১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চৌরাসিয়ার ইন্দ্রজালে বিভোর শ্রোতারা

ঢাকায় কয়েকবার এসেছেন তিনি। বাঁশির মোহজালে মুগ্ধ করেছেন অসংখ্য বিদগ্ধ শ্রোতাকে। বেঙ্গল উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত উৎসবে এবারে শেষ রজনীতে বাঁশি বাজালেন প-িত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া। ভারতের বিখ্যাত এই বাঁশিবাদক বাদ্যযন্ত্র হিসেবে বাঁশিকে নিয়ে গিয়েছেন এক অন্য উচ্চতায়। ১৮৩৮ সালের ১ জুলাই ভারতের এলাহাবাদে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ৬ বছর বয়সে মাকে হারান। বাবা ছিলেন নামী কুস্তিগীর। চৌরাসিয়াকে ছোটবেলায় কুস্তির আখড়ায় ভর্তি করিয়ে দেন। ইচ্ছে ছিল ছেলে হবেন জগৎ বিখ্যাত কুস্তিগীর। কিন্তু ছেলের ইচ্ছা ছিল অন্য। সুর ছিল তাঁর আরাধ্য। বাবাকে লুকিয়ে ছোট বেলাতেই বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে গানের চর্চা করতেন। তবে, ছোটবেলায় কুস্তির চর্চার কারণে আজও এই বয়সে এসে তিনি দারুণ ফিট। তাঁর প্রথম দীক্ষাগুরু ছিলেন বেনারসের প-িত তোলানাথ প্রসন্ন। তাঁর কাছে প্রায় ৮ বছর বাঁশির বাজানো শেখেন। ১৯৫৭ সালে অল ইন্ডিয়া রেডিওতে কম্পোজার এবং পারফরমার হিসেবে কাজ করেন। যদিও ক্লাসিক্যাল মিউজিক তাঁর নিজের ক্ষেত্র। তবুও কয়েকটি সিনেমায় যৌথভাবে মিউজিক ডিরেক্টরের দায়িত্বও পালন করেছেন। ঢাকায় মঙ্গলবার রাতে প্রায় হাজার বিশেক শ্রোতা মুগ্ধ হয়ে শোনেন তাঁর বাঁশির মোহনীয় সুর। তবে চৌরাসিয়ার কাছে বাঁশি বাজানো যেন ঈশ্বরের উপাসনারই নামান্তর। এক সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, ‘আমি যখন বাঁশি বাজাই তখন আমি আসলে ঈশ্বরকে পূজা করি। তখন রসবোধসম্পন্ন শ্রোতার সঙ্গে আমার যোগসূত্র হয়ে যায়। তখন আমি অন্য এক সূরের জগতে বিচরণ করি, যেখানে ঈশ্বর আছেন।’ নিজের ছোটবেলা সম্পর্কে বলতে এক সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, ‘মাত্র ৮ বছর বয়সে বাঁশি বাজানো শেখা শুরু করি। আমাদের গ্রামের বাড়ি ছিল এলাহাবাদে। আমরা খুব গরিব ছিলাম। মাত্র ৮ আনা হলে বাঁশি কেনা যেত। সেই যে বাঁশি ধরেছি আর ছাড়া হয়নি। ঈশ্বরই আমাকে এই পথে এনেছেন।’ বাঙালীদের সংস্কৃতি নিয়ে উচ্চধারণা পোষণ করেন প-িত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া।