২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চীনের ‘ফোর গ্রেট এ্যাক্ট্রেসেস’র শেষ জীবিত সদস্য কিন ইয়ি

  • কমিউনিস্ট চীনের প্রথমদিকের সবচেয়ে সুন্দরী নায়িকা

কমিউনিস্ট চীনের প্রথমদিকে কিন ইয়িকে বলা হতো সবচেয়ে সুন্দরী নায়িকা। তাকে সাংহাইয়ে তিন ডজনের বেশি সিনেমায় দেখা গেছে। সাংহাইকে সবসময়ই চীনা সিনেমার জন্মস্থান বলে বিবেচনা করা হয়। বর্তমানে সাংহাইয়ে নিজ এ্যাপার্টমেন্টে বসবাসকারী কিনের বয়স ৯৩ বছর। তবে তার ম্লান হয়ে যাওয়া চেহারা আর কালো চোখ এখনও আকর্ষণীয়। ‘ফোর গ্রেট এ্যাক্ট্রেসেস’ নামে এক সময়ের পরিচিত গ্রুপের সর্বশেষ জীবিত সদস্য তিনি।

প্রায় ৭০ বছর আগে আধুনিক চীনের জন্মলগ্নে দেশটির গোলযোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে স্টেজে ও পর্দায় এই চার অভিনেত্রীর গ্ল্যামার দর্শকদের আলোড়িত করেছিল। যখন কমিউনিস্টরা পুরোপুরি ক্ষমতা দখল করে নিল, তখন এই অভিনেত্রীরা ইনগ্রিড বার্জম্যান ও বেটি ডেভিসের মতো অভিনেত্রীদের প্রতি তাদের ভালবাসা গোপন করে, ফ্যাশনের প্রতি তাদের আকাক্সক্ষা দূরে সরিয়ে রাখে এবং পলিতোরিয়ান (দরিদ্র শ্রেণী) মূল্যবোধ প্রতিফলিত করে এমন সিনেমার দিকে তাদের ক্যারিয়ার পরিচালিত করে। সুসংহত সমাজ গড়ার সংগ্রামে কমিউনিস্ট পার্টি সিনেমাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করত। নতুন নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে এই চার অভিনেত্রী প্রায়ই কিষানীদের পোশাক পরতেন এবং জাপানবিরোধী যুদ্ধের সিনেমা ও সামান্য কাল্পনিক পারিবারিক মেলোড্রামায় অভিনয় করতেন। তাদের সৌন্দর্যে তখন দর্শকরা বিমোহিত হয়ে থাকত। কিন তার অভিনীত সিনেমার স্মৃতিচারণ করে বলেন, সিনেমাগুলোতে সবসময় সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার মতো বিষয়বস্তু থাকত। তার অভিনীত সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘রেলওয়ে গেরিলা’, ‘ওমেন বাস্কেবল প্লেয়ার নং ৫’ ও ‘লয়্যাল ওভারসিজ চায়না’। চীন-জাপান যুদ্ধের সময় ১৯৩০’এর দশকে সাংহাইয়ের সিনেমার দুরন্ত গতি ধীরে ধীরে কমে আসছিল যখন, তখন কিশোরী কিন সাংহাই থেকে পালিয়ে পশ্চিমের যুদ্ধকালীন রাজধানী চংকিং শহরে পালিয়ে যান। তিনি সেখানে আরও নয়টি মেয়ের সঙ্গে বাঁশের পাটি বিছানো মেঝেতে ঘুমাতেন। সেখানেই তার সঙ্গে দেখা হয় নতুন আরেক অভিনেত্রী ঝাং রুইফাংয়ের সঙ্গে। ঝাং বেজিংয়ে তার বুর্জোয়া পরিবার থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন। চংকিংয়ে তাদের দেখা হয় দুই উদীয়মান তারকার বাই ইয়াং ও শু শিউয়েনের সঙ্গে। তারা কমিউনিস্ট নাট্যকার শিয়া ইয়ানের সঙ্গে কাজ করতেন এবং তিনি এই অভিনেত্রীদের দলের নাম দেন ‘দ্য ফোর গ্রেট এ্যাক্ট্রেসেস’। ১৯৪৬ সালে জাপানের পরাজয়ের পর এই চার অভিনেত্রী সংহাইতে ফিরে আসেন। কিন্তু এর তিন বছর পরই কমিউনিস্টদের হাতে আসে শহরটি। যুদ্ধোত্তর কমিউনিস্ট সাংহাইয়ে কিন ও ঝাং আবার সিনেমা তৈরি শুরু করেন। ১৯৬৩ সালে ঝাং সেরা অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় পুরস্কার পান। এরপর তারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময় আলাদা হয়ে যান।- ইন্টারন্যাশনাল নিউইয়র্ক টাইমস