১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নাসির শামসুরা আমার ভাইকে গুলি করে হত্যা করে

  • যুদ্ধাপরাধী বিচার;###;১৭তম সাক্ষীর জবানবন্দী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে কিশোরগঞ্জের দুই সহোদর এটিএম নাসির আহম্মেদ ও শামসুদ্দিন আহম্মদসহ পাঁচ রাজাকারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ১৭তম সাক্ষী আব্দুল মালেক তার জবানবন্দীতে বলেছেন, নাসির ও শামসুদ্দিনসহ অন্যান্য রাজাকার তার ভাই আব্দুল গফুরকে গুলি করে খুদির জঙ্গল ব্রিজের ওপর থেকে লাথি মেরে নিচে ফেলে দেয়। জবানবন্দী শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী সাক্ষীকে জেরা করেন। পরবর্তী সাক্ষ্যর জন্য ১৭ ডিসেম্বর দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত নেত্রকোনার রাজাকার ওবায়দুল হক তাহের ও আতাউর রহমান ননীর পক্ষে সাফাই সাক্ষী দেয়ার জন্য ৪ জানুয়ারি পরবর্তী দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে মৌলভীবাজারের সামছুল তরফদারসহ পাঁচ রাজাকারের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার জন্য ২৫ জানুয়ারি দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। বিচারপতি মোঃ শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে দুই সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনার-১ এ আদেশ প্রদান করেছেন। চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হক ছুটিতে রয়েছেন। সাক্ষ্যগ্রহণে সাহায্য করেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন ও প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা চমন। পরে আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আব্দুস শুকুর খান সাক্ষীদের জেরা শেষ করেন। অন্য মামলায় প্রসিকিউটর ছিলেন আবুল কালাম, মোখলেসুর রহমান বাদল ও সাবিনা ইয়াসিন মুন্নি।

কিশোরগঞ্জের পাঁচ রাজাকারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের সাক্ষী তার জবানবন্দীতে বলেছেন, আমার নাম আব্দুল মালেক। বর্তমান বয়স আনুমানিক ৬১ বছর। আমার ঠিকানা গ্রাম- কলাতুলি, থানা- করিমগঞ্জ, জেলা- কিশোরগঞ্জ। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার বয়স ছিল ১৭ বছর। তখন আমি করিমগঞ্জ হাই স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্র ছিলাম। ১৯৭১ সালে শামসুদ্দিন আহম্মদ, রাশেদ, হাফিজ করিমগঞ্জ হাই স্কুলে পড়ালেখা করত। শামসুদ্দিন আহম্মদ ওই স্কুলে দশম শ্রেণীতে পড়াশোনা করত। আমার এক ভাই আব্দুল গফুর কটকটির ব্যবসা করত। আমার ভাই আব্দুল গফুর মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য-সহযোগিতা করত।

সাক্ষী তার জবানবন্দীতে বলেন, একাত্তরে ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে আমি আমার ঘরে পড়ালেখা করছিলাম। আনুমানিক ১০টার দিকে আমার ভাই আব্দুল গফুরের ঘরের সামনে কিছু লোকের ফিসফিস শব্দ শুনতে পাই। আমি ঘর থেকে বের হয়ে টর্চলাইট হাতে কিছু অস্ত্রধারী রাজাকারকে দেখতে পাই। ওই রাজাকাররা আমাকে দেখে গুলি করার হুমকি দেয়। এরপর তারা সামনে আসতে নিষেধ করে। আমি প্রাণের ভয়ে আমার ঘরের আড়ালে লুকিয়ে থাকি। সেখান থেকে আমি দেখতে পাই যে, আমার ভাই আব্দুল গফুরকে হাত বাঁধা অবস্থায় রাজাকাররা টেনেহিঁচড়ে ঘর থেকে বের করছে। এই রাজাকারদের মধ্যে আমি আসামি শামসুদ্দিন আহম্মদ, হাফিজ উদ্দিন, এটিএম নাসির উদ্দিন ও আসামি মোঃ আজাহারুল ইসলামকে চিনতে পারি। অন্য রাজাকারদের আমি চিনতে পারিনি।

আসামি হাফিজ উদ্দিন আমার ভাই গফুরকে টেনেহিঁচড়ে বাড়ির বাইরে নিয়ে আসে। আমি যেখানে লুকিয়েছিলাম সেখান থেকে আরও দেখতে পাই যে, আমার ভাই গফুরের স্ত্রী হাফিজা খাতুন আমার ভাইয়ের পেছন পেছন যেতে চাইলে আসামি মোঃ হাফিজ উদ্দিন তাকে লাথি দিয়ে ফেলে দেয়। ভাই গফুরকে নিয়ে যাওয়ার সময় আমার ভাবি হাফিজা খাতুন আমার ভাইয়ের পেছন পেছন যেতে থাকে। ঘরের আড়াল থেকে বের হয়ে আমিও আমার ভাইয়ের পেছন পেছন কিছুদূর যাই। তার কিছুক্ষণ পর একটি গুলির শব্দ শুনতে পাই। তখন আমি প্রাণভয়ে বাড়ি ফিরে আসি এবং বাড়ি ফিরে আসার সময় আমার চাচাত ভাই মানুকে রাস্তার পাশে দেখতে পাই। বাড়ি এসে কান্নাকাটি ও ভাইয়ের জন্য চিন্তা করতে থাকি। কিছুক্ষণ পর আমার ভাবি হাফিজা খাতুন দৌড়ে বাড়িতে আসে এবং আমাদের জানায়, আসামি হাফিজ উদ্দিন আমার ভাই গফুরকে খুদির জঙ্গল ব্রিজের ওপর গুলি করে হত্যা করে লাশ নিচে ফেলে দেয়। পরদিন সকালবেলায় আমরা খুদির জঙ্গল ব্রিজের নিচে আমার ভাই গফুরের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখি। সেখান থেকে লাশ বাড়িতে এনে দাফন করি।