২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সরকারী চাকুরেদের বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন রবিবার

  • ভেটিং সম্পন্ন

এম শাহজাহান ॥ সরকারী চাকুরেদের জন্য করা অষ্টম পে-স্কেলের ভেটিং সম্পন্ন করেছে আইন মন্ত্রণালয়। আর তাই আগামী রবিবারই অষ্টম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার বিকেলে ভেটিং শেষে পে-স্কেল অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমদের স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হয়েছে। তার স্বাক্ষরের পর আবার আইন মন্ত্রণালয় হয়ে গেজেট প্রকাশের জন্য বিজি প্রেসে পাঠানো হবে। তবে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রবিবার নাগাদ গেজেট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মূলত গেজেট প্রকাশের মধ্য দিয়ে সরকারী চাকুরেদের বহুল প্রত্যাশিত নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।

জানা গেছে, অষ্টম পে-স্কেলে বেতন-ভাতা প্রায় দ্বিগুণের বেশি হলেও শুধু টাইমস্কেল ও সিলেকশ গ্রেড ইস্যুতে সরকারী চাকুরেদের মধ্যে এক ধরনের চাপা অস্বস্তি ছিল। এটি বহাল রাখার জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠন থেকে সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আসছিল। যদিও অষ্টম পে-স্কেল কার্যকর করতে বিলম্বের কারণে বিভিন্ন ক্যাডারের কর্মকর্তারা তাদের প্রাপ্য সিলেকশন গ্রেড বুঝে নিয়েছেন। সরকারের ২৮ ক্যাডারের মধ্যে কমপক্ষে আট ক্যাডারে ২ হাজার ৫০২ কর্মকর্তা সিলেকশন গ্রেড পেয়েছেন। এদের অধিকাংশই ২৪তম বিসিএস ক্যাডারের কর্মকর্তা। এছাড়া সমবায় ক্যাডারের কর্মকর্তারা চার বছর পূর্তিতে প্রথম সিলেকশন গ্রেড পেয়েছন। পররাষ্ট্র, কাস্টমসহ কয়েকটি ক্যাডারের কর্মকর্তারা পদোন্নতি পেয়ে ইতোমধ্যে পঞ্চম গ্রেডে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। মূলত টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের আওতায় সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেতন বৃদ্ধির সুবিধা পেয়ে থাকেন।

তবে নিজ মন্ত্রণালয়ের সক্ষমতার ঘাটতি থাকায় বাকি ক্যাডারের কর্মকর্তাদের এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকি ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ২০ ক্যাডার নিয়োগবিধি ও হিসাব-নিকাশ চূড়ান্ত করে তাদের সিলেকশন গ্রেড পাওয়ার চেষ্টা তদবির চালিয়ে আসছিলেন। এই পরিস্থিতিতে অষ্টম পে-স্কেল নিয়ে এক ধরনের জটিলতা তৈরি হয়। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরামর্শে শেষ পর্যন্ত সবাইকে সন্তুষ্ট রাখার মতো একটি পে-স্কেল অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রণয়ন করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত এটির ভেটিং সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যদিয়ে অষ্টম পে-স্কেল বাস্তবায়নের পথ সুগম হলো।

জানা গেছে, রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে নিয়মিত মাসিক বেতন-ভাতা পাচ্ছেন দেশের প্রায় ২১ লাখ সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী। এর মধ্যে সরকারী চাকরিজীবীর সংখ্যাই প্রায় ১৪ লাখ। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত, উন্নয়ন প্রকল্পে নিয়োজিত চাকরিজীবীরা এ হিসাবের বাইরে রয়েছেন। যদিও তারা সবাই সরকারী কোষাগার থেকে নিয়মিত বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। ওই হিসেবে দেশে বর্তমানে ২১ লাখ কর্মরত রয়েছেন, যারা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে নিয়মিত মাসিক বেতন পাচ্ছেন।

জানা গেছে, টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহালের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। এরপরই অর্থমন্ত্রীর এ বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিতে কাজ শুরু করেন। অর্থমন্ত্রী টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের বিষয়টি পুনর্বহালের আশ্বাস দেন। তবে শেষ পর্যন্ত টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের বিষয়টি কিভাবে সমন্বয় করা হচ্ছে তা নিয়ে এখনও এক ধরনের ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে এ প্রসঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জনকণ্ঠকে বলেন, টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের বিষয়টি হুবহু আগের মতো বহাল না থাকলেও অষ্টম পে-স্কেলে কাউকে বঞ্চিত করা হয়নি। সবাই যাতে খুশি হউন, ভাল থাকেন সেইভাবেই করা হয়েছে। সময় মতো সবাই তা জানতে পারবেন।

সূত্র মতে, ড. ফরাশউদ্দিন নেতৃত্বাধীন অষ্টম বেতন কমিশন টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বহাল না রাখার পক্ষে যুক্তি দিয়ে এটি বাদ দিয়েছিল। পরবর্তীতে সচিব কমিটিও এটি না রাখার পক্ষে অবস্থান নেয়ায় এটি বাদ দিয়েই অষ্টম পে-স্কেল মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পায়।

প্রসঙ্গত ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত পে কমিশনের গত বছর ডিসেম্বরের শেষ দিকে জমা দেয়া মূল প্রতিবেদনে সর্বনিম্ন ধাপের মূল বেতন ছিল ৮ হাজার ২০০ টাকা। এরপর গত ৭ সেপ্টেম্বর সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার এবং সর্বনিম্ন ৮ হাজার ২৫০ টাকা মূল ধরে নতুন বেতন কাঠামো করার সুপারিশ করে সচিব কমিটি।