২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিপুল উৎসাহে পৌর নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা

  • বিস্তারিত ১০ ও ১১ পৃষ্ঠায়

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সারাদেশে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন পৌরসভা নির্বাচনের মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীরা। বৃহস্পতিবার শেষ দিনে দলের মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীদের পাশাপাশি অনেক স্বতন্ত্র প্রার্থী এ নির্বাচনে মেয়র পদে তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এছাড়া কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীর সবাই নির্দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তারা আগামীকাল শনিবার থেকে এসব মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করবেন। রবিবার যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবেন। তবে বৈধ প্রার্থীদের কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে না চাইলে ১৩ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারবেন। আর বাছাইয়ে যাদের প্রার্থিতা বাদ পড়বে তারা তিনদিনের মধ্যে আপীল করতে পারবেন।

এবার পৌরসভা নির্বাচন দলীয়ভিত্তিক হওয়ায় সব পৌরসভায় মনোনয়নপত্র জমাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীকে দলের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে। দলীয় প্রার্থীর পক্ষে শ্লোগান দেয়া হয়েছে। তবে আচরণবিধি অনুযায়ী শোভাযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় কোন প্রার্থীকে শোভাযাত্রা সহকারে মনোনয়নপত্র জমা দিতে দেখা যায়নি। তবে মনোনয়নপত্র জমাদানকে কেন্দ্র করে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে সারাদিন ভিড় লেগে ছিল। শেষ পর্যন্ত অপ্রীতিকর কোন ঘটনা ছাড়াই সব প্রার্থীই নির্বিঘেœ মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। কমিশন জানিয়েছে, মনোনয়নপত্র জমা উপলক্ষে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

তবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাচাই-বাছাই শেষে যারা এ নির্বাচনে বৈধ প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হবেন তারা আগামী ৯ ডিসেম্বর থেকে প্রতীক ছাড়া বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইতে পারবেন। তবে প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী প্রচার চালাতে পারবেন ১৪ ডিসেম্বর থেকে। ইসি জানিয়েছে ১৩ ডিসেম্বর প্রত্যহার শেষে ১৪ ডিসেম্বর বৈধ প্রার্থীর অনুকূলে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে। ইসি প্রণীত আচরণ বিধির ৫ নম্বর ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে কোন প্রার্থী বা রাজনৈতিক দল কিংবা তাদের মনোনীত প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা তার পক্ষে অন্য কোন ব্যক্তি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান ভোট গ্রহণের জন্য নির্ধারিত দিনের ৩ সপ্তাহ পূর্বে কোন ধরনের নির্বাচনী প্রচার শুরু করতে পারবেন না। তবে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন সাধারণত কোন নির্বাচনে ৪০ থেকে ৪৫ দিন হাতে রেখে তফসিল ঘোষণা করা হয়। প্রার্থীরা প্রচারের জন্য ২১ দিন সময় হাতে পান। কিন্তু এবার কম সময় নিয়ে তফসিল ঘোষণার কারণে ৯ তারিখ থেকেই নির্বাচনী প্রচার চালাতে পারবেন।

সারাদেশে ২৩৫ পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৩০ ডিসেম্বর। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সব কয়টি পৌরসভায় শেষ দিনে তাদের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এছাড়া বিএনপি জোটের পক্ষ থেকেও সব পৌরসভায় তাদের প্রার্থীরাও নিজ নিজ এলাকার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। পাশাপাশি জাতীয় পার্টি, জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টিসহ অন্য রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে এ দিনে তাদের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে পৌরসভা নির্বাচনে ২০টি রাজনৈতিক দল অংশ নিলেও মূলত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কার সঙ্গে বিএনপির ধানের শীষ মার্কার।

সারাদেশে ২৩৫ পৌরসভায় দলীয়ভাবে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পাশাপাশি আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তাদের মনোনয়নপ্রাপ্ত একক মেয়র প্রার্থীর তালিকা নির্বাচন কমিশনেও জমা দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে ৩টার দিকে ইসির যুগ্ম সচিব জেসমিন টুলীর কাছে আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থীর তালিকা জমা দেন। পরে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইসির ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী দল মনোনীত মেয়র প্রার্থীর তালিকা নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া হয়েছে। দলের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাক্ষরিত প্রত্যয়নের মাধ্যমে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে ইসির যুগ্ম সচিব জেসমীন টুলী বলেন, প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেবেন রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে। তবে কেউ যদি ইসিতে এ তালিকা জমা দেন সেটা হবে দলীয় প্রার্থীর বিষয়ে ইসিকে নিশ্চিত করা মাত্র।

নির্বাচন কমিশনার মোঃ শাহনেওয়াজ বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, পৌরসভা নির্বাচন সুষ্ঠু করতে কমিশনের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রার্থীরা যাতে নির্বিঘেœ মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেন সেজন্য আগেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেয়া হয়। তিনি জানান, কয়েকটি জায়গা থেকে অভিযোগ এসেছে, প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা দেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা রাখতে হবে। কোন ধরনের অনিয়ম সম্পর্কে ইসিকে অবহিত করা হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া হবে। নির্বাচনে সমস্যা হবে না। অস্বাভাবিক কিছুও ঘটবে না। ঘটলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি জানান আগামী ৯ ডিসেম্বরের আগে প্রচার চালালে প্রার্থিতা বাতিল করা হবে। নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোকে কমিশনের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভোটগ্রহণের আগেই কমিশনের প্রতি অবিশ্বাস জানালে কিছু করার নেই। মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় বিএনপির প্রার্থীদের বাধা দেয়া হচ্ছে এমন অভিযোগ পুরোপুরি সত্য নয় দাবি করে নির্বাচন কমিশনার বলেন, সবাই যেন সমান সুযোগ পায় সে বিষয়ে মাঠপর্যায়ে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসার সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার পোলিং অফিসার ও এজেন্ট নিয়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের উপসচিব সামসুল আলম স্বাক্ষরিত পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, নির্বাচনী এজেন্ট ও পোলিং এজেন্ট নিয়োগে সৎ, দক্ষ, অভিজ্ঞ ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের যেন নিয়োগ দেয়া হয়। এসব কর্মকর্তা নিয়োগ করে ৮ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে এবং ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে এসব তালিকা নির্বাচন কমিশনে পাঠাতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে এসব কর্মকর্তা নিয়োগে কোন প্রার্থীর অধীন বা পক্ষে কর্মরত আছেন বা ছিলেন এমন কোন ব্যক্তিকে প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার বা পোলিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেয়া যাবে না। পৌরসভার মেয়র, সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে নির্বাচন যাতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করা যায়, সে লক্ষে সৎ, দক্ষ, অভিজ্ঞ ও নিরপেক্ষ কর্মকর্তা-কর্মকর্তাগণকে প্রিসাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করতে হবে।