২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দুটি বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থা জেএমবিকে সংগঠিত করছে

শংকর কুমার দে ॥ নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশকে (জেএমবি) সংগঠিত করে নাশকতার ছক তৈরি করে দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য গুপ্ত হত্যা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের হত্যার জন্যই কাজ করছে জেএমবিই। শুধু বাংলাদেশই নয়, পার্শ্ববর্তী পশ্চিমবঙ্গ, অসমসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যেও ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে জেএমবির তৎপরতা। এই জঙ্গী সংগঠনটিকে মদদ দিচ্ছে দুইটি প্রভাবশালী বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থা। গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

গোয়েন্দা সংস্থার সূত্র জানান, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্সেরের (আইএসআই) মদদে বাংলাদেশের ভূখ- ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ, অসমে জেএমবির তৎপরতা ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে বলে ভারতের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার দাবি। গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, গত বছর অক্টোবরে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান খাগড়াগড়ে জেএমবির যে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে তাতে এই জঙ্গী সংগঠনটিকে সেখানে তৎপরতা চালাতে সহায়তা করেছে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। আর বাংলাদেশে সম্প্রতি যেসব প্রগতিশীল লেখক, ব্লগার, প্রকাশক খুন, পুলিশ খুন, হোসেনী দালানে গ্রেনেড হামলার ঘটনাগুলোতে জেএমবি যে জড়িত তা ধরা পড়া জঙ্গীদের জবানবন্দীতেই তার তথ্য পাওয়া গেছে। জেএমবিকে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের মদদের বিষয়টির তথ্য হস্তগত করেছে বাংলাদেশ ও ভারত-দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থা।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ইদ্রিস ও মকবুলের পাকিস্তানী পাসপোর্ট রয়েছে। তারা বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত পাকিস্তানী নাগরিক। তারা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে নিয়মিত যাতায়াত করত। গ্রেফতারকৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে জেএমবি সদস্য। বাংলাদেশে জেএমবিকে পুনরায় সক্রিয় করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নাশকতা চালিয়ে সরকার পতনের লক্ষ্যে তারা কাজ করছিল জেএমবির সদস্যরা। গ্রেফতার হওয়া ইদ্রিস ২০০৭ সালে বাংলাদেশে একাই ফেরত এসে জেএমবির সঙ্গে যুক্ত হয়। পাসপোর্ট অনুযায়ী ইদ্রিস গত দুই বছরে ৪৮ বার বাংলাদেশ ও পাকিস্তান যাতায়াত করেছে। মকবুলও ১৯৮৫ সালে পাকিস্তান যায়। নিয়মিত বাংলাদেশ-পাকিস্তান যাতায়াত করত। কাপড়ের ব্যবসার আড়ালে পাকিস্তানে জেএমবির সঙ্গে সক্রিয় মকবুল। জঙ্গী সংগঠনটিকে অর্থায়নও করত। বাংলাদেশের নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন জেএমবিসহ বিভিন্ন জঙ্গী সংগঠনকে সহায়তা করাই ছিল তাদের প্রধান কাজ।