২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রুনা তাসনুবারা কি স্বামীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি?

  • ড. বদরুল হাসান কচি

২৫ নভেম্বর ছিল আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস। এই বছর দিবসটি ব্যতিক্রমভাবে পালিত হচ্ছে। ব্যাপকভাবে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এবার পক্ষকালব্যাপী দিবসটি পালন করা হচ্ছে। আমাদের দেশে নারী নির্যাতনের মাত্রা এবং ধরন বিশ্বের অন্যান্য দেশের চেয়ে ভয়াবহ তা স্বীকার করতেই হবে। সম্প্রতি কিছু ঘটনায় দৃষ্টি দিলে বোঝা যায় এই ভয়াবহতা কতোটা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। গত ২৪ নভেম্বর ময়মনসিংহে গৃহবধূ রুনার স্বামী যৌতুকের জন্যে তাঁর ডান চোখ তুলে পেলেছিলেন প্রায়। এই ঘটনার ১৫ দিন আগে গাজীপুরে এক গৃহবধূর দুইটি চোখ সম্পূর্ণ তুলে ফেলেছে তাঁর স্বামী। অপরাধ যৌতুকের দাবী মেটাতে পারেনি। তার কিছুদিন আগে আরেকটি ঘটনায় যৌতুকের জন্যে তাসনুবাকে তার স্বামী কাটার যন্ত্র (প্লায়ার্স) ও স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে সারা শরীরে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে নির্যাতন করেছে। নির্যাতনের কাহিনীগুলো শুনে মনে হয়েছে পাষ- এই স্বামীরা তার একান্ত ব্যক্তিগত একটি সম্পত্তিতে যেমন ইচ্ছে খুশি তেমন করে অধিকার প্রয়োগ করেছেন। বিয়ে করে সংসার করছেন বলে তাদের এটা ধরে নেয়ার কোন সুযোগ নেই যে আমার স্ত্রী একান্তই আমার ব্যক্তিগত সম্পত্তি। চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে নির্যাতনে ৮১ জন নারী প্রাণ হারিয়েছেন।

প্রতিদিন নির্যাতিত হয়ে গৃহের অন্দরে কেঁদে বুক ভাসিয়ে কতো তাসনুবা দিনযাপন করছেন তার কোন হিসাব নেই। মিডিয়ায় খবর হয় না বলে সেই নির্যাতনের কোন প্রতিকারও নেই। অবশ্য নির্যাতনের শিকার অধিকাংশ নারী তাকে নিয়ে খবর সৃষ্টি হোক তা চায় না। বেশিরভাগই ভাবেন ঘরের কথা পরে জানলে লোকে মন্দ ভাববে অথবা তাতে সমাধান না হয়ে ঘরে বাড়তি অশান্তি হবে এবং এই অশান্তি যদি বিয়ে বিচ্ছেদের দিকে গড়ায় তাহলে সেই নারী যাবে কোথায়, তারতো নিজস্ব কোন ঠিকানা নেই, আমাদের সমাজ বাস্তবতা এমন বিয়ের পরেই মেয়েদের সাথে বাবার বাড়ির সম্পর্কগুলো চুকে যায় কিংবা অনেকে সন্তানের কথা ভেবে মুখ বুঝে মার খেয়েই জীবন পার করছেন। ‘পারিবারিক সহিংসতার বিরুদ্ধে পুরুষ’ নামক একটি সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে জানতে পারি, দেশে ৫৩% নারী তাঁর স্বামীর দ্বারা শারীরিক, মানসিক অথবা যৌন নির্যাতনের শিকার হন এবং ৮৭% নারী জীবনে একবার হলেও তাঁর স্বামীর দ্বারা শারীরিক, মানসিক কিংবা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। (পিএইচআর পরিসংখ্যান ও বিবিএস পরিসংখ্যান ২০১১ অনুসারে)।

অপরদিকে আরেকটি হতাশার কথা হলো নির্যাতিত তাসনুবারা অভিযোগ দিয়ে প্রতিকার পাবেন সেই জায়গাটিও অনিরাপদ। এইসব সামাজিক শৃঙ্খলা সুরক্ষার নির্ভরযোগ্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হলো থানা পুলিশ। অনেকগুলো ঘটনা পর্যালোচনায় দেখা গেছে পুলিশ অভিযোগকারীর পক্ষে না গিয়ে প্রায় অভিযুক্তর পক্ষেই অবস্থান নেন। এই ধরনের হয়রানীর একটি আদর্শ উদাহরণ হলো তাসনুবার ঘটনাটি। সারা শরীরে নির্যাতনের ক্ষত চিহ্ন নিয়ে তাসনুবা যখন থানায় গেল, তখন পুলিশ অভিযোগ নেয়াতো দূরের কথা, স্বামীর পক্ষ নেন।

যে নারী এমন নির্যাতনের শিকার হয়েছে সে আমারই কোন আপনজন হতে পারতো এমনটা ভেবে প্রত্যেকে যার যার অবস্থান থেকে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার সময় এসেছে।