২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কাঁচা পাট রফতানি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ সকল ধরনের কাঁচা পাট রফতানি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। পণ্যে পাটের মোড়কের ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৃহস্পতিবার বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত এক আদেশে বলা হয়, পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০ এর সঠিক বাস্তবায়নের জন্য পাট অধ্যাদেশ ১৯৬২ এর ৪ ও ১৩ ধারা মোতাবেক যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সব ধরনের কাঁচা পাট রফতানি বন্ধ রাখা হলো। এর আগে ৩ নবেম্বর দেশের পাটকলগুলোর জন্য পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে এক মাস কাঁচা পাট রফতানি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় সরকার। এবার উৎপাদন কম হওয়ার কথা বলে পাটকল মালিকরা বেশ কিছুদিন ধরে কাঁচা পাট রফতানি নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে আসছিল। তবে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় বলছে, ডিসেম্বর থেকে পাটের বস্তা ব্যবহার বাধ্যতামূলক হওয়ায় প্রচুর পরিমাণে পাটের প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে সোমবার থেকে পণ্যে পাটের মোড়ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ধান, চাল, গম, ভুট্টা, সার ও চিনি সংরক্ষণ ও পরিবহনে পাটের বস্তা ব্যবহার নিশ্চিত করতে অভিযান চলছে। ওই ছয়টি পণ্য সংরক্ষণ ও পরিবহনে শতভাগ পাটের বস্তা ব্যবহার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে বলে জানানো হয়।

মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, সার্বিকভাবে দেশে বছরে প্রায় ১০ কোটি মোড়কের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে সরকারী পাটকলগুলো থেকে আসবে ৪ কোটি মোড়ক। বাকিটা বেসরকারী পাটকলগুলো থেকে আসবে।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, সরকারী পাটকলগুলোর কাছে এক কোটি ৪ লাখ পাটের মোড়ক (বস্তা) রয়েছে। বাকি বস্তা উৎপাদনের জন্য স্থানীয় বাজারে পাটের সরবরাহ বাড়াতে রফতানিতে এই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০ অনুযায়ী পাটের মোড়ক ব্যবহার না করলে অনুর্ধ এক বছর কারাদ- বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদ- বা উভয় দ-ের বিধান রয়েছে। ধান-চালে পাটের ব্যাগ ব্যবহার না করলে খাদ্য মন্ত্রণালয় চাতাল মিল মালিকদের লাইসেন্স এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আমদানি ও রফতানিকারকদের লাইসেন্স বাতিল করবে। ইতোমধ্যে কিছু মিল মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নিয়েছে এ সংক্রান্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দেশে ৭৫ লাখ বেল (এক বেলের ওজন ১৮২ কেজি) পাট উৎপাদিত হয়েছে, যা আগের বছরের ৬৫ হাজার বেল থেকে বেশি। তবে এবার পাটের ফলন কম হওয়ায় ৬৫ লাখ বেলের কাছাকাছি পাট উৎপাদিত হতে পারে বলে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ধারণা।

বাংলাদেশ থেকে কাঁচা পাটের পাশাপাশি পাট সুতা, বস্তা, চট ও পাটের তৈরি বিভিন্ন পণ্য রফতানি হয়। কাঁচা পাট বেশিরভাগটাই যায় ভারত ও পাকিস্তানে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে সোয়া নয় লাখ বেল কাঁচা পাট রফতানি হয়।