২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ব্রিটিশ বিমান হামলা শুরু

  • পার্লামেন্টে আইএসের ওপর বোমাবর্ষণ অনুমোদন ॥ পক্ষে ৩৯৭ এবং বিপক্ষে ২২৩ ভোট

ব্রিটিশ বোমারু বিমানগুলো বৃহস্পতিবার সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের (আইএস) ওপর তাদের প্রথম হামলা চালায়। এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সেদেশে জঙ্গীদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পক্ষে ভোট দেয়। এ ভোটাভুটির পরপরই রাজকীয় বিমানবাহিনীর চারটি টর্নেডো জেট হামলার উদ্দেশ্যে সাইপ্রাস ব্রিটিশ বিমান ঘাঁটি এ্যাকরোটিরি থেকে সিরিয়ার উদ্দেশে রওনা দেয়। আইএস নিয়ন্ত্রিত পূর্ব সিরিয়ার ওমর তেলক্ষেত্রে বোমাবর্ষণ ‘সফল’ হয়েছে বলে প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইকেল ফ্যালন জানান। এভাবে সিরিয়ায় আইএসবিরোধী লড়াইয়ে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দিল ব্রিটেন। খবর বিবিসি, ডেইলি এক্সপ্রেস, ওয়াশিংটন পোস্ট অনলাইনের।

ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সামরিক অভিযানের অনুমতি দেয়ার পরপরই সিরিয়ায় আইএসের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা শুরু হয়েছে। বিবিসি জানায়, ছেড়ে যাওয়া বিমানগুলো ছাড়াও ঘাঁটিতে আরও চারটি যুদ্ধবিমানকে ‘প্রস্তুত’ রাখা হয়েছে। সিরিয়ায় আইএস জঙ্গীগোষ্ঠীর ওপর বিমান হামলা চালাতে বুধবার যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের আনা প্রস্তাবের ওপর ১০ ঘণ্টা আলোচনা হয়। এরপর ভোটাভুটিতে হামলার পক্ষে মত দেন ৩৯৭ জন এমপি, বিপক্ষে ভোট পড়ে ২২৩টি। বিরোধী লেবার পার্টির প্রধান জেরমি করবিন প্রস্তাবের বিপক্ষে অবস্থান নিলেও তার দলের ৬৬ জন এমপি বিমান হামলার পক্ষে ভোট দেন।

ফ্যালন বলেন, বোমা হামলার লক্ষ্য ছিল দায়েশের তেল ও রাজস্বের প্রকৃত ক্ষতিসাধন করা। তিনি বলেন, তিনি কমনসের ভোটাভুটির আগে ব্যক্তিগতভাবে হামলার লক্ষ্যস্থল অনুমোদন করেছিলেন। প্যারিসে ১৩ নবেম্বরে প্যারিসে জঙ্গী হামলায় ১৩০ জন মারা যওয়ার পর ফ্রান্স আইএসের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদার করার জন্য মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল। ফ্রান্সের সেই অনুরোধে সাড়া দিয়ে এখন এগিয়ে এলো ব্রিটেন। এর আগে ব্রিটেনের আইএসবিরোধী সামরিক অভিযান কেবল ইরাকেই সীমাবদ্ধ ছিল। ব্রিটেনের আগে জার্মান পার্লামেন্ট আইএসের বিরুদ্ধে সেনা অভিযান অনুমোদন করে। তবে এই যুদ্ধে কেবল সহায়তাকারীর ভূমিকা পালনের জন্য ১ হাজার ২শ’ সৈন্য প্রস্তুত রেখেছে জার্মানি। দেশটি সামরিক আক্রমণে সক্রিয়ভাবে অংশ নেবে না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আইএসের বিরুদ্ধে ব্রিটেনের সামরিক অভিযানে অংশগ্রহণকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘এর ফলে আমাদের জোটের বিমান আক্রমণের ক্ষমতা আরও সুসংহত হলো।’

সেনা অভিযান অনুমোদন করাতে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমনসে তীব্র বাগ্বিত-া হয়। বিরোধীরা অভিযোগ করেন, ব্রিটেন ইরাক যুদ্ধের দুঃস্বপ্ন আবার ফিরিয়ে আনতে চলেছে। উল্লেখ্য, সিরিয়ায় এক বছরের বেশি সময় ধরে মার্কিন বিমান আক্রমণ চললেও ব্রিটেন তাতে যোগ দেয়নি। কয়েক মাস আগে ব্রিটেন জানিয়েছিল, সিরিয়া তার ভূখ-ে বিদেশী সামরিক হস্তক্ষেপ সমর্থন করবে না। কিন্তু গত মাসে প্যারিস হামলার পর এ ব্যাপারে ব্রিটিশ সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটে। ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টিকে ক্যামেরনকে বলেছেন, আইএস এখন যুক্তরাজ্যের জন্য সরাসরি হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, সন্ত্রাসী গ্রুপ ও তাদের নিরাপদ আশ্রয়গুলো ধ্বংস করাই সামরিক অভিযানে অংশ নেয়ার মূল লক্ষ্য।

আইএসের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ব্রিটেনের অংশগ্রহণকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকরা। তারা একে ইরাক ও আফগানিস্তানে ব্যর্থতার পর আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্রিটিশ-মার্কিন জোট বা পশ্চিমা জোটের ফিরে আসা হিসেবেই দেখছেন। অপর পশ্চিমা দেশ ফ্রান্স ইতোমধ্যেই সিরিয়ায় বিমান হামলা জোরদার করেছে। এর আগে বুধবার ব্রাসেলসে ন্যাটো পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি আশা প্রকাশ করেছিলেন আইএসের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে অংশগ্রহণের বিষয়ে ন্যাটো জোটের শরিকরা শীঘ্রই নিজেদের মতামত প্রকাশ করবে।

সিরিয়ায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন অভিযানে ব্রিটেন অংশ নিলেও সেটি বিমান আক্রমণের মধ্যেই সীমিত থাকছে। যুক্তরাষ্ট্র বা ফ্রান্সের মতো ব্রিটেনও স্থল সৈন্য পাঠাচ্ছে না। সাইপ্রাসের বিমান ঘাঁটি থেকে দুটি টর্নেডো জঙ্গীবিমান ছাড়াও নরফোকের মারহাম বিমান ঘাঁটি থেকে একটি ভয়জার রিফুয়েলিং ট্যাঙ্ক, স্কটল্যান্ডের লসিয়েমাউথ বিমান ঘাঁটি থেকে ছয়টি টাইফুন জেট প্রাথমিকভাবে সিরিয়ায় ব্রিটিশ সামরিক কর্মকা-ে অংশ নিচ্ছে।