২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আইকনিক টাওয়ার

আইকনিক টাওয়ার
  • ২,১৪৫ ফুট উচ্চতার এ স্থাপনাটি হবে বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ ভবন;###;ব্যয় হবে ৬ হাজার কোটি টাকা;###;অর্থ বিনিয়োগ করবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কেসিসি গ্রুপ, যার কর্ণধার বাংলাদেশী

মশিউর রহমান খান ॥ রাজধানীর উপশহর পূর্বাচলে দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ ও বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ১৩০ তলা ভবনের সম্ভাব্য উচ্চতা হবে ২ হাজার ১৪৫ ফুট। প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে আন্তর্জাতিক কনভেনশন ও এক্সিবিশন সেন্টার হিসেবে ভবনটি নির্মাণ করা হবে রাজউকের উপশহর পূর্বাচলে। প্রকল্পের ১৯ নং সেক্টরের রাজউক ঘোষিত সেন্ট্রাল বিজনেস ডিস্ট্রিক্ট (সিবিডি) এলাকায় এটি নির্মাণ করা হবে বলে জানা গেছে। বর্তমানে বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন নির্মিত হচ্ছে সৌদি আরবের জেদ্দায়। দুই শ’ তলা এই ভবনের উচ্চতা হবে ৩ হাজার ২৮০ ফুট। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভবন ২০১০ সালে নির্মিত হয়েছে দুবাই। ১৬৩ তলা এই ভবনের উচ্চতা ২ হাজার ৭১৭ ফুট। এ ছাড়াও বিশ্বের অন্যান্য সুউচ্চ ভবনের মধ্যে রয়েছে সাংহাইয়ের ১২৩ তলা সাংহাই টাওয়ার এবং সৌদির মক্কায় ১২০ তলা মক্কা রয়াল ব্লক টাওয়ার। প্রতিবেশী দেশ ভারতের মুম্বেতে ১১০ তলা একটি ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া চলমান। বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স হিসেবে ঢাকার ভবনই হবে বাংলাদেশ তথা দক্ষিণ এশিয়ার সর্বোচ্চ ভবন। এ ছাড়া উচ্চতা ও আয়তনের দিক দিয়ে এটি হবে বিশ্বের সর্বোচ্চ তৃতীয় বৃহত্তম ভবন।

প্রস্তাবিত ভবনটির নাম হবে ‘কেপিসি বেঙ্গল টাওয়ার।’ ভবনটি ঘিরেই বাংলাদেশ তথা উন্নত বিশ্বের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক দেশের প্রশাসনিক সকল কর্মকা- সম্পাদিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকার ২০১৭ সালের মধ্যেই ভবনটি নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ভবনটি নির্মাণের পাশাপাশি ওই এলাকায় প্রশাসনিক কর্মকা- সম্পাদনে একটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। সামঞ্জস্য রক্ষায় ভবনটির আশপাশে আরও ৩০ থেকে ৪০ তলা কয়েকটি ভবন নির্মাণ করা হবে। পূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন জনকণ্ঠকে বলেন, সমগ্র বিশ্বে বাংলাদেশের আইকনিক টাওয়ার হিসেবে ভবনটির পরিচিতি হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে সম্মানিত আসনে অধিষ্ঠিত হবে। উন্নত বিশ্বের ন্যায় এ ভবন নির্মাণ পরিকল্পনার মাধ্যমে সরকার বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার দিকে অতি দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার আভাস দিচ্ছে। তিনি জানান, প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের সকল উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বাস্তবায়নকারী সংস্থা রাজউকের চেয়ারম্যান জিএম জয়নাল আবেদিন বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যেই রাজউকের পক্ষ থেকে ‘ফোকাল পয়েন্ট’ হিসেবে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক উজ্জ্বল মল্লিককে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তার মাধ্যমে ভবনটি নির্মাণে সর্বক্ষণিক তথ্য সরবরাহ, যোগাযোগ ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে ভবনের প্রযুক্তিগত সকল দিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করা যাবে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এ ভবন নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ তদারকি করবে। সরকার ও নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে ভবনটি নির্মাণের চিন্তা করা হচ্ছে। ভবনটি নির্মাণে ও বৃহৎ এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্পূর্ণ অর্থ বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ডেভেলপমেন্ট প্রতিষ্ঠান কেপিসি গ্রুপ; যার কর্ণধার একজন বাংলাদেশী।

দেশের ইতিহাসে বৃহত্তম ও সুউচ্চ বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের জন্য এ ভবনটি নির্মাণের লক্ষ্যে সরকার সংশ্লিষ্ট সকল সরকারী, বেসরকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় সকল সহযোগিতা প্রদানে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেছে। ভবনটি নির্মাণের প্রাথমিক কাজ অতিদ্রুত শুরু করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। ইতোমধ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী আগামী ৩ মাসের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নে জমি নির্ধারণসহ প্রযুক্তিগত সার্বিক প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন। ভবনটিতে যাতায়াতকারীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে গঠন করা হবে বিশেষ স্কোয়াড। এর আগে কেপিসি গ্রুপের পক্ষ থেকে গত ৮ অক্টোবর অর্থমন্ত্রী বরাবরে লেখা চিঠিতে আগামী ২০১৭ সালের মধ্যেই নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। বর্তমানে ভবনটি নির্মাণের জন্য অনানুষ্ঠানিকভাবে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তর, প্রকল্পটি কিভাবে বাস্তবায়ন করা হবে ও প্রকল্পে কি কি থাকবে তা নির্ধারণে পুরোদমে প্রস্তুতি চলছে।

গত ২৮ নবেম্বর ভবনটির নির্মাণ কাজ অতিদ্রুত কিভাবে শুরু করা যায় ও ভবিষ্যত করণীয় নিয়ে একটি জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় গণপূর্ত সচিব মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন আবদুল্লাহ, রাজউক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন ভূঁইয়া, গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী কবির আহমেদ ভূঁইয়াসহ রাজউকের উর্ধতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রস্তাবিত কনভেনশন সেন্টার ও এক্সিবিশন সেন্টারের নক্সাসহ বিভিন্ন বিষয় পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়। জানা গেছে, কেপিসি গ্রুপ এর আগে রাজধানীর কেরানীগঞ্জে সুউচ্চ এ কনভেনশন সেন্টার ও এক্সিবিশন সেন্টার হিসেবে ভবনটি নির্মাণের আগ্রহ দেখায়। সভায় গ্রুপের পক্ষ থেকে কেরানীগঞ্জের নির্ধারিত স্থানে বড় আকারে নৌপথভিত্তিক পর্যটন শিল্প গড়ে তোলার ইছা প্রকাশ করে। পরে অর্থমন্ত্রী এ নৌপথভিত্তিক পর্যটন শিল্প গড়ার পক্ষে সম্মতি প্রদান করেন। পাশাপাশি তা বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতারও আশ্বাস দেন অর্থমন্ত্রী। সভা শেষে সাংবাদিকদের কাছে অর্থমন্ত্রী বলেন, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০১৭ সালের মধ্যেই বিশাল এ ভবনটি নির্মাণ করা সম্ভব হবে। এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের একটি চুক্তি সম্পাদিত হবে।

জানা গেছে, সুউচ্চ ভবনটি নির্মাণে আগ্রহী মার্কিন প্রতিষ্ঠান কেপিসি গ্রুপ অতিদ্রুত শুরু করে ২০১৭ সালের মধ্যেই নির্মাণ কাজ শেষ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ইতোমধ্যে কেপিসি গ্রুপের পক্ষ থেকে পূর্বাচলের প্রস্তাবিত এলাকা কয়েকবার পরিদর্শন করা হয়েছে। কেপিসি গ্রুপের মালিক জন্মসূত্রে বাংলাদেশী। সিলেটের অধিবাসী ড. কালি প্রদীপ চৌধুরী বর্তমানে কেপিসি গ্রুপের প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন। ওই প্রবাসী বাংলাদেশী অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের সহপাঠী। ফলে অর্থমন্ত্রীর একান্ত আগ্রহে আর সরকারের বিশেষ উদ্যোগে সুউচ্চ ভবনটি নির্মাণের পাশাপাশি আরও বড় ধরনের বিনিয়োগে আগ্রহ দেখায় কেপিসি গ্রুপ।

রাজউক সূত্র জানায়, ১৩০ তলা মূল ভবনটির আশপাশে আরও ছোট ছোট ভবন নির্মাণ করা হবে। সরকার এ ধরনের সুউচ্চ ভবন নির্মাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার ঢাকার কাছাকাছি একটি আন্তর্জাতিক কনভেনশন ও এক্সিবিশন সেন্টার স্থাপনের জন্য জায়গা নির্বাচনের জন্য পূর্ত সচিবের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি সমন্বয়ের জন্য করা ওই কমিটিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, রেল মন্ত্রণালয় ও সড়ক বিভাগের প্রতিনিধিদের রাখা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের মধ্যেই পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ করা হবে। এমন ধারণা দিয়েছে আগ্রহী প্রতিষ্ঠান কেপিসি গ্রুপ। পরবর্তী ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের (আইডিবি) বার্ষিক বৈঠক বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হবে। নতুন এ কনভেনশন সেন্টারে যাতে সভাটি সম্পন্ন করা যায়, সে বিষয়টি সামনে রেখে প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এ অবস্থায় আনুষ্ঠানিকভাবে জমি হস্তান্তরের আগেই অর্থমন্ত্রী বিনিয়োগকারী সংস্থা কেপিসিকে প্রকল্প এলাকার মাটি পরীক্ষাসহ প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন করার অনুরোধ জানান। যার কাজ ইতোমধ্যে শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ইতোপূর্বে ঢাকার অদূরে কেরানীগঞ্জে আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার ও এক্সিবিশন সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এ নিয়ে কয়েকবার বৈঠকও করা হয়। প্রথমে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে চীনকে অনুরোধ জানানো হয়। চীন সম্মতি প্রদান করে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক কেপিসি ডেভেলপমেন্ট গ্রুপ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করে। দেশের মাটিতে জন্মগ্রহণকারী ধনাঢ্য ব্যক্তি ড. কালি প্রদীপ চৌধুরী দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে আগ্রহ প্রকাশ করায় সরকার প্রকল্প বাস্তবায়নে এ গ্রুপকে সম্মতি প্রদান করে। প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের সঙ্গে কেপিসি গ্রুপের কয়েক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সরকার চায় দেশের পরিচিতিকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা। এ লক্ষ্যেই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রথম প্রস্তাবকৃত কেরানীগঞ্জ থেকে সরে এসে আধুনিক ঢাকা হিসেবে গড়ে তুলতে রাজধানীর পূর্বাচলকে বেছে নেয়া হয়। এ ছাড়া কেরানীগঞ্জে যে স্থানটি প্রকল্পের জন্য নির্ধারণ করা হয় সেখানকার ভূপ্রকৃতি ও কিছু কারিগরি ত্রুটির কারণে ওই স্থানে ১৩০ তলার সুউচ্চ ভবন নির্মাণ করা সম্ভব নয়।

পূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্বাচলে বিশেষ বিনিয়োগের জন্য সেন্ট্রাল বিজনেস ডিস্ট্রিক্ট (সিবিডি) এলাকায় মোট ২৪৫ দশমিক ১২ একর জমি রাখা হয়েছে। ওই এলাকায় বিদেশী বিনিয়োগে বৃহৎ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রতিষ্ঠানটি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য মোট ৯৫ একর জমি চায়। পরবর্তীতে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে মোট ৫৬ একর জমিতে তাদের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলে প্রতিষ্ঠানটি মতামত দেয়। প্রস্তাবিত এ প্রকল্পটির জন্য ৫৬ দশমিক ৩ একর জমির প্রয়োজন হলেও উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনে ৬০ একর জায়গা দিতে চায় সরকার। যদিও সম্পূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও বেশি জমির চাহিদা রয়েছে। সরকার পূর্বাচলে বিভিন্ন সংস্থার বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে সয়েল টেস্ট করেছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা কেরানীগঞ্জের পরিবর্তে পূর্বাচলকেই বেছে নিয়েছে।

ঢাকা থেকে প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকায় যেতে মোট ১১টি প্রবেশপথ রয়েছে। প্রকল্পে ছয়তলাবিশিষ্ট ৬ হাজার ২৮৩টি আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হবে, যাতে ১৫ লাখ মানুষের আবাসন সমস্যার সমাধান হবে। মূল ১৩০ তলা ভবনটির আশপাশে সৌন্দর্যবর্ধন ও সামঞ্জস্য রক্ষায় ৩০ থেকে ৪০ তলাবিশিষ্ট আরও ৮ থেকে ১০টি ভবন নির্মাণ করা হবে। এছাড়াও ছোট ছোট অসংখ্য ভবন তৈরি করা হবে। প্রকল্পে কনভেনশন সেন্টার ছাড়াও আন্তর্জাতিক তথা বিশ্বমানের জরুরী অবতরণের জন্য বিশেষ হেলিপ্যাড, অত্যাধুনিক এন্টারটেনমেন্ট জোন, লাক্সারি এ্যাপার্টমেন্ট, ইমপ্রুভমেন্ট ইনফর্মেশন টেকনোলজি জোন, প্রকল্প এলাকায় খেলাধুলার জন্য আন্তর্জাতিকমানের স্টেডিয়াম, আধুনিক প্রযুক্তি সুবিধাসমৃদ্ধ সুইমিংপুল, আশপাশের এলাকায় গলফ খেলার জন্য বৃহৎ মাঠ, নারী, শিশু ও বয়স্কদের থাকার জন্য পৃথক আবাসন গড়ে তোলা, আধুনিক শপিংমলসহ নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকবে।

বৃহৎ এ ভবনের কনভেনশন সেন্টারে মোট ৬ হাজার আসনের দুটি গ্যালারি তৈরি করা হবে। এরমধ্যে ৫ হাজার আসনের একটি গ্যালারি ও ৫০০ আসনের দুটি গ্যালারি থাকবে। সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন ২০০ আসনের ১০টি সেমিনারকক্ষ তৈরি করা হবে। অত্যাধুনিক এই ভবনে সরকারের উন্নয়ন কর্মকা- সম্পাদনে বিশেষ ভূমিকা রাখতে সচিবালয়ের বাইরের অফিস হিসেবে প্রধানমন্ত্রীসহ অন্য মন্ত্রীদের প্রায় ১০০টি দফতর থাকবে, যাতে সরকারের প্রতিটি সংস্থার একটি করে কার্যালয় তৈরি করা হবে। বৃহৎ এ ভবনে যাতায়াতকারীদের জন্য ৫ হাজার গাড়ি রাখার কারপার্কিং ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া ক্যাফেটারিয়া, জিম, বিশ্বের অত্যাধুনিক সকল পণ্যের ব্র্যান্ডশপ ও চেইনশপের শাখা ও রেস্তরাঁ ব্যক্তিমালিকানায় তৈরি করা হবে। প্রকল্প এলাকার কাছাকাছি এলাকায় দুটি ফাইভস্টার হোটেল, একটি শপিং প্লাজা ও একটি এক্সিবিশন হল রাখা হবে। ভবনটি অত্যাধুনিক ও সর্বশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হবে। সম্পূর্ণ ভবনটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুদৃঢ় করতে বিশেষ সিকিউরিটি জোন গড়ে তোলা হবে। মোট কথা, প্রস্তাবিত ভবনটিকে আধুনিক বিশ্বের মডেল সুউচ্চ ভবন হিসেবে গড়তে প্রয়োজনীয় সবকিছু করা হবে। ভবনটি হবে দক্ষিণ এশিয়া তথা বিশ্বের অন্যতম ব্যবসাকেন্দ্র।

উল্লেখ্য, সরকারের নেয়া উদ্যোগ অনুযায়ী পূর্বাচল প্রকল্প হবে রাজধানী ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সব কার্যক্রমের প্রাণকেন্দ্র এবং একটি পরিকল্পিত সম্পূর্ণ শহর। গাজীপুরের কালীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও ঢাকার খিলক্ষেতের সামান্য অংশ নিয়ে পূর্বাচল প্রকল্প এলাকা গড়ে উঠেছে। প্রায় ছয় হাজার ১৫০ একর জায়গায় বিভিন্ন ধরনের প্রায় ২৭ হাজার প্লট নির্মাণ করা হচ্ছে। প্লটগুলোর মধ্যে ইতোমধ্যে ১২ হাজার প্লট হস্তান্তর ও লিজ ডিড করা হয়েছে। ৩০০ ফুটবিশিষ্ট প্রধান সড়কের কাজ ৮০ ভাগ ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ইতোমধ্যেই এ সড়কের দু’পাশে ১০০ ফুট করে দুটি খাল তৈরির প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এ রোডে বৈদ্যুতিক তার সংযোগের কাজও প্রায় শেষ। ভবন নির্মাণের জন্য অপরিহার্য কিছু সেবাপ্রদানকারী সংস্থা তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। কিছু ভবনের নক্সাও অনুমোদন করা হয়েছে।

প্রকল্পটির বিষয়ে জানতে চাইলে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন জনকণ্ঠকে বলেন, বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে আইকন হিসেবে তুলে ধরতে রাজধানীর পূর্বাচলে ১৩০ তলাবিশিষ্ট সুউচ্চ ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে, যেটি হবে বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ ভবন। অত্যাধুনিক এ ভবনটিতে উন্নত বিশ্বের এমন কিছু নেই যা থাকবে না। সরকার ভবনটি নির্মাণে ইতোমধ্যে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছে। তাদের চাহিদানুযায়ী প্রয়োজনীয় জমি বরাদ্দের জন্য সরকার রাজি হয়েছে, যা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া সৌন্দর্য রক্ষা ও সামঞ্জস্য নির্ধারণে ভবনটির আশপাশে ৩০ থেকে ৪০ তলাবিশিষ্ট কমপক্ষে ১০টি ভবন নির্মাণ করা হবে। এটি নির্মাণে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে, যার পুরোটাই বিনিয়োগ করবে মার্কিন ডেভেলপমেন্ট গ্রুপ কেপিসি। বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে নিরন্তর কাজ করছে। দেশও অতিদ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে চলছে। এরই অংশ হিসেবে এ ধরনের বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান জিএম জয়নাল আবেদিন বলেন, সরকার ঢাকার পাশে আরেকটি নতুন শহর হিসেবে গড়ে তুলতে পূর্বাচলকে বেছে নিয়েছে। পূর্বাচলকে আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে যা প্রয়োজন তাই করা হবে। এরই অংশ হিসেবে বিদেশী একটি প্রতিষ্ঠান পূর্বাচলে ১৩০ তলাবিশিষ্ট আধুনিক কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে, যার সম্পূর্ণ অর্থ বিনিয়োগ করবে আমেরিকান কেপিসি ডেভেলপমেন্ট গ্রুপ। ওই প্রকল্পে এ সুউচ্চ ভবনের পাশাপাশি অসংখ্য ভবন তৈরি করা হবে। বিশ্বে সিয়ার্স টাওয়ার যেমন আমেরিকার পরিচিতি বহন করে, সিডনির অপেরা হাউস যেমন অস্ট্রেলিয়ার প্রতীক, আইফেল টাওয়ার ফ্রান্সের গর্ব; ঠিক তেমনি সুউচ্চ এই বিশাল ভবনটি উন্নত বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের বিশেষ পরিচিতি বহন করবে। এ ভবনটিতে সরকারী, বেসরকারী, ব্যক্তিমালিকানাধীন বিশ্বের অসংখ্য বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক কার্যালয় থাকবে। পূর্বাচলের ১৯নং সেক্টরের রাজউক ঘোষিত সেন্ট্রাল বিজনেস ডিস্ট্রিক্ট (সিবিডি) এলাকায় এটি নির্মাণ করা হবে।