২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সম্মানীয় স্বীকৃতি

প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাস, অকুতোভয়, অমিত সাহসী তিনি। সততা ও দেশপ্রেমের প্রতীক হয়ে ভাস্বর সর্বত্র। ভয়, সংশয়, ঝুঁকি ইত্যাদি কোনকিছুই তাকে পারে না কাবু করতে। বৈরী পরিবেশ, বাধাবিঘœ সবকিছুকে তুচ্ছ করে তিনি অনেকটা পথই দিয়েছেন পাড়ি। তাঁকে ২১ বার হত্যার চেষ্টা করা হলেও সাহসের সঙ্গে মোকাবেলা করেছেন সবকিছু। স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তিকে সংগঠিত করতে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি লড়াই করে যাচ্ছেন আজও। পিতার মতোই দৃঢ়, দৃপ্ত, বলিষ্ঠতা ধারণ করে তিনি দেশপ্রেমকে সমুন্নত করেছেন মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে। রাজনীতির ভবিষ্যতকে দেখার প্রখর দৃষ্টিশক্তি তিনি ধারণ করেছেন পিতার কাছ থেকে। অসাম্প্রদায়িকতা, বাঙালী জাতীয়তাবাদ, শোষণহীন সমাজব্যবস্থা ও সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন তারই ধারাবাহিকতায় তার যোগ্য উত্তরসূরি, তাঁরই কন্যা শেখ হাসিনাও নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে দেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করা শুধু নয়, বিশ্ব দরবারে দেশকে উচ্চ শিখরে উন্নীত করার জন্য সবসময় সচেষ্ট। রাজনীতিতে তিনি স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং গণতান্ত্রিক ধারা প্রর্বতন করেন। সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার এবং জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে অবিরাম লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। সুষ্ঠু জীবনবোধসম্পন্ন, বিজ্ঞানমনস্ক, যুক্তিবাদী, মানবতাভিত্তিক সমাজ গঠনের জন্য সকল শুভবুদ্ধিসম্পন্ন সৎ মানুষের মিলনক্ষেত্র হিসেবে নিজের দলকে যেমন গড়ে তুলেছেন গত ৩৫ বছর ধরে, তেমনই দেশ ও জাতিকে সমৃদ্ধ করার কাজটিও করে যাচ্ছেন। লাঞ্ছিত, নিপীড়িত জনতার পাশে দাঁড়িয়ে তাদের দিয়ে যাচ্ছেন সাহস এবং সংগ্রামের প্রেরণা। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে আজ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পেরেছে। শুধু দেশ নয়, বিশ্বের সমস্যা নিয়েও তাঁকে মূল্যবান ভাষ্য দিতে দেখা যাচ্ছে। দেশ ছাড়িয়ে তিনি এখন বিশ্বের নানা প্রান্তের সমস্যা তুলে ধরে তার সমাধানেও বিভিন্ন প্রস্তাবনা রেখে আসছেন। দেশের উন্নয়নে যে সব পদক্ষেপ নিয়েছেন তার সুফল জনগণ পেয়ে আসছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতার জন্য তিনি বিশ্বের স্বীকৃতি পেয়েছেন। নানা উপাধিতেও ভূষিত হয়েছেন। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় গুরুত্বর্পূণ অবদান রাখার জন্য চলতি বছর জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’-এ সম্মানিত হয়েছেন। যা বাঙালী জাতির জন্যও গৌরবের। যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা সাময়িকী ‘ফরেন পলিসি’ বিশ্বের নেতৃস্থানীয় ১০০ চিন্তাবিদের যে তালিকা প্রকাশ করেছে তাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম ত্রয়োদশ স্থানে। সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়কে যেভাবে অগ্রাধিকার দিয়েছে, এটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন ফরেন পলিসি কর্তৃপক্ষ। এরা উল্লেখ করেছেন, সারাবিশ্বের তুলনায় বাংলাদেশ মাত্র দশমিক তিন শতাংশ গ্রীনহাউস গ্যাস নির্গমন করলেও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়ে দেশটির এককোটি ৮০ লাখ নাগরিক উদ্বাস্তুতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ৩০ শতাংশ দারিদ্র্যসহ অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও শেখ হাসিনা পরিবেশ সুরক্ষাকে একটি জাতীয় অগ্রাধিকারে পরিণত করেছেন। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের দায় অতি নগণ্য। দেশের লাখ লাখ গৃহকে সৌরশক্তির আওতায় আনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছে সাময়িকী। বাংলাদেশের এ দৃষ্টান্ত অন্য যে কোন দেশের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে। বাঙালীর আশা আকাক্সক্ষার প্রতীক শেখ হাসিনা যে সম্মানের আসনে ঠাঁই পেয়েছেন বিশ্বের প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দের পাশে, তা বাঙালীর জন্য গৌরবের, অহঙ্কারের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তাই অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা আমাদের।