২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পার্বত্য শান্তিচুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নে ১০ দফা কর্মসূচী ঘোষণা

  • রাঙ্গামাটিতে মহাসমাবেশে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের আহ্বান সন্তু লারমার

নিজস্ব সংবাদদাতা, রাঙ্গামাটি, ২ ডিসেম্বর ॥ জুম্ম জাতির একজন বেঁচে থাকা পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের জন্য আমরা সংগ্রাম করে যাব। এছাড়া জুম্ম জাতির বেঁচে থাকার আর কোন উপায় নেই। আমাদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের সংগ্রামে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। অন্যথায় আমাদের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি তথা পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা শান্তিচুক্তির ১৮ বছর পূর্তি উপলক্ষে বুধবার দুপুরে শহরের জিমনেসিয়াম মাঠে আয়োজিত এক মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।

তিনি অভিযোগের সুরে বলেন, শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার সঠিক কথা বলছে না। চুক্তির কোন কোন ধারা বাস্তবায়িত হয়েছে আর কোন ধারা বাস্তবায়িত হয়নি তা প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে চলতি বছরের পহেলা এপ্রিল একটি তালিকা দেয়ার পর সরকার কোন ধরনের সাড়া দেয়নি বলে জানান। চুক্তি বাস্তবায়িত না হওয়ায় পার্বত্যাঞ্চলের মানুষ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ভূমি, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ অবস্থায় পাহাড়ের মানুষ ভাল নেই। সরকার জুম্ম জাতিকে প্রতারিত করছে। তিন পার্বত্য জেলায় জেলা পরিষদ আইন তৈরি হওয়ার পর এখনও ব্রিটিশের তৈরি আইন দিয়ে ডিসিরা এ অঞ্চল শাসন করছেন। এটা আমাদের জন্য দুঃখজনক। পাহাড়ে অপারেশন উত্তরণের নামে এখনও সেনা শাসন চলছে। চুক্তির পর পাহাড় শান্ত হয়েছে এখন কেন সেনা শাসন। সন্তু লারমা পাহাড়ের ভূমি সমস্যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পাহাড়ের ভূমি সমস্যার সমাধান না করে সেনা ক্যাম্প, বিজিবি ও পর্যটনের নামে নতুন নতুন ভূমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। শাসক গোষ্ঠী এলাকায় ইসলামীকরণ ও সামরিকীকরণ করে চলছে। যা আমাদের জন্য উদ্বেগের কারণ। এই দুটি চলতে থাকলে জুম্মদের হয় মুসলমান হতে হবে না হয় এই দেশ ছেড়ে যেতে হবে। এই দেশ ছেড়ে পৃথিবীর কোথাও আমাদের স্থান নেই। তাই আত্মত্যাগ করে হলেও বাঁচতে হবে। এজন্য তিনি যুব সমাজকে ঘোষিত অসহযোগ আন্দোলন আরও বেগবান করে এগিয়ে নেয়ার আহ্বান জানান।

সন্তু লারমা চলমান অসহোযোগ অন্দোলনকে আরও বেগবান করার জন্য ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১০ দফা কর্মসূচী ঘোষণা করেন। দাবিগুলো হলো ১। সরকারের দালাল বর্জন করা। ২। চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য হরতাল করা ৩। অবরোধ করা। ৪। অর্থনৈতক অবরোধ করা। ৫। পর্যটনের বিরোধিতা করা। ৬। আদালত বর্জন করা। ৭। সরকারী ও আধাসরকারী অফিস বর্জন করা ৮। নিজস্ব আদালতে বিচার করা। ৯। ছাত্র ধর্মঘট করা, ১০। চুক্তি বিরোধীদের প্রতিরোধ ও অবৈধ ভূমি অধিগ্রহণকারীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রভৃতি। অর্ধলক্ষাধিক লোকের এই সমাবেশে সন্তু লারমা আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন।

জেএসএস সদস্য সাধুরাম ত্রিপুরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বিশেষ অতিথির ভাষণে ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও আদিবাসী ককেসাসের সভাপতি ফজলে হোসেন বাদশা এমপি বলেন, যারা শান্তিচুক্তির বিরোধিতা করেন। তারা রাষ্ট্রদ্রোহী। তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। সমাবেশে বক্তব্য দেন আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্র শরেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. রহমান নাছির উদ্দিন, আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য এস মং মারমা ও রাঙ্গামাটি নাগরিক কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান।

এদিকে পার্বত্য শান্তিচুক্তির ১৮ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রাঙ্গামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণে রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামী লীগ ওই দিন অপর একটি শোডাউন করে সমাবেশ করেছে।