১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

উবাচ

‘হেব্বি পেটাবো’

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সব সময় পার্মানেন্ট সরকারী দলের ছত্রছায়ায় দেশে যত্তসব অবৈধ দখল হয়ে থাকে। সরকার যায় আসে, কিন্তু এই দখলদাররা থেকে যায় বহাল তবিয়তে। কেবল তোলাবাজির ভাগটা যেখানে জমা পড়ে সেই ঝোলার পরিবর্তন হয়। আবার উচ্ছেদে গেলে উচ্ছেদকারীদের উল্টো হামলার শিকার হতে হয়। কখনও কখনও বেঁধে রাখার ঘটনাও ঘটে। কিন্তু বের হয়ে কেউ কি আর তা স্বীকার করতে চায়? তাহলে মান যাবে যে! পরিত্রাণ পাওয়ার পরে তারকাযুক্ত হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে বলা হয়, আবার এমন করলে না হেব্বি পেটাবো। কয়েক দিন আগে ঢাকার ট্রাকস্ট্যান্ডের অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযান এমন সব অভিজ্ঞতার জন্ম দিয়েছে। উচ্ছেদ অভিযানের ঠিক আগের দিন গণমাধ্যমে পাঠানো ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আমন্ত্রণপত্রে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, নৌমন্ত্রী শাজাহান খান ও রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের থাকার কথা জানানো হলেও অভিযানে শুধু রেলমন্ত্রীই ছিলেন। তেজগাঁও এলাকার সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান কামাল, তার ওপর তিনি আবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামলান। পুলিশ ওঠে-বসে যার চোখের ইশারায়। আর পরিবহন শ্রমিকদের নেতা শাজাহান খানের আঙ্গুল হেলনি তো অনেক অসম্ভবকে সম্ভব করে দেয়। ঠিক অনন্ত জলিলের মতো। কিন্তু তাদের দু’জনের একজনও সেখানে গেলেনই না। রেলের জমি দখল করে এমন অবৈধ কাজ কারবার বলে রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক ছুটে গিয়েছিলেন। যদি আনিসুল হকের ঘাড়ে ভর করে উদ্ধার করা যায়! কিন্তু তিনি মেয়রকে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান ড্রাইভার্স ইউনিয়নের অফিসে রেখে কেটে পড়েন । এই বয়সে কি আর এত ধক্কল সহ্য হয়? কিন্তু আংশিক ঢাকার প্রিয় মেয়র তো দমে যাওয়ার পাত্র নন, তিনি একাই এক শ’। তাই তো পরের দিন আর উচ্ছেদ ফুচ্ছেদের দিকে গেলেন না। সরাসরি এক হোটেলে গিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বললেন, আবার যদি এমন করো না হেব্বি হেব্বি পেটাবো কিন্তু। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, আবার লাগবে কেন, ওদিন আপনার বুঝি ভয় লেগেছিল?

‘মেরুদণ্ডের এক্স-রে করুন’

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নির্বাচন কমিশনকে মেরদ-হীন বলার পর কমিশনকে এক্স-রে করে মেরুদ- পরীক্ষার পরামর্শ দিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ। বুধবার রাজধানীর বনানী কার্যালয়ে একটি যোগদান অনুষ্ঠানে জাপা চেয়ারম্যান এ কথা বলেন। এরশাদ অবশ্য বিএনপির মতো কেবল অযথাই বিতর্ক তোলেননি। কমিশনের শক্তি প্রমাণের এটাই যে উপযুক্ত সময় তাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি।

অনুষ্ঠানে এরশাদ নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ করে বলেন, এক্স-রে করে দেখুন আপনাদের মেরুদ- ঠিক আছে কি-না। আপনাদের মেরুদ- আছে কি নেই, তা প্রমাণের এটিই সবচেয়ে ভাল সময়। এই পৌরসভা নির্বাচনেই প্রমাণ হবে কমিশন স্বাধীন না পরাধীন। এরশাদ সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, ‘নির্বাচনে ইউএনও, এডিসিদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তারা কি সরকারের বাইরে গিয়ে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন? তারা সরকারের বাইরে গিয়ে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন কি-না, এ নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।’ সংসদ সদস্যদের প্রচারের সুযোগ না রাখায় অবশ্য সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, এমপিদের নির্বাচনী প্রচারের সুযোগ না দিয়ে ভালই করেছে নির্বাচন কমিশন। এখন প্রার্থীরা নিজ যোগ্যতায় বেরিয়ে আসতে পারবেন। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু করা সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ। এর ঠিক একদিন আগেই নির্বাচন কমিশনকে মেরদ-হীন, ঋজু বলে অভিহিত করেছিলেন বিএনপির মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন।

‘চুড়ি নেবে গো চুড়ি’

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ‘চুড়ি নেবে গো চুড়ি’ আমাদের দেশের এক শ্রেণীর লোক বাড়ি বাড়ি ফেরি করে এভাবেই চুড়ি বিক্রি করতেন। এখন সময় এসেছে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিদ্যুতের লোকজন বলবে বিদ্যুত লাগবে, বিদ্যুত। ২০০১ সালে ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার সময় ৪৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত রেখে গিয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে ২০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত পেয়েছি। গত সাত বছরে আমরা সেই বিদ্যুত ১৩ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করেছি। আরও বিদ্যুত আসছে ভুটান, নেপাল ও ভারত থেকে। একই সঙ্গে আমরাও দেশে পারমাণবিক ও কয়লা বিদ্যুতকেন্দ্রসহ বড় বড় বিদ্যুতকেন্দ্র তৈরি করছি। তাই খুব শীঘ্রই ফেরিওয়ালার মতো বিদ্যুতের লোকদেরও বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফেরি করে বিদ্যুত বিক্রি করতে হবে। কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থানা মাঠে বিদ্যুতবিহীন বাড়িতে সোলার হ্যাজাক লাইট বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। নিঃসন্দেহে পরিস্থিতি আগের তুলনায় ভাল। তবে এতটা ভাল কবে হবে সে কথা কেউ জানে না। কারণ এখনও অন্তত ৪০ শতাংশ মানুষ গ্রিড লাইনের বাইরে অবস্থান করে। আর ৩৫ শতাংশ মানুষ প্রতিদিন কেরোসিনের বাতি জ্বালায়। সরকার উচ্চবিত্তদের সুবিধা হয়ে যাবে এমনটা ভেবে প্রান্তিক মানুষের জ্বালানি কেরোসিনের দাম কমাচ্ছে না। এসব মানুষের কথা ভেবে দেখার দাবিও করছেন সংশ্লিষ্টরা। পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন এখন লাভ করছে। একেবারে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পকেট না কাটলেও তাদের লাভের মাত্রা কমবে না।