২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ওয়াসফিয়া নাজরীন প্রথম বাংলাদেশী নারীর সেভেন সামিট জয়

  • মাহবুব রেজা

ওয়াসফিয়া নাজরীন। প্রথম কোন বাংলাদেশী নারী হিসেবে সেভেন সামিট অর্থাৎ সাতটি সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ জয় করার রেকর্ড গড়েছেন। এটা নিঃসন্দেহে দেশের জন্য এক গৌরবজনক অধ্যায়। এই সাতটি পর্বত শৃঙ্গ জয় করার মাধ্যমে ওয়াসফিয়া মূলত বাংলাদেশের মান-মর্যাদাকেই পৃথিবীর বুকে তুলে ধরেছেন।

ওয়াসফিয়ার ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে বলেন, বাংলাদেশের একজন পর্বতারোহী হিসেবে ওয়াসফিয়া নাজরীন ওশেনিয়া বা অস্ট্রেলিয়া অঞ্চলের কার্সটেনস পিরামিড পর্বত শৃঙ্গ জয়ের অভিযান পূর্ণ করেছেন। ইন্দোনেশিয়ায় অবস্থিত মাউন্ট কার্সটেনস নামের পর্বতের শৃঙ্গটি পুঞ্জাক জায়া নামেও পরিচিত। এর উচ্চতা ৪৮৮৪ মিটার। বাংলাদেশ অন সেভেন সামিট ফাউন্ডেশনের মুখপাত্র করভি রাকসান্ত এক ফেসবুক বার্তায় জানান, স্যাটেলাইট ফোনে ওয়াসফিয়া নাজরীন জানিয়েছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪৪ বছর উদ্যাপনের জন্য আমরা এই ক্যাম্পেন শুরু করি যা ১৯৭১-এর চেতনাকে আরও পরিপূর্ণ করার একটি প্রয়াস। যারা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন তাদের প্রতি এই জয় উৎসর্গ করছি বলে উল্লেখ করেন ওয়াসফিয়া।

প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে ‘বাংলাদেশ অন সেভেন সামিট’ নামে একটি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন ওয়াসফিয়া। এই অভিযানের শুরু হয় ২০১১ সালের ২ অক্টোবর- ঐদিন তিনি আফ্রিকার সর্বোচ্চ পর্বত ফিলি মানজারো এবং একই বছরের ১৬ ডিসেম্বর দিক্ষণ আমেরিকার সর্বোচ্চ পর্বত এ্যাকোনকাগুয়া জয় করেন। সেই বছরের জুলাই মাসে ইউরোপের সর্বোচ্চ পর্বত এলবার্সের চূড়ায় ৩০০ মিটার নিচে থেকে খারাপ আবহাওয়ার জন্য ফিরে আসেন তিনি। এ ছাড়া ওয়াসফিয়া ২০০৯ সালে নেপালের লু রী পর্বত, ২০১০ সালে আইল্যান্ড পিক জয় করেন।

যেমন ছিল ওয়াসফিয়ার কার্সটেনস পর্বত জয় করার অভিজ্ঞতা? এ প্রসঙ্গে সাক্ষাতকার দিতে গিয়ে তিনি তার রোমহর্ষক অভিজ্ঞতার কথা বয়ান করেন, ভয়ঙ্কর এক অভিজ্ঞতার মধ্যদিয়ে কার্সটেনস পর্বত জয় করেছি। সেখান থেকে যে ফেরত আসতে পারব সে কথা কল্পনাও করতে পারিনি। তার বর্ণনায়, হিমালয়ের চেয়েও কঠিন এবং জটিল এই কার্সটেনস পিরামিত পর্বত শৃঙ্গ জয় করা। তিনি বলেন, পুরো পাহাড়টি গ্রানাইট পাথরের। একটি চূড়া থেকে অন্য চূড়ায় যেতে হয় দড়ির ওপর দিয়ে হেঁটে।

কার্সটেনস পর্বত চূড়ায় উঠতে গিয়ে পদে পদে বিপদে পড়তে হয় ওয়াসফিয়াকে। জানা যায়, পাহাড়ের বেস ক্যাম্পে পৌঁছাতে বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর সঙ্গে দেখা হয়েছে ওয়াসফিয়ার। বিপদের মুখোমুখি হলেও হাল ছেড়ে দেয়ার পাত্রী নন তিনি। পাহাড়ের এসব জাতি গোষ্ঠীর মধ্যে নানা ধরনের কুসংস্কার প্রচলিত থাকে। পর্বত আরোহণ শেষে ওয়াসফিয়া যখন ফিরছিলেন তখন একটি গ্রামে এক বৃদ্ধ মারা যায়। বৃদ্ধের এই মৃত্যুর জন্য তারা ওয়াসফিয়াকে দায়ী করে বসে। তাদের এই দাবির মুখে ওয়াসফিয়া ও তার সহযোগীরা ভয় পেয়ে যায়। কারণ সেই গ্রামে প্রচলিত বিশ্বাস বিদেশীদের আগমনের কারণেই এই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। কীআর করা-অগত্যা ওয়াসফিয়াদের গুনতে হয় ক্ষতিপূরণ। শুধু ক্ষতিপূরণ? চার চারটি ঘণ্টা ধরে সালিশ চলল- শেষ পর্যন্ত দফারফা হলো চার হাজার ডলার গুনে গুনে দিতে হবে বৃদ্ধের পরিবারকে।

স্বাধীনতার ৪৪ বছরকে স্মরণীয় করতে সাহসী কন্যা ওয়াসফিয়া নাজরীন গত চার বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম করে একে সার্থক করে তুলেছেন। বাংলাদেশের লাল- সবুজের পতাকাকে তুলে ধরেছেন সর্বোচ্চ উচ্চতায়। বিজয়ের মাসে তাই জয়তু ওয়াসফিয়া নাজরীন। জয়তু লাল-সবুজের পতাকা।

athairidha15@yahoo.com