২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ফেসবুকে নারীর নিরাপত্তা

  • সুজানা আলী সুইটি

অর্পিতা (ছদ্মনাম) অনার্স পড়ছে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বন্ধুদের সঙ্গে তার যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ফেসবুক। সময় পেলেই সে সামাজিক যোগোগের এই মাধ্যমটিতে সময় কাটায়। হঠাৎ একদিন একটি অপরিচিত আইডির ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট সে গ্রহণ করে। এরপর তাদের মধ্যে প্রায়ই ফেসবুকে কথা হতে থাকে। অর্পিতা তার সরলতার কারণে এই অপরিচিত আইডি নিয়ে কোন সন্দেহ করেনি এবং বন্ধু হিসেবেই সরলমনে কথা বলেছে। কিন্তু অর্পিতা জানত না এই আইডি একটি বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে সৃষ্টি করা। কিছুদিন পর অর্পিতা জানতে পারে তার ব্যক্তিগত বিষয়গুলো কপি করে তার বন্ধু মহলে, আত্মীয় মহলে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। হৃদি আর তানজিলের বিয়ে ঠিক হয়েছে। তাদের দুজনের পছন্দের বিয়ে। সব ঠিকঠাক। কিন্তু হঠাৎ করেই তানজিলের পরিবার কিছু না জানিয়ে বিয়ে ভেঙ্গে দিল। পরে জানা গেল কারণ। হৃদির ফেসবুকের ছবিগুলো নিয়ে কেউ বিভিন্ন খারাপ সাইটে ছড়িয়ে দিয়েছে। তানজিলের পরিবার রক্ষণশীল পরিবার। এই ঘটনা জানার পর এমন মেয়েকে তারা বৌ করে নিতে রাজি নয়। পরিণতি সামাজিকভাবে সব দোষ হৃদির। ওপরের দুটি ঘটনা বর্তমান সময়ের ঘটে যাওয়া খুব পরিচিত একটি ঘটনা। ফেসবুক-সামাজিক যোগাযোগের এই মাধ্যমটি আমাদের কাছে বহুল পরিচিত। বর্তমান প্রজন্মের এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না যারা এই মাধ্যমটি সম্পর্কে কম-বেশি জানে না। আমাদের দেশের বিখ্যাত ব্যক্তিরা পর্যন্ত সময় পেলেই তাদের দৈনন্দিন জীবনের ঘটে যাওয়ার ঘটনা, ব্যক্তিগত বিষয় তাদের আত্মীয়, বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করার জন্য ফেসবুককে ব্যবহার করে থাকেন। শত ব্যস্ততার মাঝে হাজার মাইল দূরে থেকেও ফেসবুকের কল্যাণে সবাই একে অপরের কাছাকাছি থাকতে পারছেন। কিন্তু এই মাধ্যমটিতে সম্প্রতি নারীরা সবচেয়ে বেশি প্রতারণা, হয়রানির শিকার হচ্ছেন। কিছু নিম্নরুচির মানুষ বিভিন্ন নামে নকল আইডি খুলে নারীদের উত্ত্যক্ত করার নতুন পথ যেন খুঁজে পেয়েছেন এই ফেসবুকের মাধ্যমে। নারীদের ছবিতে অশালীন মমন্তব্য, কটূক্তি, বাজে কথা বলেই তারা থেমে থাকছেন না, নারীদের ছবি কপি করে বিভিন্ন পর্নো সাইটেও ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। যার ফলে পারিবারিক অশান্তি বাড়ছে। ভালবাসার সম্পর্ক নষ্ট হচ্ছে, বিয়ে ভেঙ্গে যাচ্ছে বহু নারীর। নারীরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন। কখনও কখনও তারা বাধ্য হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন। এই সব অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা প্রতিরোধে আমাদের দেশে তথ্য প্রযুক্তি আইন রয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারীরা সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হবার আশঙ্কায় মামলাতে যেতে চান না। অথচ একটু সচেতন হলেই এই সব ফেসবুকের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনাগুলোকে, ঝামেলাগুলোকে আমরা পুরোপুরি বন্ধ করতে না পারলেও যথাসম্ভব এড়িয়ে যেতে পারি। অপরিচিত কোন আইডি সম্পর্কে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত না হয়ে গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা উচিত। প্রয়োজন মনে হলে কাছের কোন বন্ধুকে দিয়ে যাচাই করে দেখে নিতে পারেন যে আসলেই সে ঐ আইডির ব্যক্তিটিকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন কিনা। সবচেয়ে নিরাপদ হয় শুধুমাত্র পরিচিত বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজনকে বন্ধু তালিকায় রাখলে। আইডির প্রাইভেসিকে নিয়ন্ত্রণে রাখুন। কি কি তথ্য সবাইকে দেখাতে চান তা আগে থেকে ঠিক করে আইডির সেটিংস সমন্বয় করুন। নিজের ছবি দেয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন। দরকার হলে পাবলিকের জন্য না রেখে শুধুমাত্র ফ্রেন্ডলিস্টের জন্যে ছবি দৃশ্যমান রাখতে পারেন। নিজের ভালবাসার সম্পর্কের তথ্য ফেসবুকে না দেয়াই শ্রেয়। এতে পরবর্তীতে আপনার জীবনে কোন সমমস্যা হবে কিনা তা ভেবে তারপর সিদ্ধান্ত নিন। ফেসবুক আইডি খোলার ক্ষেত্রে যথাসম্ভব চেষ্টা করুন ব্যক্তিগত ফোন নাম্বার ব্যবহার না করতে। নিজের বাসার ঠিকানা বা নিজের কর্মস্থলের ঠিকানা ফেসবুকে কখনই দেবেন না। অনেকেই আছেন যারা কোথাও ঘুরতে বা বেড়াতে গিয়ে সেখানকার জায়গার তথ্য, নিজের বর্তমান অবস্থান কোথায় সেটা গুগল ম্যাপের মাধ্যমে ফেসবুকে দিয়ে থাকেন। এটা যথাসম্ভব এড়িয়ে যাওয়া উচিত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফেসবুকের পাসওয়ার্ড। কখনও নিজের জন্মদিন, ফোন নাম্বার, পরিবারের ফোন নাম্বার, জন্ম তারিখ, নাম ফেসবুকের পাসওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। যারা আইডি হ্যাক করে তারা মূলত জানে অধিকাংশ মানুষ এই ভুলগুলো করে থাকে পাসওয়ার্ডের ক্ষেত্রে। এতে তারা সহজেই আইডি হ্যাক করে নেয়। তাই পাসওয়ার্ড সব সময় কিছুদিন পর পর পরিবর্তন করা উচিত।