২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ক্যালিফোর্নিয়া হত্যাকা- সন্ত্রাসী কাজ

  • হামলাকারীদের গাড়ি ও এ্যাপার্টমেন্ট থেকে বিপুল গুলি ও বোমা উদ্ধার

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান বারনারডিনো শহরে সংঘটিত হত্যাকা- নিয়ে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ ব্যাপক গোলাগুলি চালিয়ে ১৪ জনকে হত্যা ও অন্য ২১ জনকে আহত করার মোটিভ এখনও উদ্ঘাটন করতে পারেননি; কিন্তু আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা ওই হামলাকে এক সন্ত্রাসী কর্মকা- বলে গণ্য করছেন। বুধবার ইনল্যান্ড রিজিওনাল সেন্টার আয়োজিত এক কোম্পানি হলিডে পার্টি চলাকালে এক দম্পতি ওই গুলিবর্ষণের কাজে অংশ নেন। খবর ইয়াহুনিউজ, নিউইয়র্ক টাইমস ও টেলিগ্রাফ অনলাইনের।

সন্দেহভাজন সৈয়দ রিজওয়ান ফারুক (২৮) এবং তার স্ত্রী তাসফিন মালিক (২৭) ওই সেন্টারে ৬৫ থেকে ৭৫ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করেন। তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার আগে সেখানে ১,৪০০ রাউন্ড গুলি একটি রিমোট কন্ট্রোল ডিভাইসের সঙ্গে তিনটি পাইপবোমা ফেলে রেখে যান। সান বারনারডিনো পুলিশপ্রধান জ্যারড বার্গুয়ান বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের একথা জানান।

সান বারনারডিনোর রাস্তায় সন্দেহভাজনদের পিছু ধাওয়া করার পর পুলিশের সঙ্গে বড় ধরনের গুলিবিনিময়ের ঘটনায় দম্পতি নিহত হন। তাদের ভাড়া করা গাড়ির ভেতর পুলিশ আরও ১৬০০ রাউন্ড গুলি এবং তাদের এ্যাপার্টমেন্টে ৬৭০০ রাউন্ড গুলি ও ১২ পাইপবোমাসহ অনেক অস্ত্রশস্ত্র দেখতে পায়। এ থেকে মনে করা হয়, তারা আরও হামলার পরিকল্পনা করছিলেন।

কর্মকর্তারা জানান, হত্যাকা-ের আগে ওই দম্পতি পুলিশের নজরদারিতে ছিলেন না। কিন্তু সৈয়দ ফারুক মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের কাছে সম্ভাব্য চরমপন্থী বলে পরিচিত এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। সেজন্য তিনি কেন এফবিআইয়ের নজরদারিতে ছিলেন নাÑ এ প্রশ্ন উঠেছে।

সিএনএন জানায়, মার্কিন নাগরিক ফারুক ২০১৩ সালে মক্কায় হজ পালনকালে মালিকের সঙ্গে তার সাক্ষাত ঘটে। এফবিআইয়ের সহকারী পরিচালক ডেভিড বাওডিচ বলেন, পাকিস্তানের বাসিন্দা মালিক ‘বাগদত্তা ভিসায়’ ২০১৪ সালের জুলাইতে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং পরে ফারুককে বিয়ে করেন। চলতি বছর তাদের ঘরে এক মেয়ে হয়।

সিএনএন জানায়, কোন এক সময়ে ফারুক চরমপন্থী হয়ে ওঠেন এবং তিনি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী তৎপরতার দায়ে এফবিআইয়ের তদন্তাধীন লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। তবে নেটওয়ার্কটির এক সূত্রে সতর্ক করে দেয়া হয় যে, সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী বলে পরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে ফারুকের কথিত যোগাযোগ সাদামাটা ধরনেরই ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা পুলিশকে জানায় যে, সান বারনারডিনো কাউন্টি পাবলিক হেলথ ডিপার্টমেন্টের কর্মচারী ফারুক কোম্পানির হলিডে পার্টিতে ছিলেন; কিন্তু দৃশ্যত এক ঝগড়ার পর তিনি চলে যান। পরে তিনি তার স্ত্রীকে সঙ্গে করে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ফিরে আসেন। বার্গুয়ান বলেন, ওই ঘটনার পেছনে কিছু পরিকল্পনা ছিল বলে মনে হয়।

হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, সান বারনারডিনোর ভয়াবহ হামলা সম্ভবত সন্ত্রাস সম্পর্কিত, কর্মস্থল সম্পর্কিত বা উভয়ই ছিল। তবে তিনি বলেন, কিন্তু সেটি আমরা জানি না। তবে আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, পুলিশের নজরে আসা অস্ত্রভা-ার, সন্দেহভাজনদের মধ্যপ্রাচ্য সফর এবং তাদের একজনের ইসলামী চরমপন্থী দৃষ্টিভঙ্গির লোকজনের যোগাযোগ-এসব কিছুর ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষ মামলাটিকে এক ‘সন্ত্রাসী তৎপরতা বিষয়ক তদন্ত’ হিসেবে গণ্য করছে।

বাওডিচ বলেন, সেখানে কোন মিশন স্পষ্টতই ছিল। আমরা সেটি জানি আমরা এর কারণ জানি না। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, দম্পতি তাদের ঘরে বিস্ফোরক তৈরি করতে আল কায়েদার অনলাইন ম্যাগাজিন ইস্পায়ারের সাহায্য নিয়েছিলেন, এ সম্ভাবনা নিয়ে তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন। ঘাতকরা যে সেটি করেছিলেন, এমন প্রমাণ তদন্তকারীদের হাতে নেই। এফবিআই ফারুকের ইলেক্ট্রেনিক ডিভাইসসগুলো পরীক্ষা করার পর বিশ্লেষক ও এজেন্টরা হামলার অন্তত একদিন আগে ডাটা মুছে ফেলতে শুরু করেছিলেন বলে প্রমাণ পেয়েছেন। এ থেকে তিনি হামলার পরিকল্পনা করছিলেন বলে তদন্তকারীরা মনে করছেন।