১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি

বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি

মোরসালিন মিজান ॥ মাত্র দশ দিনের মতো বাকি। এরপর শীত। শীতের আনুষ্ঠানিক শুরু। সঙ্গত কারণেই নতুন ঋতুর আগমনী বার্তা দিতে শুরু করেছে প্রকৃতি। খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠলে বেশ টের পাওয়া যায়। মনে হয়, শীতের সকাল। হালকা কুয়াশা রাজধানী ঢাকাকে যেন ঢেকে দিয়ে যায়। শীতটা এ সময় বেশ উপভোগ্য। সকাল বেলার রোদও মিষ্টি খুব। বিশেষ করে ভাগ্য বঞ্চিত মানুষ এই রোদ থেকে যতটা সম্ভব উষ্ণতা খুঁজে নেয়। আর গাছ? পশু পাখি? কতটা রাখে শীতের খবর? মিরপুরের জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান ঘুরে সে উত্তর পাওয়া গেল। এখানে বিশাল জায়গা। অসংখ্য গাছ। এমন অনেক গাছের দেখা মিলল, যেসব গাছে কোন পাতা নেই। সব পাতা ঝরে গেছে। গাছের নিচে শুকনো পাতার স্তূপ। পা ফেলতেই মড় মড় শব্দ হয়। বোঝা হয়ে যায়, শীত আসছে। কিছু গাছ আবার মরে ‘ভূত’ হয়ে গেছে। না, শীতের জন্য নয়। স্বাভাবিক নিয়মেই হয়ত অবসান হয়েছে জীবনের। উদ্যানে প্রবেশ করে সামান্য এগোতেই তেমন একটি গাছ। মরা গাছ শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। সেই কাঠে অসংখ্য ফাটল। দেখে মনে হয় ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর কোন ভাস্কর্য। শিল্পী ভাস্কর্যকে ভাষা দেন। প্রাণ সঞ্চালনের শৈল্পিক চেষ্টা করেন। আর এই ভাস্কর্যের ভেতরে সত্যি সত্যি প্রাণ! খোড়লের ভেতর থেকে তীক্ষè দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল একটি পেঁচা। মাঝে মাঝে শরীরের একাংশ বাইরের দিকে ঠেলে দিচ্ছিল। এই ঠেলে দেয়া, শরীর মেলে ধরে রোদের দিকে। হ্যাঁ, স্পটেড আউল বা খোড়ল পেঁচার সকাল বেলার রোদ পোহানোর দৃশ্য দেখে আরও একবার বোঝা হয়, শীত আসছে।

বৃহস্পতিবার ছিল বাংলা একাডেমির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। বাঙালী জাতিসত্তা ও বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষের প্রতীক বাংলা একাডেমি এদিন প্রতিষ্ঠার ষাট বছর পূর্ণ করে। বড় খবর বটে। এ উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী হীরকজয়ন্তী উৎসবের আয়োজন করে সরকারী এ প্রতিষ্ঠান। গৌরব ও ঐতিহ্যের ছয় দশক পূর্তি অনুষ্ঠানের প্রথম দিন লেখক কবি ও বিশিষ্টজনদের উপস্থিতিতে মুখরিত ছিল একাডেমি প্রাঙ্গণ। সকালে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধি সৌধ এবং ভাষাবিজ্ঞানী ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র সমাধিতে একাডেমির পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা করা হয়। বিকেলে একাডেমির সদস্য ফেলো কবি লেখক ও বুদ্ধিজীবীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে হীরকজয়ন্তী স্মারক বক্তৃতা করেন ভারতের চেন্নাইয়ের বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক ভি বি গণেশন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। পশ্চিমবঙ্গ থেকে যোগ দিয়েছিলেন শাঁওলী মিত্র ও বারিদবরণ ঘোষ। বাংলা একাডেমির সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তৃতা করেন মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। উদ্যাপনের অংশ হিসেবে একাডেমির নভেরা প্রদর্শনী কক্ষে ‘বাঙালী মনীষার দীপ্ত প্রতিকৃতি’ শীর্ষক প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। সন্ধ্যায় ছিল সঙ্গীতানুষ্ঠান। আজ শুক্রবারও নানা আয়োজনে হীরকজয়ন্তী উদ্যাপন করবে বাংলা একাডেমি।

বেঙ্গল উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত উৎসবের সফল পরিসমাপ্তির কথাটিও বলা প্রয়োজন। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের বিপুল বিশাল আয়োজনে এবারও মুখরিত ছিল আর্মি স্টেডিয়াম। পাঁচ দিনব্যাপী উৎসব শুরু হয়েছিল ২৭ নবেম্বর। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়ে চলেছে ভোর রাত পর্যন্ত। উপমহাদেশের কিংবদন্তি শিল্পী প-িত এবং ওস্তাদরা অংশ নেন উৎসবে। পরিবেশন করেন কণ্ঠ ও যন্ত্রসঙ্গীত। প-িত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়ার জাদুকরি বাঁশি, ওস্তাদ জাকির হোসেনের তবলা যেন এখনও কানে বাজছে! আরও কত কত শিল্পীর মন মাতানো পরিবেশনা! রেশ রয়ে গেছে। সর্বোপরি বাংলাদেশ সম্পর্কে সাম্প্রতিক সময়ে যারা ভীতি ছড়াচ্ছিল সেই গোষ্ঠীর গালে কষে চড় মারতে সক্ষম হয়েছে বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলির শহর ঢাকা। এর দরকার ছিল বৈকি!