২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বেসরকারীভাবে এলএনজি আমদানি করার অনুমোদন দিল সরকার

  • দেশে জ্বালানি সঙ্কট সমাধানে সরকার বিকল্প জ্বালানি সংস্থানের চেষ্টা করছে

রশিদ মামুন ॥ সরকারের পাশাপাশি এবার বেসরকারী খাতেও তরলিকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির অনুমোদন দেয়া হচ্ছে। শীঘ্রই পেট্রোবাংলাকে একটি নীতিমালা করে জ্বালানি বিভাগে জমা দিতে বলা হয়েছে। সম্প্রতি একটি বেসরকারী কোম্পানির আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। এর ফলে এখন বেসরকারী যে কোন কোম্পানি চাইলে অনুমোদন সাপেক্ষে এলএনজি আমদানি করতে পারবে।

জ্বালানি বিভাগ সূত্র জানায়, দেশে জ্বালানি সঙ্কট সমাধানে সরকার ব্যাপক ভিত্তিতে বিকল্প জ্বালানি সংস্থানের চেষ্টা করছে। এক্ষেত্রে পেট্রোবাংলা এবং পাওয়ারসেল পৃথকভাবে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। এর বাইরে বেসরকারী কোম্পানিও এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। ওইসব প্রস্তাবগুলো যাচাই বাছাই করে অনুমোদন প্রক্রিয়ার মধ্যে রাখা হয়েছে। তবে কেউ কেউ স্বল্প পরিসরে এলএনজি আমদানি কারার প্রস্তাব নিয়ে আসছে। সম্প্রতি একটি বেসরকারী কোম্পানির এ ধরনের প্রস্তাব জ্বালানি বিভাগ অনুমোদন দিয়েছে।

জ্বালানি বিভাগ সূত্র জানায়, আমদানি নীতিমালা ২০১২-২০১৫ তে এলএনজি আমদানির উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু জ্বালানি বিভাগের এ সংক্রান্ত কোন নির্দিষ্ট নীতিমালা নেই। কিভাবে এলএনজি আমদানি হবে তার বিক্রি কোন পর্যায়ে করা যাবে সেসব এখনও ঠিক হয়নি। কাজেই কেউ এলএনজি এনে খোলা বাজারে বিক্রি করবে না সরকারের কাছে সরাসরি বিক্রি করতে পারবে তা নির্ধারণ হয়নি। এখনও এলপিজি ছাড়া অন্য জ্বালানি সরাসরি সরকারী কোম্পানির মাধ্যমে বিক্রি হয়।

মন্ত্রণালয়ের একজন পদস্থ কর্মকর্তা জানান, সাধারণত আমাদের এখানে গ্যাসের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় অনেক কম। সেক্ষেত্রে এলএনজি আমদানি করে বেসরকারী পর্যায়ে বিক্রি করতে গেলে ক্রেতারা প্রথমে আগ্রহী হবে না। এক দেশে দুই ধরনের জ্বালানির দাম তৈরি হবে। এতে বেসরকারী শিল্প উদ্যোক্তারা আগ্রহ হারাতে পারে। দেশে এখন শিল্পে সাধারণত গড়ে দেড় ডলারে প্রতিইউনিট গ্যাস বিক্রি হয়। শিল্পর ক্ষেত্রে এই দর এক থেকে তিন ডলারের মধ্যে। বিদ্যুত উৎপাদনে কম হলেও অন্যশিল্প ও বাণিজ্যে আনুপাতিক হারে গ্যাসের দর বেশি। এলএনজি আমদানির খরচ এবং পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করতে লেগে যাবে নয় ডলার। এক্ষেত্রে নয় ডলারে ক্রেতারা আগ্রহী হবে কি না তা নিয়ে সন্দীহান সংশ্লিষ্টরা।

সরকারী এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রেও এই গ্যাসের দর কি হবে তা নির্ধারণ হয়নি। তবে এখন বিপিসি যে জ্বালানি তেল বিক্রি করে সেক্ষেত্রে বেসরকারী কোন কোম্পানি তেল উৎপাদন করলে তা কিনে নিয়ে সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করা হয়। অর্থাৎ জ্বালানির মূল্য নির্ধারণের ক্ষমতা এখন সরকারের হাতে রয়েছে। এক হিসেবে দেখা যায় সরকার প্রাথমিকভাবে দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি আমদানি করে তা দেশীয় গ্যাসের দরের সঙ্গে সমন্বয় করে বিক্রি করলে একবারে গ্যাসের দাম অনেকটা বেড়ে যাবে। হিসেব বলছে সাড়ে চার ডলারে গিয়ে ঠেকবে প্রতিইউনিট গ্যাসের মূল্য। মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে একবারে এতটা দাম বৃদ্ধি করতে চাইলে তা কেউ মানতে চাইবে না। সেক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে গ্যাসের দর বৃদ্ধি করা হবে যাতে সকলের কাছে এলএনজি বিক্রির বিষয়টি সহনীয় হয়ে ওঠে। সরকারী উদ্যোগগুলোর মধ্যে দেখা যায় এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে এ্যাস্ট্রা অয়েল এ্যান্ড এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে অনুস্বাক্ষর (প্রাথমিক চুক্তি) করছে পেট্রোবাংলা। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে প্রাথমিক কার্যক্রম শেষে আগামী মাসে তাদের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি হতে পারে। প্রাথমিক চুক্তিতে রিগ্যাসিফিকেশনের মূল্য ৪৭ সেন্ট ধরা হয়েছে। মহেশখালীতে এ টার্মিনাল নির্মাণে ৫০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে ওই প্রতিষ্ঠানটি। চলতি মাসেই হওয়ার কথা রয়েছে। চূড়ান্ত চুক্তি হলে নির্মাণ কাজ শেষ করতে ১৬ মাস সময় লাগবে। এ টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হবে। টার্মিনাল ব্যবহারের জন্য ১৫ বছরের চুক্তি করবে পেট্রোবাংলা। নির্দিষ্ট মেয়াদের পর টার্মিনালটি মালিকানা পেট্রোবাংলাকে হস্তান্তর করা হবে।

পেট্রোবাংলার টার্মিনালটি ভাসমান হলেও পাওয়ারসেল মহেশখালীর মাতারবাড়িতে একটি ল্যান্ডবেজড স্থায়ী টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। পাওয়ারসেল বলছে বছরে ৩৫ লাখ টন এলএনজি আমদানি করা যাবে। বিল্ড ওন অপারেট ট্রান্সফার ভিত্তিতে টার্মিনালটি স্থাপনের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হলে ১৫ প্রতিষ্ঠান আবেদন করে। এর মধ্য থেকে পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে সংক্ষিপ্ত তালিকায় রাখা হয়েছে। এগুলো হলো ভারতের সর্ববৃহৎ এলএনজি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান পেট্রোনেট এলএনজি, এ্যাংলো-ডাচ সুপার মেজর শেল, চীনা হুয়াংকিউ কন্ট্র্রাকটিং এ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, বেলজিয়ামের ট্র্যাক্টেবেল ইঞ্জিনিয়ারিং ও জাপানের মিতসুই।

এছাড়া আরও দুটি এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জ্বালানি বিভাগ এই দুটি এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ করবে। মহেশখালী এবং পটুয়াখালীতে টার্মিনাল দুটি নির্মাণ করা হবে। প্রতি টার্মিনাল এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজিকে পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করতে পারবে। বিদ্যুত জ্বালানি সরবরাহ বিশেষ আইন-২০১০ এ টার্মিনাল নির্মাণের প্রস্তাব মূল্যায়নে জ্বালানি সচিবকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত নবেম্বরে এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপনও জারি করে জ্বালানি বিভাগ।