১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নিকলীর রাজাকার কমান্ডার হুসাইন ও মোসলেমের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ

  • যুদ্ধাপরাধী বিচার

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে পলাতক কিশোরগঞ্জের নিকলীর রাজাকার কমান্ডার সৈয়দ মোঃ হুসাইন ও মোহাম্মদ মোসলেম প্রধানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেছেন প্রসিকিউশন। এ অভিযোগ আমলে নেয়ার বিষয়ে আগামী ২৯ ডিসেম্বর আদেশের দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। বিচারপতি মোঃ শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে দুই সদস্য বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বৃহস্পতিবার এ আদেশ প্রদান করেছেন। চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হক বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন। এ সময় আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ। অন্য প্রসিকিউটরদের মধ্যে ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বল, প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা চমর উপস্থিত ছিলেন।

হুসাইন-মোসলেমের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগে হত্যা-গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, আটক, অপহরণ ও নির্যাতনের ছয় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৬২ জনকে হত্যা-গণহত্যা, ১১ জনকে অপহরণ, আটক ও নির্যাতন এবং দুই শ’ ৫০টি বাড়িঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হরি দেবনাথ গত বছরের ১৩ নবেম্বর থেকে গত ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ নয় মাস ২৫ দিন তাদের অপরাধের তদন্ত শেষ করেন। ৭ অক্টোবর তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ ও পরে প্রসিকিউশনের কাছে হস্তান্তর করেন তদন্ত সংস্থা। তদন্ত চলাকালে ৬০ জনের জবানবন্দী গ্রহণ করা হয়েছে। আর দুই আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবেন ৪০ সাক্ষী। ৭ জুলাই রাজাকার কমান্ডার সৈয়দ মোঃ হুসাইন (৬৪) ও তার সহযোগী মোহাম্মদ মোসলেম প্রধানের (৬৬) বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল-২। এরপর নিকলী উপজেলার কামারহাটি গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে মোসলেমকে গ্রেফতার করা হলেও হুসাইন পলাতক।

এ মামলার প্রধান আসামি পলাতক সৈয়দ মোঃ হুসাইন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত কিশোরগঞ্জের তাড়াইল থানার রাজাকার কমান্ডার পলাতক সৈয়দ মোঃ হাসান আলী ওরফে হাছেন আলীর ছোট ভাই। হাসান আলীকে গত ৯ জুন ফাঁসি অথবা ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদ-াদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল-১। তার বিরুদ্ধে আনা ছয় মানবতাবিরোধী অভিযোগের মধ্যে পাঁচটিই প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সর্বোচ্চ এ দণ্ড দেয়া হয়েছে।