১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শাটলার শ্রেষ্ঠার স্বপ্ন...

  • ইউনেক্স-সানরাইজ বাংলাদেশ ওপেন ইন্টারন্যাশনাল ব্যাডমিন্টন চ্যালেঞ্জ কাপ

রুমেল খান ॥ শ্রেষ্ঠ মানে সেরা। শ্রেষ্ঠর স্ত্রী লিঙ্গ হচ্ছে শ্রেষ্ঠা। নেপালী এক শাটলার (ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়) আছে, যে তার খেলাটিতে এক সময় শ্রেষ্ঠা হওয়ার স্বপ্ন দেখে। তার নাম? সিচিয়া শ্রেষ্ঠা। আগামী বছরের ৯ জানুয়ারি ২০ বছর পূর্ণ হবে তার। ঢাকায় এখন চলছে ‘ইউনেক্স-সানরাইজ বাংলাদেশ ওপেন ইন্টারন্যাশনাল ব্যাডমিন্টন চ্যালেঞ্জ কাপ।’ এখানে এককে অংশ নিচ্ছে শ্রেষ্ঠা। জনকণ্ঠের সঙ্গে একান্ত আলাপনে সে জানায়, ‘মূলত বাবার জন্যই ব্যাডমিন্টন খেলতে আগ্রহী হই। বাবা জাতীয় পর্যায়ে ব্যাডমিন্টন খেলতেন। আমার বয়স যখন ১৩, অষ্টম শ্রেণীতে পড়ি, তখন খেলাটি খেলতে শুরু করি। বয়স যখন ১৪ তখন জাতীয় পর্যায়ে প্রথম কোন টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করি।’

ব্যাডমিন্টনে নিজের সাফল্য সম্পর্কে সিচিয়া জানায়, ‘আমার প্রথম সাফল্য জাতীয় অনুর্ধ-১৬ টুর্নামেন্টে। সেবার আমি এককের শিরোপা জিতেছিলাম। তখন আমি নবম শ্রেণীর ছাত্রী। এরপর ধীরে ধীরে খেলা চালিয়ে যেতে থাকি। দ্বিতীয় সাফল্য জাতীয় অনুর্ধ-১৯ আসরে। এবারও চ্যাম্পিয়ন হই এককে।’

সিচিয়া শুধু সিঙ্গেলস ইভেন্টেই খেলে থাকে। ডাবলস এবং মিক্সড ডাবলসে খেলে না। এর কারণও আছে। অনুশীলন করতে গিয়ে ভয়াবহ বোন ইনজুরিতে পড়ে। এরপর পূর্ণ ও লম্বা বিশ্রামে ছিল। তারপরও এখনও পুরোপুরি ইনজুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। ফলে শতভাগ ফিটনেস নেই তার। এই টুর্নামেন্টে সে খেলতে এসেছে মাত্র ৫০ শতাংশ ফিটনেস নিয়ে! ‘অবশ্যই এটা আমার জন্য বড় ধরনের সমস্যা। তারপরও এখানে খেলতে আসার উদ্দেশ্য একটাই- ম্যাচ প্র্যাকটিস।’ নেপালের এপিএফ ব্যাডমিন্টন ক্লাবের শাটলার সিচিয়া। এই ক্লাবের হয়ে জাতীয় আসরে সিনিয়র বিভাগেও অংশ নিয়েছে, যদিও এখনও কোন সাফল্য ধরা দেয়নি হাতের মুঠোয়। তবে সিনিয়র র‌্যাঙ্কিংয়ে ভাল অবস্থানেই আছে সে, ‘সম্ভবত আমি ৩ বা ৪ নম্বরে আছি।’ সিচিয়ার ভাষ্য।

‘আমার পরিকল্পনা হচ্ছে ইনজুরি থেকে পুরোপুরি সেরে উঠতে লম্বা সময়ের জন্য বিশ্রামে চলে যাওয়ার। সেটা কয়েক বছরের জন্য হতে পারে। তারপর আবারও টেনিস সার্কিটে ফিরে আসার ইচ্ছে আছে।’ ক্যারিয়ার নিয়ে সিচিয়ার নিকট ভবিষ্যত পরিকল্পনা। এই ইনজুরির কারণেই খুব বেশি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে বা ম্যাচে খেলা হয়নি তার। বাংলাদেশে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার এসেছে সে। তবে খেলতে এই প্রথম। এর আগে অনুশীলনের জন্য একবার এসেছিল সে। বাংলাদেশ বাদে মালয়েশিয়া, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড এবং ভারতে গিয়ে খেলার অভিজ্ঞতা আছে সুদর্শনা সিচিয়ার।

নিজ দেশের ব্যাডমিন্টন ফ্যাসিলিটিস প্রসঙ্গে সিচিয়া বলে, ‘কয়েকমাস আগে নেপালে এক প্রলংয়করী ভূমিকম্প হয়েছিল। ফলে এখন দেশের অর্থনীতির অবস্থা খুব খারাপ। এর প্রভাব পড়েছে খেলাধুলাতেও। কাজেই ব্যাডমিন্টন অনুশীলনের সুযোগ-সুবিধাও সেখানে অপ্রতুল হয়ে পড়েছে।’ স্মরণীয় ম্যাচ? ‘২০১৪ এশিয়ান গেমসে (দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচনে) এককে মালয়েশিয়ার এক প্রতিপক্ষের কাছে ২-০ সেটে হেরে যাই। ওই ম্যাচটা আমি তীব্র ইনজুরি নিয়ে খেলি এবং কঠিন পরিশ্রম করি। তারপরও হেরে যাই। এটা আমার কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’ সিচিয়ার স্মৃতিচারণ।

সিচিয়ার কোন ভাই নেই। পাঁচ বোন। সে সবার ছোট। তার আর কোন বোন খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। আদর্শ শাটলার? ‘পুরুষদের মধ্যে চীনের লিন দান এবং মেয়েদের মধ্যে স্পেনের ক্যারোলিনা ম্যারিন।’ ভবিষ্যত লক্ষ্য? ‘ব্যাডমিন্টন খেলাটা বেশ কষ্টসাধ্য। তারপরও চাই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য পেতে।’ ব্যাডমিন্টন ছাড়া সিচিয়ার অন্য প্রিয় খেলা হচ্ছে বাস্কেটবল ও লন টেনিস। শখ? ‘মুভি দেখা, গান শোনা, বই পড়া- একেক সময় একেকটা। এটা আসলে নির্ভর করে পরিবেশ ও মুডের ওপর।’ দার্শনিকের মতো জবাব সিচিয়ার।

ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ নিয়েও অকপট জবাব দিয়েছে সিচিয়া, ‘আগে বয়ফ্রেন্ড ছিল। এখন একাকী। জীবনে কখনও বিয়ে করার ইচ্ছে নেই!’ কেন? ছ্যাঁকা খেয়েছেন বলে? ‘না। বিয়ে ব্যাপারটা খুবই বোরিং মনে হয় আমার কাছে, তাই।’ মুখ টিপে লাজুক হাসিমাখা উত্তর সিচিয়ার। আরও জানালো, ‘অন্যদের মতো ফেসবুকেও আসক্তি নেই আমার। ক’দিন আগেই একাউন্ট ডি-এ্যাক্টিভেট করে দিয়েছি। শুধু শুধু সময় নষ্ট। কোন মানে হয় না!’ হিমালয়ের দেশের মেয়ে, কখনও মাউন্ট এভারেস্ট দেখনি? ‘দেখেছি। তবে সেটা বিমান দিয়ে এভারেস্টের ওপর দিয়ে উড়ে যাবার সময়, পাঁচ-ছয় বার। ইচ্ছে করে এভারেস্টে ওঠার। তবে এতে দারুণ ঝুঁকি আছে বলে ভীষণ ভয় পাই!’ এখন দেখার বিষয় ব্যাডমিন্টনে ‘শ্রেষ্ঠা হয়ে উঠতে পারে কি না সিচিয়া শ্রেষ্ঠা!