২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ষড়যন্ত্রও উদ্ঘাটন জরুরী

বাংলাদেশ নামক স্বাধীন সার্বভৌম দেশটিকে পরাজিত শক্তি তাদের কব্জায় নেয়ার জন্য ইতিহাসের নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল ১৯৭৫ সালে। স্বাধীনতা প্রাপ্তির সাড়ে তিন বছরের মাথায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় ১৫ আগস্ট। এর আড়াই মাস পর কারাগারে আটক জাতীয় চার নেতাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতাকে কী কারণে বা কেন হত্যা করা হয়েছিল তার প্রকৃত ভাষ্য মেলে না, কিন্তু ধারণা প্রশ্নাতীত যে, দেশী ও বিদেশী শক্তিগুলো একত্রে কাজ করেই নির্মমতার বহির্প্রকাশ ঘটিয়েছিল। আওয়ামী লীগের একাংশ যেমন, তেমনি কিছু রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন পেশার কতিপয় ব্যক্তি হত্যাকা-ের ক্ষেত্র তৈরি ও ষড়যন্ত্রে জড়িত কিংবা সহায়ক ছিল। তাই বঙ্গবন্ধু এবং জাতীয় চার নেতা হত্যার ষড়যন্ত্র ও ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করার জন্য তদন্ত কমিশন গঠন জরুরী। মোশতাক ও জিয়ার ভূমিকা ছিল স্পষ্ট এবং তা তাদের কর্মকা-ে প্রমাণিত যে, হত্যাযজ্ঞের সঙ্গে প্রত্যক্ষ জড়িত ছিল এরা। জিয়া ক্ষমতা গ্রহণের পরই দেশকে পাকিস্তানে পরিণত করার উন্মাদনায় মেতে উঠেছিল। জিয়া-মোশতাক একই লক্ষ্যে কাজ করেছে। বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা উদ্ঘাটনে তদন্ত ও কমিশন গঠন করার কথা আইনমন্ত্রী কিছুদিন আগে ঘোষণাও করেছেন, যা এদেশের জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি। একই সঙ্গে জেলহত্যার ষড়যন্ত্র উদ্ঘাটনে তদন্ত ও কমিশন গঠন করাও জরুরী। তদন্ত হলে পরিষ্কার হবে, জাতির পিতা এবং জাতীয় চার নেতা হত্যার ষড়যন্ত্রে কারা জড়িত ছিল। যদি তাদের চিহ্নিত করা না যায় তবে জাতিকে কলঙ্কের ভার আরও বহুকাল বয়ে যেতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর বঙ্গবন্ধু ও জেলহত্যার বিচার কার্যক্রম শুরু করেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার শেষে অভিযুক্ত কয়েকজন হত্যাকারীকে শাস্তি প্রদান করা হলেও ৭ জন এখনও পলাতক। বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে জড়িতরাই ১৯৭৫ সালের ৩ নবেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাকারী চার জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী ও কামরুজ্জামানকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় ১৯৯৮ সালে নতুন করে দায়ের করা মামলার চার্জশীট দেয়া হয় ওই বছরের ১৫ অক্টোবর ২৩ জনকে অভিযুক্ত করে। ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ রায় প্রদান করেন। রায়ে পলাতক চারজনকে মৃত্যুদ- দেয়া হয়। এছাড়া বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদ-প্রাপ্ত চার আসামিসহ ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদ- দেয়া হয়েছিল। মোশতাকের মন্ত্রিসভার চার মন্ত্রীকে খালাস দেয়া হয় অথচ এরাও জড়িত ছিল ষড়যন্ত্রে। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপীল হলে আদালত মৃত্যুদ-প্রাপ্ত চার আসামির মধ্যে ২ জনকে খালাস দেয়। এমনকি যাবজ্জীবন কারাদ-প্রাপ্ত চারজনকেও খালাস দেয়া হয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে সরকার পক্ষ ২০০৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর আপীলের আবেদন করে। ২০১১ সালের ১১ জানুয়ারি আপীল আবেদন মঞ্জুর করা হয়। আপীলের অনুমতি পাবার এক বছর আট মাস পর সরকার পক্ষ ২০১২ সালের ১ নবেম্বর আপীলের সারসংক্ষেপ জমা দেয়। শুনানি শুরু হয় ২০১৩ সালে। ওই বছরের ১৩ এপ্রিল রায় প্রদান করা হয়। দুই বছর আট মাস পর এবার রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশ করা হলো। আদালত হত্যা মামলার রায় দিয়েছে কিন্তু হত্যার নেপথ্যে জড়িত ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করা হয়নি এই মামলায়। কারা হত্যার ষড়যন্ত্র করেছে, কারা প্ররোচিত করেছে সেসব দ্রুত তদন্ত প্রয়োজন। ষড়যন্ত্রকারীদের অনেকে মারা গেছে ঠিক কিন্তু তাদের মরণোত্তর বিচারের আওতায় আনার বিষয়টি ভাবা দরকার। দেশবাসীর কলঙ্কমোচনে সরকার সক্রিয় হবে- এটা সবারই কাম্য।