১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রতিবন্ধী সেবাকেন্দ্রে নির্বিচারে গুলি, নিহত ১৪

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বুধবার প্রতিবন্ধী সেবাকেন্দ্রে গুলি চালিয়ে ১৪ জনকে হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন দু’জনের পরিচয় মিলেছে। পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলিতে নিহত ওই দুই সন্দেহভাজন হলো সৈয়দ রিজওয়ান ফারুক (২৮) ও তাশফিন মালিক (২৭) নামে দুই মুসলিম যুগল। এদের মধ্যে ফারুক সান বারনারডিনো কাউন্টি স্বাস্থ্য বিভাগের পরিদর্শক হিসেবে কাজ করতেন বলে জানায় পুলিশ। নিহত নারীর নাম তাশফিন মালিক। বুধবার বেলা ১১টার দিকে সান বারনারডিনো শহরের ইনল্যান্ড রিজিওনাল সেন্টারে ওই হামলায় আরও অন্তত ১৭ জন আহত হন। খবর বিবিসি ও সিএনএন অনলাইনের।

সান বারনারডিনোর পুলিশ প্রধান জ্যারড বারজুয়ানের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, ফারুকের বান্ধবী তাশফিন। তারা স্বামী-স্ত্রীও হতে পারে। ফারুকের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে হলেও তাশফিনের জাতীয়তা নিয়ে নিশ্চিত কোন তথ্য জানাতে পারেনি পুলিশ।

সিএনএন জানায়, ইনল্যান্ড রিজিওনাল সেন্টারের একটি সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় জনস্বাস্থ্য বিভাগের হলিডে পার্টিতে হামলার এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও সরকারের কর্মকর্তাদের ধারণা, হলিডে পার্টিতে কয়েকজনের সঙ্গে ঝগড়ার পর বেরিয়ে যাওয়া এক ব্যক্তি এ হামলায় নেতৃত্ব দেন। পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, হলিডে পার্টি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর সশস্ত্র এক অথবা দু’জন সঙ্গীসহ ফিরে এসে গুলি চালান ওই ব্যক্তি।

সান বারনারডিনোর পুলিশ প্রধান বারজুয়ান বলেন, হামলাকারীরা যা করেছে, তার জন্য তাদের প্রস্তুতি ছিল। তাদের কোন মিশনও থাকতে পারে।

পুলিশ জানায়, হামলাকারীদের হাতে লম্বা বন্দুক ছিল। তাদের হাতে রাইফেল ও হ্যান্ডগান ছিল। তাদের পরনে ছিল কালো কমান্ডো পোশাক। হামলার পরপরই কালো রঙের এসইউভিতে করে পালানো সন্দেহভাজন হামলাকারীদের ধরতে অভিযান শুরু করে পুলিশ। অভিযানের এক পর্যায়ে পাশের রেডল্যান্ডস শহরের একটি এ্যাপার্টমেন্ট পুলিশ ঘিরে ফেলে। সে সময় কালো একটি এসইউভি গাড়ি নিয়ে দ্রুতগতিতে পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ সেটিকে ধাওয়া করে। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় দুই মাইল দূরে যাওয়ার পর পুলিশ গুলি চালিয়ে গাড়িটিকে থামতে বাধ্য করলে সেখানে বন্দুকধারীদের সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। গোলাগুলিতে দু’জন গাড়ির ভেতরেই নিহত হন বলে পুলিশ জানায়।

তৃতীয় আরেক ব্যক্তি সেসময় পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ সদস্যরা তাকে ধরে ফেলেন। তবে ওই ব্যক্তি হামলায় জড়িত কিনা তা নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। ওই এ্যাপার্টমেন্টে ফারুকের নিয়মিত যাতায়াত ছিল বলে তদন্তকারীদের ধারণা। পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে বিস্ফোরক যন্ত্রপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।

সিএনএন জানায়, সান বারনারডিনো স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মী ফারুকও সহকর্মীদের সঙ্গে হলিডে পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু হামলার কিছুক্ষণ আগেই বেরিয়ে যান তিনি। পুলিশ প্রধান বারজুয়ান বলেন, ফারুক অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেছিল। কয়েকটি কারণ দেখে মনে হচ্ছে, সে ক্ষুব্ধ ছিল এবং তাশফিনকে নিয়ে ফিরে এসেছিল।

কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশনসের নির্বাহী পরিচালক হুসাম আয়লুশ জানিয়েছেন, ফারুক এবং তাশফিনের পরিবার গত বুধবার সকাল থেকে দুইজনের নিখোঁজ থাকার কথা জানিয়েছিল। তবে ফারুক এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারেন সেটা বিশ্বাস করতে পারছেন না তার ভগ্নিপতি ফারহান খান। তিনি বলেন, আমি বুঝতে পারছি না, কেন সে এমন কাণ্ড করল। আমার কোন ধারণা নেই। আমি বিস্মিত।

সপ্তাহখানেক আগে ফারুকের সঙ্গে কথা হয়েছিল জানিয়ে ফারহান বলেন, এ ঘটনায় আমি বাকরুদ্ধ। কতটা ভেঙে পড়েছি তা বোঝাতে পারব না।

হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ফারুকের দুই সহকর্মী লস এ্যাঞ্জেলেস টাইমসকে বলেন, এ ঘটনায় ফারুক জড়িত এটা শুনে আমরা মর্মাহত। কারণ সে ছিল খুবই শান্ত এবং ভদ্র। কোন ধরনের খারাপ কাজের সঙ্গে সে যুক্ত ছিল না। টাইমস জানায়, ফারুক সম্প্রতি সৌদি আরব গিয়েছিল। অনলাইনে পরিচয়ের সূত্র ধরে সেখানে যায় এবং নতুন বউ নিয়ে ফিরে আসে। স্বাস্থ্য পরিদর্শক প্যাট্রিক বাকারি বলেন, তাদের ছয় মাস বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

হামলায় নিহত ১৪ জনের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি পুলিশ। এ হামলায় হতাহত সবাই ফারুকের সহকর্মী। গোলাগুলিতে এক পুলিশ কর্মকর্তাও আহত হন। তবে তার আঘাত গুরুতর নয়। এ হামলার বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায় পুলিশ। কর্মস্থলে ঝামেলার কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে পুলিশ ধারণা করলেও জঙ্গীদের যোগসূত্রের বিষয়টিও উড়িয়ে দেয়নি।