২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শীতে বিলাসী আহারের সঙ্গী, চাঙ্গা হচ্ছে অর্থনীতি

শীতে বিলাসী আহারের সঙ্গী, চাঙ্গা হচ্ছে অর্থনীতি
  • খেজুর গুড়

মামুন-অর-রশিদ ॥ শীতকালে গ্রামীণ জনপদের প্রায় প্রতিটি ঘরেই সকালের নাস্তায় মুড়ি আর খেজুরের গুড় না হলে দিনের শুরুটা যেন ঠিক মানানসই হয় না। কুয়াশাঢাকা সকালে চাদরমুড়ি দিয়ে এমন আহার হয় প্রায় প্রতিটি ঘরে ঘরে। শীত এলে খেজুরের গুড়ের কদর বেড়ে যায়। শীতের পিঠা-পায়েস থেকে শুরু করে সব বিলাসী খাবারেই এ সময় প্রধান আকর্ষণ খেজুরের গুড়। খেজুরের সুস্বাদু মিষ্টি গুড় না হলে শীতকাল যেন জমে ওঠে না। খেজুরের টাটকা গুড়ের নাম এলেই আসে রাজশাহীর নাম। ঐতিহ্যবাহী এ জেলার দুর্গাপুর, আড়ানী ও পুঠিয়া খেজুর গুড়ের জন্য প্রসিদ্ধ। এসব উপজেলার গ্রামগুলোতে ইতোমধ্যে খেজুর গুড় ও রস সংগ্রহের উৎসব শুরু হয়ে গেছে। জেলার বাঘা, পুঠিয়া ও চারঘাটে প্রধান অর্থকরী ফসল আমের পরই খেজুরগুড়ের অবস্থান। এখানের গুড়ের সুনাম ও চাহিদা রয়েছে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে। চলতি শীত মৌসুমেও গুড় উৎপাদন শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বাঘা, বানেশ^র ও আড়ানীতে এখন গড়ে উঠেছে খেজুরের গুড়ের আড়ত। ঘরে ঘরে গুড় তৈরি করে সেসব গুড় নিয়ে আসা হয় স্থানীয় আড়তে আর হাটবাজারে। বিভিন্ন জেলার পাইকাররাও আসতে শুরু করেছেন এসব এলাকায়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, এবার প্রায় ১০ কোটি টাকার খেজুরগুড় বিক্রির টার্গেট নিয়ে গুড় উৎপাদন শুরু করা হয়েছে। গুড়ের বাণিজ্যিক উৎপাদনকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, বাঘায় খেজুরের গুড়ের যেভাবে বাণিজ্যিক উৎপাদন বাড়ছে, তা এ অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিরাট ভূমিকা পালন করছে। বাঘা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের দেয়া তথ্য মতে, এ উপজেলার প্রায় ৩০ হাজার পরিবার খেজুরগুড়ের ওপর নির্ভরশীল। এ অঞ্চলে প্রায় ৩ হাজার খেজুর বাগান রয়েছে। এছাড়া সড়কপথ ও রেললাইনের পাশের জমি, পতিত জমি, জমির আইল ও বাড়ির আঙিনায় মিলে রয়েছে আরও লক্ষাধিক খেজুর গাছ। স্থানীয়রা জানান, একজন গাছি প্রতিদিন অর্ধশতাধিক খেজুর গাছের রস সংগ্রহ করতে পারেন। চলতি শীত মৌসুমে পাঁচ হাজারেরও বেশি গাছি খেজুরের রস সংগ্রহ করতে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন। একজন গাছি এক মৌসুমে একটি গাছ থেকে ২০-২৫ কেজি গুড় পেয়ে থাকেন। উপজেলার আমোদপুর গ্রামের কৃষক সইমুদ্দিন জানান, তার প্রায় দেড় শতাধিক খেজুর গাছ রয়েছে। এ গাছগুলো থেকে রস সংগ্রহের জন্য তিনি দু’জন গাছি নিয়োগ করেছেন। তারা গাছ থেকে নিয়মিত রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরি করছেন। তিনি সপ্তাহে দুই দিন বাঘার হাটে ব্যবসায়ীদের কাছে গুড় বিক্রি করে প্রায় তিন হাজার টাকা আয় করছেন বলে জানান।

এদিকে নানা রকম সমস্যা ও প্রতিকূলতার মাঝেও খেজুর গুড় শিল্প দেশের অর্থনৈতিক এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এক নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করেছে। শুধু রাজশাহীর বাঘা, আড়ানী ও পুঠিয়াতেই খেজুরের রস আর গুড় তৈরির সঙ্গে কাজ করে অন্তত ২০ হাজারের বেশি মানুষ তাদের জীবিকা নির্বাহ করছেন।