২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবন্ধী সেবাকেন্দ্রে ঢুকে গুলি, নিহত ১৪

অনলাইন ডেস্ক ॥ যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার একটি প্রতিবন্ধী সেবাকেন্দ্রে গুলি চালিয়ে ১৪ জনকে হত্যা করেছে দুই বন্দুকধারী।

বুধবার স্থানীয় সময় বেলা ১১টার দিকে স্যান বার্নার্ডিনো শহরের ইনল্যান্ড রিজিওনাল সেন্টারে এই হামলায় আরও অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছেন বলে রয়টার্সের খবরে জানানো হয়েছে।

হামলার পরপরই পুলিশের অভিযানে ব্যাপক গোলাগুলির মধ্যে এক নারী ও এক পুরুষ বন্দুকধারী নিহত হয়েছেন বলে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে।

তাদের কয়েকজন একটি এসইউভিতে চড়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্যান বার্নার্ডিনোর পুলিশ প্রধান জ্যারড বারজুয়ান।

এনবিসি নিউজের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, সন্দেভাজন তিনজন হামলাকারীকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে একজনের নাম সৈয়দ ফারুক।

পুলিশ বলছে, হামলাকারীদের হাতে অ্যাসল্ট রাইফেল ও হ্যান্ডগান ছিল। তাদের পরনে ছিল কমান্ডো পোশাক।

এফবিআই পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। এটা জঙ্গি হামলার কোনো ঘটনা ছিল কি না- সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এফবিআইয়ের সহকারী পরিচালক ডেভিড বোডিচ বলেন, হামলার উদ্দেশ্য এখনো আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়।

বলা হচ্ছে, ২০১২ সালে নিউটনে স্যান্ডি হুক এলিমেন্টারি স্কুলে গুলির ঘটনার পর এটিই যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের হামলার সবচেয়ে বড় ঘটনা। নিউটনের স্কুলে ওই ঘটনায় হামলাকারীসহ ২৭ জন নিহত হয়।

রক্তাক্ত হলিডে পার্টি

সিএনএন জানিয়েছে, ইনল্যান্ড রিজিওনাল সেন্টারের একটি সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় জনস্বাস্থ্য বিভাগের হলিডে পার্টিতে হামলার ঘটনাটি ঘটে।

পুলিশ এবং সরকারের কর্মকর্তাদের ধারণা, হলিডে পার্টিতে কয়েকজনের সঙ্গে ঝগড়ার পর বেরিয়ে যাওয়া এক ব্যক্তি এই হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছে।

পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হলিডে পার্টি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর সশস্ত্র এক অথবা দুইজন সঙ্গীসহ ফিরে এসে গুলি চালান ওই ব্যক্তি।

পুলিশপ্রধান বারজুয়ান একই কথা বললেও ওই ব্যক্তি আবার পার্টিতে ফিরে এসেছিল কিনা, তা নিশ্চিত করতে পারেননি।

হামলার পরপরই সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তিকে ধরতে পাশের রেডল্যান্ড শহরের একটি বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। সেখানে ঘটনাস্থল থেকে পালানো এসইউভির মতো একটি গাড়িও পাওয়া গেছে বলে জানান বারজুয়ান।

এসএমএসে হামলার খবর

ঘটনার সময় প্রাণ বাঁচাতে অনেকেই কমিউনিটি সেন্টারের বিভিন্ন কক্ষে দরজা বন্ধ করে পুলিশ আসার অপেক্ষায় ছিলেন।

আটকে পড়া মেয়ের কাছ থেকে এসএমএসে হামলার খবর পান টেরি পেটিট নামের এক ব্যক্তি।

‘অনেকের গুলি লেগেছে। (আমরা) অফিসে পুলিশের অপেক্ষায় আছি। আমাদের জন্য প্রার্থণা করো। আমিও একটি অফিসে আটকা পড়ে আছি’- এমন এসএমএস পেয়েছি মেয়ের কাছ থেকে,” বলেন টেরি পেটিট।

ইনল্যান্ড রিজিওনাল সেন্টারে কর্মরত স্ত্রীর কাছ থেকে একইভাবে হামলার কথা জানতে পারেন মার্কোস অ্যাগুইলেরা।

স্ত্রীর এসএমএসের বরাত দিয়ে তিনি সিএনএনকে বলেন, “সে গুলির শব্দ শুনে কাঁদছিল। সেন্টারের ফায়ার অ্যালার্ম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতিও বোঝা যাচ্ছিল না।”

এর কিছুক্ষণ পরই অ্যাগুইলেরার স্ত্রী ও তার আরও দুই সহকর্মীকে উদ্ধার করে সোয়াট বাহিনী।

হামলার পরপরই বিপুল সংখ্যক পুলিশ সেবাকেন্দ্রটি ঘিরে সেখান থেকে কয়েকশ মানুষকে বের করে নিয়ে যায়।