১৮ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মহিলা টি২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ

মহিলা টি২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ
  • বাছাই পর্বের সেমিফাইনালে জিম্বাবুইয়েকে ৩১ রানে হারিয়ে এ যোগ্যতা অর্জন

স্পোর্টস রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে ॥ টি২০ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে ফাইনালে খেলার টিকেট নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। সেই সঙ্গে বিশ্বকাপেই খেলার যোগ্যতা অর্জন করে নিয়েছে। বৃহস্পতিবার ব্যাংককে বাছাইপর্বের প্রথম সেমিফাইনালে জিম্বাবুইয়ে নারী ক্রিকেট দলকে ৩১ রানে হারায় জাহানারা আলমরা। হারিয়ে ফাইনালে খেলবে।

নিয়ম অনুযায়ী বাছাইপর্বের দুই ফাইনালিস্ট ভারতে অনুষ্ঠেয় আগামী বছর ১১ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিলের টি২০ বিশ্বকাপে খেলবে। বাংলাদেশ ফাইনালে উঠে গেছে। গ্রুপ পর্বে থাইল্যান্ডকে ৭৩ রানে, স্কটল্যান্ডকে ৮ উইকেটে, পাপুয়া নিউগিনিকে ৪১ রানে হারিয়ে সেমিফাইনালে খেলে বাংলাদেশ। জিম্বাবুইয়েকে হারিয়ে এখন ফাইনালে খেলার সঙ্গে বিশ্বকাপেও খেলবে বাংলাদেশ।

সেমিফাইনালে ফারজানা হকের ৪৩ বলে ৪৩ ও শারমিন রহমানের ৩৪ বলে ২২ রানের ইনিংসের ওপর ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে বাংলাদেশ নারী দল ৮৯ রান করে। জবাবে ৪ উইকেট নেয়া রুমানা আহমেদ, ২ উইকেট করে নেয়া ফাহিমা খাতুন ও শায়লা শারমিনের বোলিং তোপে পড়ে মাত্র ৫৮ রানের গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ের মেয়েরা। ১৯.১ ওভার খেলতে পারে তারা। পেলাগিয়া মুজাজি সর্বোচ্চ ১০ রান করতে পারেন। ফলে ৩১ রানের জয় পায় বাংলাদেশ।

এর আগে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের গ্রুপ পর্বে থাইল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও পাপুয়া নিউগিনিকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বে অপরাজিত থাকে। এখন পর্যন্ত কোন ম্যাচ হারেনি বাংলাদেশ। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে স্কটল্যান্ডকে ৯ উইকেটে হারিয়ে আয়ারল্যান্ডও ফাইনালে খেলার সঙ্গে বিশ্বকাপের টিকেট পেয়েছে। শনিবার বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড নারী ক্রিকেট দলের মধ্যকার ফাইনাল খেলাটি অনুষ্ঠিত হবে।

নারী বিশ্বকাপের পঞ্চম আসর আগামী বছর ভারতে অনুষ্ঠিত হবে। টি২০ র‌্যাঙ্কিংয়ের সেরা আটটি দল এতে সরাসরি অংশগ্রহণ করার সুুযোগ পাচ্ছে। আর বাছাই পর্বের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দল শীর্ষ আট দলের সঙ্গে যোগ দিয়ে মূল পর্বে অংশ নিবে। র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আটে থাকায় অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ড, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলংকা সরাসরি নারী বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করবে। এ দলগুলোর সঙ্গে যুক্ত হবে এখন বাংলাদেশ ও আয়ারল্যান্ড। প্রথমবার ২০১৪ সালে টি২০ বিশ্বকাপ খেলে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। সেবার বাংলাদেশই ছিল আয়োজক। এবার টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করে নিল বাংলাদেশ। টি২০ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে এখনও ১০০তে ১০০ বাংলাদেশের মেয়েরা। গ্রুপে নিজেদের তিনটি ম্যাচে দাপুটে জয় পেয়েছে তারা। কিন্তু এই প্রতিটি ম্যাচেই ব্যাটিং ছিল চিন্তার কারণ। থাইল্যান্ডের মতো দলের বিপক্ষে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১০৫ রান করে, তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলতে দেয়নি মোটেও। দ্বিতীয় ম্যাচে স্কটল্যান্ডের ৫৩ রান তাড়া করতে নেমে বিনা উইকেটেই ৫৩ তুলেছিল বাংলাদেশ। এরপরই ২ উইকেট হারিয়ে বসা; দুশ্চিন্তাটা সামনে এসে যায় আবার। আর গ্রুপের শেষ ম্যাচে পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষেও ১০০ রান করতেই ধুঁকতে হয়েছিল দলকে। ব্যাটিংটা আসলেই চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের জন্য। তাইতো অধিনায়ক জাহানারা আলম বলেছিলেন, ‘আমি গত তিন ম্যাচে দল জেতায় খুশি। কিন্তু ব্যাটিংয়ের কথা চিন্তা করলে একদমই আনন্দিত হতে পারছি না। সেমিফাইনালের আগে এই ব্যাটিং নিয়েই আমার যত শঙ্কা। আশা করছি সেমিফাইনালে দল ভাল খেলবে। দলের প্রতিটি বিভাগ একসঙ্গে জ্বলে উঠবে। আমাদের শক্তির জায়গা, বোলিং-ফিল্ডিংটা আরও ক্ষুরধার হয়ে উঠবে।’ সেমিফাইনালেও ব্যাটিং ভাল হল না। মাত্র ২ জন দুই অংকের ঘরে পৌঁছাতে পারলেন। ফারজানা ও শারমিন। কিন্তু বোলারদের দাপটেই ম্যাচ জিতে গেল বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে টি২০ বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতাও অর্জন করে নিল।