির মালিকই তো তামিমকে প্রথম লেগের ম্যাচে মিরপুরে ‘গালাগালি’ করেছিলেন। তামিম সেই দাবি নিজেই করেছিলেন। সেই গালাগালির জেরে এতটাই ক্ষোভ ছিল তামিমের যে ঢাকায় শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে মাত্র ১ রানে জিতে মহা আনন্দ করেছেন তামিম। ফিরতি লেগে এসেও জয় হলো চিটাগাং ভাইকিংসের অধিনায়ক তামিমেরই। এবার হেসেখেলেই সিলেটকে হারাল চিটাগাং। শহীদ আফ্রিদির ৬২ রানে যে সিলেট ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৩৯ রান করেছে, তা কোন উইকেট না হারিয়ে ১৬.১ ওভারেই উঠিয়ে ফেললেন তামিম ও দিলশান।

তামিম চট্টগ্রামের ছেলে। সেই চট্টগ্রামেই হচ্ছে খেলা। বুধবার দিনের দ্বিতীয় ম্যাচটি আবার হয়েছে তামিমের ‘দুশমন’ দল সিলেটের বিপক্ষে। তাই তামিমরা আউট চাইলে, সেই আউট আম্পায়াররা না দিলেও দর্শক চিৎকার করেছে। আবার সিলেটের কেউ আউট হলে বাধভাঙা উল্লাস হয়েছে। সেই উল্লাসের তোপে সিলেট ক্রিকেটাররাও কিছুটা বিব্রত বোধ করা স্বাভাবিকই। তা হয়েছেন কিনা, তা বলা মুশফিল। তবে মাঠের খেলায় কিন্তু সিলেটের ‘যাচ্ছেতাই’ অবস্থাই হয়েছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ খেলে দলের সঙ্গে যোগ দিয়ে মাঠে নামেন পাকিস্তান অলরাউন্ডার শহীদ আফ্রিদি। শুরুতেই মাঠ মাতিয়ে দেন। দলের ৭১ রানের সময় ব্যক্তিগত ২৫ রানে আফ্রিদির ক্যাচটি যে ধরতে পারলেন না তাসকিন আহমেদ, এরপর সুযোগটি পেয়ে স্বদেশী মোহাম্মদ আমিরের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ৪১ বলে ৫ চার ও ৪ ছক্কায় ৬২ রানই করে ফেলেন ‘বুমবুম’ আফ্রিদি। তার ইনিংসটি না হলে ১০০ রানের মধ্যেই হয়ত বেঁধে যেত সিলেট। ৪৬ রানেই যে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে দলটি। ৬৩ রানে ৬ উইকেট পড়ার পর আফ্রিদি-সোহেল তানভির মিলে দলকে ১২৩ রানে নিয়ে যান। দুই পাকিস্তানী খেলতে নেমেই ঝলক দেখান। শেষে দল ১৪০ রান থেকে ১ রান কম করে।

এ রান খুব বেশি নয়। তাই বলে এমন বদলে যাওয়া চিটাগাংকেই মিলবে! কোনভাবেই আগের চিটাগাং দলের সঙ্গে বুধবারের চিটাগাংকে মেলানো যাচ্ছে না। সিলেটের করা রানকে অতিক্রম করতে গিয়ে এমনভাবে হেসেখেলে ব্যাট করলেন তামিম ও দিলশান, সিলেটকে বিন্দুমাত্র ম্যাচে ফেরার কোন সুযোগই দিলেন না।

সিলেটের ইনিংসে যেমন চিটাগাংয়ের ইনিংসেও দর্শকরা সিলেটের বিপক্ষে চিৎকার করে গেছেন। নিজ দল চিটাগাংকে সমর্থন দিয়েছেন। সেই সঙ্গে তামিম ও দিলশান বাউন্ডারি মারলে হাততালি দেয়ার সঙ্গে সিলেটকে দুয়োধ্বনি শুনিয়েছেন। আউটের কোন দাবি তুললেও একই অবস্থা হয়েছে। তা শুনতে হয়েছে সিলেট ক্রিকেটারদেরই। তামিমের সঙ্গে যে গোলমাল বাধিয়ে রেখেছেন সিলেটের ফ্র্যাঞ্চাইজি।

সিলেটের অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম এবারও হাসতে পারলেন না। শেষ হাসি হাসলেন তামিমই। তাতে করে বিপিএলের তৃতীয় আসরে লীগ পর্ব অতিক্রম করার সুযোগ চিটাগাংয়ের থেকে গেল। ৭ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট পেল চিটাগাং। সেই তুলনায় ৬ ম্যাচে মাত্র ১ জয়ে ২ পয়েন্ট পেয়ে পয়েন্ট তালিকার তলানীতে চলে গেল সিলেট। তবে এখনও সিলেটেরও পরের পর্বে ওঠার সুযোগ রয়েছে।

টানা চার ম্যাচ হারের পর অবশেষে জয় পেল চিটাগাং। চট্টগ্রামে ঘরের মাঠে টানা ২ ম্যাচ হারের পর জয়ের মুখ দেখল তামিমের দল। এমন এক দলের বিপক্ষে জয় মিলল, যেটিকে এখন তামিমের ‘দুশমন’ দলই বলা হচ্ছে। বিপিএলের তৃতীয় আসরে দুবারই সিলেটকে হারাল চিটাগাং। এবার হেসেখেলেই জয় তুলে নিল।

স্কোর ॥

সিলেট সুপার স্টারস ১৩৯/৯; ২০ ওভার (মুনাভিরা ৪, নুরুল ৬, বোপারা ১১, মুশফিক ০, মুমিনুল ৯, আফ্রিদি ৬২, মিলন ৭, সোহেল ১৭, রাজ্জাক ১০*, শহীদ ৪; শফিউল ২/৩৭)।

চিটাগাং ভাইকিংস ১৪০/০; ১৬.১ ওভার (তামিম ৬৭*, দিলশান ৬৭*)।

ফল ॥ চিটাগাং ভাইকিংস ১০ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচ সেরা ॥ তিলকারতেœ দিলশান (চিটাগাং ভাইকিংস)।