২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আইসিসি বর্ষসেরা ওয়ানডে দলে মুস্তাফিজ

স্পোর্টস রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে ॥ ওয়ানডেতে ২০১৫ সালটি বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য সোনালি বছর। ঠিক তেমনি ‘বিস্ময়-বালক’ মুস্তাফিজুর রহমানের জন্যও স্বপ্নের বছর। এ বছরটিতে যে বোলারদের অভিষেক হয়েছে তাদের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল নৈপুণ্য মুস্তাফিজের। ১৮ জুন অভিষেকের পর থেকে এখন পর্যন্ত ৯ ওয়ানডেতে ২৬ উইকেট নিয়েছেন। আর তাই আইসিসির বর্ষসেরা ওয়ানডে ক্রিকেটারের তালিকায় বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজও আছেন। বাংলাদেশ থেকে এক ক্রিকেটারই আছেন বর্ষসেরা তালিকাতে। প্রথমবার কোন বাংলাদেশী ক্রিকেটার আইসিসির ওয়ানডে বর্ষসেরা ক্রিকেটার তালিকাতে জায়গা করে নিয়েছেন। এরআগে ২০০৯ সালে সাকিব আল হাসান প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে বর্ষসেরা তালিকায় স্থান করে নিয়েছিলেন। তবে সেটি টেস্ট দল ছিল।

এ বছরে যারা বল হাতে জ্বলে উঠেছেন তাদের মধ্যে মুস্তাফিজ অন্যরূপেই দাঁড়িয়েছেন। এই বছরে এখন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার মিচেল স্টার্ক (৪১ উইকেট), দক্ষিণ আফ্রিকার ইমরান তাহির (৩৭ উইকেট), নিউজিল্যান্ডের ট্রেন্ট বোল্ট (৩৬ উইকেট), পাকিস্তানের ওয়াহাব রিয়াজ ৩২ উইকেট), ইংল্যান্ডের স্টিভেন ফিন (৩১ উইকেট), দক্ষিণ আফ্রিকার ডেল স্টেইন (৩০ উইকেট), দক্ষিণ আফ্রিকার মরনে মরকেল (২৮ উইকেট) ও নিউজিল্যান্ডের টিম সাউদি (২৮ উইকেট) ঝলক দেখান। এদের পরের অবস্থানেই আছেন মুস্তাফিজ। ২৬ উইকেট নিয়েছেন। তবে মুস্তাফিজের ওপরে থাকা সবারই আগে অভিষেক হয়। এ বছর অভিষেক হওয়া বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল মুস্তাফিজ। তাইতো বর্ষসেরা তালিকাতেও ঠাঁই হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর থেকেই একের পর এক কীর্তি গড়েন এ পেসার। অভিষেকের পর নিজের প্রথম দুই ম্যাচে ১১ উইকেট নিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েন সাতক্ষীরার এই তরুণ উদীয়মান পেসার। পাকিস্তানকে টি২০ সিরিজে কাঁপিয়ে দেয়ার পর ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো বিশ্বমানের ব্যাটিং লাইনকে ধসিয়ে দেন এই বাঁ-হাতি পেসার। এবার ১৯ বছর বয়সী এই বিস্ময়-বালকের প্রতিভার স্বীকৃতি দিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। আইসিসি ঘোষিত ২০১৫ সালের বর্ষসেরা দলে জায়গা পেলেন ঢাকা ডাইনামাইটসের হয়ে খেলা এই বাংলাদেশী পেসার। বুধবার আইসিসি ২০১৫ সালের বর্ষসেরা ওয়ানডে ও টেস্ট দল ঘোষণা করে। গেল কয়েকটি সিরিজে দুর্দান্ত পারফর্মেন্সের পুরস্কারস্বরূপ মুস্তাফিজুর রহমান বর্ষসেরা ওয়ানডে দলে জায়গা করে নেন।

চলতি বছরের ১৮ জুন ভারতের বিপক্ষে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ওয়ানডেতে স্বপ্নের অভিষেক হয় মুস্তাফিজের। ৯.২ ওভারের স্পেলে ৫০ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়ে ভারতকে ধসিয়ে দেন এই তরুণ পেসার। তার জাদুকরি পারফর্মেন্সের ওপর ভর করেই ভারতকে ৭৯ রানে হারায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে তো আরও ভয়ঙ্কর রূপ নিয়ে হাজির হন এ পেসার। এবার ১০ ওভারের স্পেলে ৪৩ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েন এই বিস্ময়-বালক। অভিষেকের পর প্রথম দুই ম্যাচে ১১ উইকেট লাভ করে ইতিহাসে নাম লেখান তিনি। মুস্তাফিজের বোলিংয়ের কল্যাণে ভারতকে ২০০ রানে গুটিয়ে দিয়ে বাংলাদেশ তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটি ৬ উইকেটের বড় ব্যবধানে জিতে নেয়। ভারতের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে নেন দুই উইকেট। ভারত সিরিজের পর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও উজ্জ্বল ছিলেন মুস্তাফিজুর। প্রথম দুই ম্যাচে যথাক্রমে ৩ ও ২ উইকেট নিয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশ সিরিজ জেতান তিনি। সব মিলিয়ে মাত্র ৯ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারটা বেশ রঙ্গিন মুস্তাফিজুর রহমানের। ৯ ম্যাচে ২৬ উইকেট দখল করেন এই সাতক্ষীরার ছেলে।

আইসিসির বর্ষসেরা ওয়ানডে দল ॥ তিলকারতেœ দিলশান, হাশিম আমলা, কুমার সাঙ্গাকারা, এবি ডি ভিলিয়ার্স, স্টিভেন স্মিথ, রস টেলর, ট্রেন্ট বোল্ট, মোহাম্মদ শামি, মিচেল স্টার্ক, মুস্তাফিজুর রহমান, ইমরান তাহির ও জো রুট (দ্বাদশ খেলোয়াড়)।