২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অরক্ষিত চাঁপাই সীমান্ত ॥ নির্বাচন সামনে রেখে অবাধে আসছে অস্ত্র বিস্ফোরক

  • ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে মিলেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য ॥ জাল টাকা ও মাদকে সয়লাব

ডি. এম তালেবুন নবী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ॥ মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মাসের শেষ দিন পৃথক দুটি অভিযানে পাঁচটি জার্মানি পিস্তল, ৩৪ রাউন্ড গুলি, দশটি ম্যাগাজিনসহ ৪ জনকে আটক করে আইন প্রয়োগকারীরা। একটি শিবগঞ্জের কাঁঠালপাড়া ও অপরটি ঢাকাগামী নাইট কোচ আরপি থেকে। আটককৃত অস্ত্র ব্যবসায়ী কামালের বাড়ি রঘুনাথপুর গ্রামে ও অপর তিনজন রুবেল (২২), জনি (২৮) ও কুষ্টিয়ার শামীম। এদের দুজন শিবগঞ্জের। দুটি অভিযান ছিল সন্ত্রাসের জনপদ শিবগঞ্জে। বড় ধরনের ৬টি চালান ডিসেম্বরে আসবে। থেমে নেই অস্ত্রের অনুপ্রবেশ। কোনভাবেই অস্ত্রের চোরাচালান ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না। প্রতিদিন অবাধে এসব ভারতীয় অস্ত্র, বিস্ফোরক, মাদক সমানে প্রবেশ করছে বাংলাদেশে। নতুনভাবে যোগ হয়েছে ভারতীয় জালনোট। অবৈধ পণ্যের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্ত রক্ষীবাহিনী (বিজিবি) চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার পরও রুখে দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। অনেক আগে থেকেই মাদক, অস্ত্র ও বিস্ফোরকের চালান এলেও হঠাৎ করে নবেম্বর থেকে তা বৃদ্ধি পেয়েছে দারুণভাবে। অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার মিশনে যোগ হয়েছে সামনের পৌর নির্বাচন। একই সঙ্গে তাদের লক্ষ্য রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। মজুদ হচ্ছে অস্ত্র, বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন ধরনের মারণাস্ত্র গোলাবারুদ মজুদ হচ্ছে। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র হতে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, শুধু নবেম্বর মাসেই অস্ত্র ও বিস্ফোরকের ৩১ বড় ধরনের চালান চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত পথে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। তার মধ্যে ছিটেফোঁটা কিছু অস্ত্র উদ্ধার করেছে বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশ। তবে অধিকাংশ চালান খুবই নির্বিঘেœ পৌঁছে গেছে অভ্যন্তর নির্দিষ্ট স্থানে। গত ১৪ নবেম্বর শনিবার গোমস্তাপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে ৩ অস্ত্র ব্যবসায়ীকে র‌্যাব আটক করলে তাদের কাছে পাওয়া যায় সাত রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগাজিনসহ একটি পিস্তল। আটক অস্ত্র ব্যবসায়ীরা হচ্ছেÑ গোমস্তাপুর উপজেলার কাঁঠালপাড়ার আল মামুন ও শিবগঞ্জের মনাকষা ইউনিয়নের হাঙ্গামী গ্রামের সাগর আলী (২১) এবং একই গ্রামের সাদ্দাম হোসেন। এরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে স্বীকার করেছে, তারা গত দুই বছর ধরে অস্ত্র বহন করে গন্তব্যে পৌঁছে দিচ্ছে। উল্লেখ্য যে, পাশাপাশি দুই সীমান্ত ইউনিয়ন মনাকষা ও বিনোদপুরের প্রায় ২১ মহল্লার অধিকাংশ গরিব যুবক অস্ত্র বহন করে থাকে অবৈস্ত্র অস্ত্র ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের ইশারায়। এদের সংখ্যা হবে সহস্রাধিক। একইভাবে বিজিবি শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের তেলকুপি সীমান্ত হতে ছোট আকারের একটি অবৈধ অস্ত্রের পরিত্যাক্ত চালান আটক করে। বিজিবি টহল দেয়ার সময় তেলকুপি মাঠ হতে চারটি বিদেশী পিস্তল, ৮ ম্যাগাজিন ও ২৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। বিজিবি ২৫ নবেম্বর বুধবার দুপুরের দিকে টহল অবস্থায় অস্ত্রের চালানটি উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও কোন চোরাকারবারিকে ধরতে পারেনি। অপর একটি বড় চালান ধরা পড়েছে নাটোরে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ছেড়ে যাওয়া ঢাকামুখী সাথী পরিবহন থেকে গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুটি পিস্তুল, ১২ রাউন্ড গুলি ও চারটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করে। একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের অর্ডারে এসব অস্ত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। আকটকৃতরা হলো- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার তেররশিয়ার মৃত বেলাল হোসেনের ছেলে আব্দুল লতিফ ও একই উপজেলার আয়নাল আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর আলম। জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে ইতোপূর্বে তারা একাধিকবার বহু অস্ত্র ঢাকায় নিয়ে গেছে। এরা ২৪ নবেম্বর মঙ্গলবার গভীর রাতে নাটোরে আটক হওয়ার পূর্বে বেশ কয়েকটি ঢাকামুখী বাসে বহু অস্ত্র ও বিস্ফোরক নির্বিঘেœ ঢাকা চলে যায় বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। এসব অস্ত্র বহনকালে বেশ কয়েকজন বড়মাপের অস্ত্র ব্যবসায়ী যাত্রীবেশে বাসে ছিল। প্রায় একই সময়ে নবেম্বরের শেষ সপ্তাহে অস্ত্রের প্রায় ১১ চালান নির্বিঘেœ সীমান্ত অতিক্রম করে চলে গেলেও অস্ত্র ব্যবসায়ীদের আইন প্রয়োগকারীরা ধরতে পারেনি। তবে অস্ত্র বহনকারী একটি বড় দলের মাত্র চারজনকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী দেখিয়ে আটক করে। তারা সীমান্তের মেন পিলার ১৯৫ থেকে প্রায় ২০ গজ দূরে অবস্থান করছিল। তাদের ভাষ্যমতে, তারা ভারতে গরু আনতে যাচ্ছিল বলে জানিয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এরা অবৈধ অস্ত্র প্রবেশে সহযোগিতা দিতে সীমান্তে অবস্থান করছিল। এরা হচ্ছেÑ চাঁনশিকারী গ্রামের শাহজাহানের ছেলে মতিউর রহমান (২৬), একই গ্রামের মোজাফ্ফর আলীর ছেলে শাহজাহান (২৫), নামো হোসেন ভিটা গ্রামের মফিজের ছেলে রেজাউল করিম (২২) ও ফুটানীবাজারের মৃত আসলামের ছেলে মোক্তার আলী (৩৫)। এই মোক্তার ধরা পড়ার পরেও রহস্যজনকভাবে ছুটে পালিয়ে যায়। ঘটনাটি ভোলাহাট সীমান্তের। এখানে উল্লেখ্য যে, জেলার ভোলাহাট, গোমস্তাপুর সীমান্ত এলাকা বেশ কিছু আগেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিজিবি থেকে বিচ্ছিন্ন করে নওগাঁ বিজিবির অধীনে নিয়ে গেছে। এলাকা দুটি নওগাঁ থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে উর্ধতনরা। ফলে এই দুটি অঞ্চল দিয়ে অস্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ ভারতীয় পণ্যের অনুপ্রবেশ বেড়ে গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আগের মতো এলাকা দুটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনে আনলে হয়তবা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। গত ২৭ নবেম্বর বৃহস্পতিবার দিনের বেলা ১২ রাউন্ড গুলি, চারটি ম্যাগাজিনসহ দুটি বিদেশী পিস্তল শিবগঞ্জের বিলালপুর মাদ্রাসার মোড় থেকে র‌্যাব উদ্ধার করে। এ সময় আটক করে টুটুল নামের এক যুবককে। সে ভোলামারীর নবেদ আলীর ছেলে। তার আগে ২টি ম্যাগাজিন, পাঁচ রাউন্ড গুলিসহ একটি পিস্তল বেচাকেনার সময় র‌্যাব একজনকে আটক করে। আকট যুবক রুবেল সদর উপজেলার চামাগ্রাম এসে অস্ত্র বিক্রির চেষ্টা করছিল। তার বাড়ি শিবগঞ্জের ছোট চকগ্রামে। বাবার নাম আব্দুস সালাম। সর্বশেষ শিবগঞ্জ উপজেলার মোবারকপুর গ্রামের আনসারুল ইসলামকে (৪০) পুলিশ অস্ত্র ও গুলিসহ আটক করেছে। ২৮ নবেম্বর শনিবার বিকেলে বাড়ি তল্লাশি করে একটি পিস্তল, ২টি ম্যাগাজিন ও ৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। আটক আনসারুলের বিরুদ্ধে নাশকতাসহ শিবগঞ্জ থানায় ১০ মামলা রয়েছে বলে জানান থানার ওসি এম এম ময়নুল ইসলাম। একাধিক চালানের বিচ্ছিন্নভাবে দু-একটি করে অস্ত্র উদ্ধার হলেও আইন প্রয়োগকারীরা এ সময় কোন বিস্ফোরক উদ্ধার করতে পারেনি। তবে গত দেড় মাসে বিভিন্নভাবে বিপুল বিস্ফোরক নিয়ে এসেছে চোরাকারবারিরা, যা আইন প্রয়োগকারীদের নজরে পড়েনি। এখন পর্যন্ত যে কয়েকজন অস্ত্র বহনকারী চোরাকারবারি ধরা পড়েছে তাদের অধিকাংশ জামায়াত-বিএনপি সমর্থক। সর্বশেষ অস্ত্রসহ আটক আনসারুল ইসলাম মোবারকপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহসাধারণ সম্পাদক। এদিকে সন্ত্রাসের জনপদ শিবগঞ্জ উপজেলার পৌরসভাসহ ১৪ ইউনিয়নের কয়েক হাজার তরুণ ও যুবক যৌথবাহিনীর অভিযানে সীমান্ত অতিক্রম করে মালদহ ও মুর্শিদাবাদে পালিয়ে রয়েছে। তারা সেখানে বসে নেই। এসব পলাতক যুবকের সঙ্গে সর্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছে উভয় দেশের অস্ত্র ও বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন চোরাকারবারী সিন্ডিকেট। এসব পলাতক যুবক অধিকাংশ সময়ে সীমান্ত পেরিয়ে বিভিন্ন গ্রামের চিহ্নিত বাড়িঘরে অবস্থান নিয়ে চোরাকারবারিদের অর্ডার মোতাবেক মালামাল সরবরাহ করছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে যেসব চোরাকারবারি ইদানীং চাঁপাইনবাবগঞ্জ আসছে তারা জেলা শহর কিংবা শিবগঞ্জের হোটেলে অবস্থান করে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিনোদপুর, মনাকষা, শাহবাজপুর ইউনিয়নের সীমান্ত ঘেঁষা প্রত্যন্ত গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ করে মিলিত হচ্ছে পলাতক যুবক ও ব্যক্তিদের সঙ্গে। এসব পলাতকের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে ভারতীয় অস্ত্র, মাদক চোরাকারবারিসহ একাধিক জঙ্গীগোষ্ঠীর। বর্তমানে যেসব অস্ত্র ও বিস্ফোরক আসছে তা বহনে ব্যবহার করা হচ্ছে সোনামসজিদ বন্দর থেকে ছেড়ে আসা পণ্যবাহী ট্রাক, ওষুধ বহনকারী কাভার্ডভ্যান, এ্যাম্বুলেন্সসহ ধান-চাল বহনকারী ট্রাক। এছাড়াও বেশ কিছু নাইট কোচ। উল্লেখ্য যে, চাঁপাইনবাবগঞ্জে অবস্থানবারী একজন বড়মাপের চোরাকারবারির একটি নাইট কোচের মালিক। এছাড়াও নামকরা নয় এমন ৭-৮টি নাইট কোচ এখন শুধু অস্ত্র, মাদকসহ বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় অবৈধ পণ্য বহন করছে। এছাড়াও রয়েছে কয়েকটি কুরিয়ার সার্ভিস। গত এক বছরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, শিবগঞ্জ ও কানসাটে একাধিক নতুন নতুন কুরিয়ার সার্ভিসের অফিস খোলা হয়েছে। এদের একমাত্র লক্ষ্য অবৈধ পণ্য বহন। ইদানীং অস্ত্র ও মাদক ব্যবসায়ীরা রহনপুর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেন ব্যবহার করছে। বিশেষ করে বরেন্দ্র অঞ্চলের সব রেলস্টেশন থেকে অবৈধ পণ্য ট্রেনে উঠছে বলে জানা গেছে। লক্ষণীয় দিক হচ্ছে- হঠাৎ করে বেড়ে গেছে ভারতীয় জালনোট আসা। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তজুড়ে ছোট ছোট প্রান্তিক চোরাকারবারির সংখ্যা বেড়েছে। এদের অধিকাংশ বেকার যুবক কিংবা মহিলা। এরা সীমান্ত অতিক্রমের সময় নিয়ে যায় ভারতীয় টাকা, যা বাংলা টাকা বদলের মাধ্যমে ভারতীয় রুপী বা টাকা অর্জন করে। এসব ভারতীয় রুপী গ্রহণ করে সীমান্ত পেরিয়ে ভারত থেকে লবণ, চিনি, সোডাসহ বিভিন্ন ধরনের কাপড়চোপড় নিয়ে এসে ফেরি করে থাকে। তাদের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে ভারতীয় জাল রুপী। শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষায় ভারতীয় জালনোটের বাজার বসে প্রকাশ্যে। আর অপ্রকাশ্যে পাওয়া যায় ভারতীয় রুপী- সোনামসজিদ, কামালপুর, বাবুপুরসহ পুরো ভোলাহাট ও গোমস্তাপুর অঞ্চলে। তাই নবেম্বরের ২১ তারিখ শনিবার ও তার আগে ১৯ নবেম্বর বৃহস্পতিবার র‌্যাব দুটি অভিযানে ১১ লাখ টাকার ভারতীয় জাল রুপী উদ্ধার করে। আটক করে মনাকষার বাবুল নামের এক যুবককে। সে সাত রশিয়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। অপরজন কালীগঞ্জ নয়াটোলা গ্রামের মৃত ভোগুর ছেলে ফিটু। এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রহনপুর, বাঙ্গাবাড়ী, জিকে পোল্লাডাঙ্গা, গিলবাড়ী, চান্দশিকারী, চামুসা, ভোলাহাট, কামালপুর, সোনামসজিদ, চকপাড়া, আজমতপুর, তেলকুপি, কিরণগঞ্জ, চৌকা, মনাকষা, মনহরপুর, ফতেপুর, হায়াতপুর, জহুরপুর, বাখের আলীসহ ১৭৪ কিলোমিটার সীমান্ত পথের প্রায় ৫১ পয়েন্ট দিয়ে আসছে অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক, মাদকদ্রব্যসহ ভারতীয় মোটরসাইকেল। সব মিলিয়ে ৬১ ধরনের পণ্য প্রতিদিন চাঁপাই সীমান্ত পথে দেশে প্রবেশ করছে। বিশেষ করে ভারতের কুতুবপুর, বহিড়া, সাঈদপুর বাজার, জঙ্গীপুর, রঘুনাথপুর, মিঠুপুর, ষষ্ঠিতলা, খেজুরবোনা, গাইপাড়া, মহালদারপাড়া, ছাপখাটি, নেতাজী মোড়, পেঁয়াজী মোড়, ধুলিয়ান ও কালিয়াচকের চোরাকারবারিরা এখানকার চোরাকারবারিদের উৎসাহ দিতে টাকাসহ সবধরনের সহযোগিতা দিচ্ছে। এমনকি এখান থেকে যাওয়ার পর থাকা খাওয়া একেবারে ফ্রি দিয়ে তাদের অনুসারী ও ভক্ত করে তুলেছে। মুর্শিদাবাদ আমতুলির এক অবৈধ পণ্যের ব্যবসায়ী জানান, তারা বর্তমানে প্রতিযোগিতা করে ধারে অবৈধ পণ্য বাংলাদেশের চোরাকারবারিদের সরবরাহ করছে। এসব চোরাকারবারির, বিশেষ করে মাদক ও অস্ত্র বিস্ফোরক এখন সরবরাহ করছে ধারে। একটি স্থানীয় চোরাকারবারি সিন্ডিকেট সদস্য জানান, তার বকেয়ার পরিমাণ ৩০ কোটি রুপী ছাড়িয়ে গেছে। এসব বকেয়া পরিশোধে সোনা ও ডলার সরবরাহ করছে বাংলাদেশী চোরাকারবারিরা। ভারতীয় চোরাকারবারিরা ইদানীং সোনা ও ডলার নিতে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।