২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তাজহাট জমিদার বাড়িতে একদিন

  • আবু আফজাল মোহাম্মদ সালেহ

রংপুর শহরের তাজহাট জমিদার বাড়ি ইতিহাস-ঐতিহ্যের স্মারক। শহরের কাছে ইতিহাস বিজরিত সংগ্রহশালার ঐতিহাসিক প্রাসাদটি পর্যটকদের মুগ্ধ করে। রংপুর রেলস্টেশন থেকে রিক্সা কিংবা অটোবাইকে অল্পসময়ে পৌঁছানো যায় তাজহাট জমিদার বাড়িতে। শহর থেকে দক্ষিণ-পূর্বদিকে তিন কি.মি. দূরে অবস্থিত এ জমিদার বাড়িটি ১৯৮৪ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের বেঞ্চ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ২৪ কামরাযুক্ত মার্বেল পাথর সংবলিত ফ্লোর দৃষ্টিনন্দন। আর আশপাশের গাছ-গাছালি, পুকুর এবং ফুলের বাগান এ স্থানকে নৈসর্গিক করে তুলেছে। ১৯৯৫ সালে প্রতœতত্ত্ব অধিদফতর ইমারতটিকে পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করে। ২০০২ সালে এটাকে রংপুর জাদুঘর হিসেবে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সরকার। বিশ টাকা প্রবেশ ফি দিয়ে অনুপম এ প্রাসাদটি দেখতে পারেন দর্শনার্থীরা। সম্মুখভাগে প্রধান প্রাসাদটির দ্বিতীয় তলায় ওঠানামার জন্য একটি বিরাট গ্যালারির মতো চমৎকার সিঁড়ি রয়েছে। নিচ তলায় অফিস।

এখানে সংরক্ষিত রয়েছে বিভিন্ন হস্তলিপি, পুরাতন পত্রিকা (রংপুর দর্শনা ২৪ নবেম্বর ১৯২৪),শিবপতœী পার্বতীর মূর্তি, মাটির পাত্র, বিভিন্ন পোড়ামাটির ফলক, পুর্বকার রাজা বাদশাদের ব্যবহৃত জিনিসপত্র বা মৃৎপাত্র, প্রজা বিদ্রোহের নেত্রী সরলা দেবীর ব্যবহৃত সেগুনকাঠের বাক্স, মঙ্গলকোট ও সীতাকোট (বগুড়া), মহাস্থানগড় থেকে সংগৃহীত বিভিন্ন পোড়ামাটির ফলক, নারীমূর্তি, লোহার দ্রব্যাদি, সাঁওতালদের ব্যবহৃত তীর, লাল পাথরের টুকরো, পাহাড়পুর বিহার থেকে সংগৃহীত নারীমূর্তি, পাথরের নুড়ি, বদনা, আক্রমণ উদ্যোত যোদ্ধার মূর্তি প্রভৃতি।

সাহিত্য পরিষদ রংপুর কর্তৃক সরবরাহকৃত হাতের লেখা মহাভারত, রামায়ণ, চেতন্যচারী অমৃত, শান্তি শতক, গাছের বাকলে লেখা সংস্কৃত হস্তলিপি, বেগম রোকেয়ার স্বহস্তে লেখা চিঠি, তুলট কাগজে লেখা হস্তলিপি, সম্রাট আওরঙ্গজেব কবি শেখ সাদী বাদশা নাসির উদ্দিনের স্বহস্তে লেখা কোরআন শরীফ, ছোট্ট কোরআন শরীফ এখানে সংরক্ষিত রয়েছে। এখানে এসে পর্যটকরা হারিয়ে যায় অতীতে। উল্টাতে থাকে ইতিহাসের পাতা। বাংলাদেশের যে কোন প্রান্ত থেকে আসুন রংপুর শহরে অথবা রেলস্টেশনে। তারপর রিক্সা কিংবা অটোবাইকে চড়ে তাজহাটে। রংপুর শহরে থাকা-খাওয়ার জন্য বিভিন্ন মান ও দামের হোটেল রয়েছে।