২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরাধিকারী

স্বাধীনতার ৪৪ বছর পার হয়েছে- আজও মুক্তিযুদ্ধের বীরযোদ্ধারা আমাদের চেতনায়, আর্দশে জ্বলজ্বল করে তাদের অস্তিত্বের জানান দিচ্ছে। বাঙালি হার না মানা বীরের জাতি- হাজার বছরের এই ঐতিহ্য আজও বহমান।

শোষন, বঞ্চনার বিরুদ্ধে নিরন্তর লড়াই করে বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে পাকিস্তানী বাহিনীর বিরদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের পর দ্রুত পাল্টে যেতে থাকে যুদ্ধের রণাঙ্গন। বীর মুক্তিযোদ্ধারা প্রাণের মায়াকে তুচ্ছ করে দেশ-মাতৃকার জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে নয় মাসে এ দেশকে স্বাধীন করে এক ইতিহাসের জন্ম দেয়। বিশ্বের বুকে উড়িয়ে দেয় লাল সবুজের পতাকা। এ দেশের সজল মাটিতে, জলে, স্থলে, পাহাড়ে, আলো-বাতাসে সব জায়গায় মুক্তিযোদ্ধাদের পদচিহ্ন লেগে আছে। মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তর প্রজন্ম হিসেবে আমরা এখনও এ দেশের সব কিছুতে সেইসব বীরদের ছোঁয়া পাইÑ অস্তিত্ব পাই। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাঁথা আমাদের আগামীদিনের পথ চলার শক্তি। বাঙালি কখনও এই শক্তি থেকে পিছুপা হবে না। বাঙালি জানে, তার শত্রুর বিরুদ্ধে কিভাবে তাকে লড়াই করতে হয়। এগিয়ে যেতে হয়। বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য সংস্কৃতি আর লড়াই করার ধারাবাহিক সংগ্রাম এ কথাই প্রমাণ করে যে, বাঙালি অগ্রবর্তিত জাতি। আমরা সেই জাতির যোগ্য উত্তরাধিকারী। বিজয়ের মাসে মুক্তিযোদ্ধাদের জানাই লাল সালাম।

আহাদ রেজা

শুক্রাবাদ, ঢাকা

এমন একটা মা দে না...

প্রতি বছর কত আলোচিত ঘটনাই না ঘটে দেশে। অনেক ঘটনা আমরা মনে রাখি আবার অনেক ঘটনার কথা আমরা ভুলে যাই। আর প্রতিটি ঘটনার পিছনে থাকে একজন ব্যক্তির অস্তিত্ব। তাই এই ব্যক্তিত্বকে আমরা সরণ রাখার জন্য আমাদের কিছু পদক্ষেপ নেওয়া উচিত যেন এই ব্যক্তিত্বের অনুপ্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয় সব মানুষ। এ-বছর ঈশ্বরদীতে এক মা যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তাতে সেই মাকে ২০১৫ সালের আলোচিত সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব হিসেবে সবার সামনে তুলে ধরা উচিত।

সম্প্রতিক সময়ে এক মায়ের তৎপরতায় তার সন্তানকে পুলিশের হাতে সোদর্প করার ঘটনা আমরা দেখেছি। পাবনার ঈশ্বরদীতে ‘ফেইথ বাইবেল চার্চ’-এর যাজক লুক সরকার হত্যাচেষ্টায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠায় রকিবুল ইসলাম (২২) নামে এক তরুণকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন মা আজমিরা খাতুন। ছেলের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা ও জঙ্গী-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠায় ব্যথিত এই মা বাধ্য হয়ে দীর্ঘ ২২ বছর ধরে লালন-পালন করে বড় করা আদরের সন্তানের বিরুদ্ধে এই কঠিন নিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন। এই মা আদর্শ মায়ের প্রতীক হয়ে থাকবেন সবার হৃদয়ে অনন্তকাল। এই মা বুঝতে পেরেছেন জঙ্গীবাদ হলো এমন এক বিষ যা তরুণদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে যায়। জঙ্গীবাদ একজন সহজ-সরল তরুণকে খুনীতে পরিণত করে। এই বিষ ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা চলছে বাংলাদেশে। তাই এই বিষ যেন না ছড়িয়ে পড়তে পারে সেই কারণে মায়েদের আজমিরা খাতুনের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে। যে সন্তান দেশের, সমাজের অস্তিত্বের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে প্রয়োজনে মায়েদের কঠোর ও কঠিন হতে হবে।

দার্শনিক নেপোলিয়ন বলেছেন, যদি তুমি আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাকে একটি শিক্ষিত জাতি দেব। এ কথা থেকে বোঝা যায় সমাজে, দেশে একজন শিক্ষিত মায়ের কতটা গুরুত্ব। দার্শনিক নেপোলিয়নের কথার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরা বলতে চাইÑ ঈশ^রদীর মজিদপুর গ্রামের আজমিরা খাতুনের মতো মা দাও প্রতিটি ঘরে, আমি তোমাদের জঙ্গীমুক্ত বাংলাদেশ দেব।

আবু সুফিয়ান কবির

মোহাম্মদপুর, ঢাকা।

দারুণ মশা

যায় না বসা

অনেকদিন আগের কথা। তখনকার সরকার সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের মাধ্যমে শহর, বন্দর, গ্রাম-গঞ্জে স্প্রে মেশিনের মাধ্যমে তরল জাতীয় ওষুধ মশা নিধনের জন্য ব্যবহার করতেন এতে মশা নিধন হতো আর দেশের মানুষ শান্তিতে ঘুমাত। ইদানীং মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়াতে মানুষ অস্বস্তিতে আছে। তাদের ঘুম নেই, শান্তি নেই। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এ ব্যাপারে মাত্রাতিরিক্ত উদাসীন। তারা কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। মশার আক্রমণে কাবু হয়ে মানুষ এখন ধরাশায়ী। কবিতার ছন্দে একটি কথা বলতে হয়, ‘দারুণ মশা যায় না বসা কামড় লাগায় কুট, যখন-তখন করছে তারা রক্ত মোদের লুট।’

কাজী নরুল আমিন

শ্রীনগর, মুন্সীগঞ্জ।

ন্যাশনাল সার্ভিস

স্থায়ীকরণ করা হোক

ন্যাশনাল সার্ভিস স্থায়ী সরকারীকরণ করা একান্ত প্রয়োজন। কেননা, শিক্ষা থেকে শুরু করে যোগাযোগ পর্যন্ত দেশের সকল ক্ষেত্রেই আমাদের সরকার উন্নয়নের আলো দেখিয়েছে। শুধু তাই নয়, দেশের বেকারত্ব ও যুব সমাজকে কাজে লাগানোর জন্য তিনি বিভিন্ন কর্মসূচী হাতে নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১ এপ্রিল থেকে আমাদের নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচীর আওতায় প্রায় ১৬০০ জন বেকার যুব ও যুব মহিলা প্রশিক্ষণ শেষে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পেয়ে কর্মরত আছেন। সেখানে ন্যাশনাল কর্মীদের, সরকারী কর্মীদের মতো সমান শ্রম দিতে হচ্ছে। অথচ তাদের দেখা হচ্ছে ছোট করে। এদের আর ন্যাশনাল কর্মীদের পার্থক্য আকাশ-পাতাল। কেননা, প্রথমত- এদের বেতন ৮ হাজার থেকে শুরু আর ন্যাশনাল কর্মীদের বেতন মাত্র ৬ হাজার টাকা।

বর্তমান দ্রব্যমূল্যের বাজার প্রেক্ষাপটে এই ৬ হাজার টাকা দিয়ে কিছুই হয় না। তবুও তারা একটু স্বস্তিতে নিশ্বাস নিত, যদি এই চাকরি স্থায়ী হতো। আমাদের মন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক তার নিজ উপজেলায় বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছেন ঠিকই। কিন্তু ২ বছর পর কর্ম কেড়ে নেবেন। ফলে আবার বেকার যুব ও যুব মিহলাদের সংখ্যা বেড়েই যাবে। তাই, ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচী স্থায়ী সরকারীকরণ করার জন্য আমাদের মন্ত্রীসহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

দিলরুবা রিজওয়ান দিনা

আয়েশ, সিংড়া-নাটোর।

ফরিদাবাদে গ্যাস সঙ্কট

ইদানীং পুরনো ঢাকার ফরিদাবাদের আরসিম গেট রিভারভিউ প্রজেক্ট, আইজি গেট, পোস্তগোলা মূলত গোটা ফরিদাবাদ-গে-ারিয়া এলাকার বেশ কিছু অংশে দিনের বেলায় কোন গ্যাস থাকে না। গ্যাস সঙ্কটের কারণে রান্না করা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। নিয়মিত গ্যাস বিল দেয়া সত্ত্বেও ফরিদাবাদ, গে-ারিয়া, পোস্তগোলা এলাকায় গ্যাস সঙ্কটের কোন সুরাহা হচ্ছে না।

উল্লেখ্য, পূর্বে পুরান ঢাকায় গ্যাস সঙ্কট এত প্রকট ছিল না। অবৈধ গ্যাস সংযোগের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় অত্র এলাকাসমূহে গ্যাস সঙ্কট দিন দিন বেড়েই চলছে। এক শ্রেণীর গ্যাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দুর্নীতির জন্য দেশে আজ গ্যাসের সরবরাহ বিঘিœত হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে দ্রুত পরিত্রাণ পেতে চাই।

মাহবুবউদ্দিন চৌধুরী

ফরিদাবাদ-গে-ারিয়া

মৌলবাদ কখনও ধর্ম নয়

প্রথমবারের মতো আফ্রিকা সফরে গিয়ে বিশ্বের ১২০ কোটি ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের নেতা পোপ তার সফরকে নানা কারণে স্মরণীয় করে রেখেছেন। এই সফরে পোপ ফ্রান্সিস বলেছেন, মৌলবাদ সব ধর্মের জন্যই রোগ। রোমান ক্যাথলিক চার্চও এর বাইরে নয়। মৌলবাদ সবসময় বেদনাদায়ক। এটা কোন ধর্ম নয়। এর মধ্যে প্রভুকে খুঁজে পাওয়া যায় না। এটা পৌত্তলিকতা।

আফ্রিকা সফর শেষে ভ্যাটিকানে ফিরে সাংবাদিকদের সামনে কথা বলতে গিয়ে খ্রিস্টান ও মুসলমানদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, খ্রিস্টান ও মুসলমানরা পরস্পর ভাই-বোন। আফ্রিকা সফরে পোপ একটি মসজিদ পরিদর্শনে যানÑ এসময় পোপকে হাজার হাজার মানুষ স্বাগত জানান। পোপ সাংবাদিকদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে কথা বলেছেন তা হলো, আমরা ক্যাথলিকরা সংখ্যায় কম। কিন্তু আমাদের মধ্যেও অনেক মৌলবাদী আছেন। তাঁরা মনে করেন তাঁরা প্রকৃতবাদী, অন্যরা দুর্নীতিগ্রস্ত। ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে পোপ ফ্রান্সিস যে কথাগুলো বলেছেন তা আর শুধু তাঁর নিজের কথা হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকেনি। চলমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে পোপের একথা আজ সব মানুষের অন্তরের কথা।

শারমীন নুসরাত

উত্তরা, ঢাকা।

প্রবীণ অবসরভোগীদের ভাতা

গত পহেলা অক্টোবর আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস হিসেবে বাংলাদেশেও নানা আয়োজনে পালিত হয়েছে। বাংলাদেশের সমাজে প্রবীণরা খুবই উপেক্ষিত এবং অসহায়। কেননা কতিপয় প্রবীণের আয় রোজগার থাকলেও অধিকাংশ প্রবীণই মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হন। এ সময় বার্ধক্যজনিত রোগ শোকে আক্রান্ত হয়ে পরিবার পরিজনের নিকটও বোঝা হয়ে যায়। বাধ্য ্হয়ে অনেকেই কপালে জুটিলে বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রয় গ্রহণ করেন। আর যাদের কোন ব্যবস্থা হয় না তারা দুঃখে কষ্টে রোগ শোকে মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় কিছু লোক স্বাধীনতার বিরোধিতা করলেও বেশিরভাগ কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণরা মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেছিল যার ফসল স্বাধীন বাংলাদেশ। লেখাপড়া শেষ করে চাকরিতে যোগদান করায় তারা স্বাধীনতা যুদ্ধে পাওয়া সার্টিফিকেট আর নবায়ন করার প্রয়োজন মনে করেননি। ঐ সময়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী তরুণরা সবাই প্রবীণ। এই সব প্রবীণরা আজ অনেকেই প্রয়াত। আজ আমরা যারা বেঁচে আছি সরকারী চাকরিতে ছিলাম তারা সকলেই ২০০৫ সালের পে-স্কেলের ভিত্তিতে অবসর গ্রহণ করেছেন। এই স্কেলের ২য়, ৩য় ও ৪র্থ স্কেলের নির্বাহী ও অন্যান্য স্কেলে চাকরি করে যারা অবসর গ্রহণ করেছেন তারা সর্বোচ্চ বর্তমানে ৭/৮ হাজার টাকা পেনশন পাচ্ছেন। এছাড়া ১০০% পেনশন সমর্পণকারী এবং নিম্নতম গ্রেডের অবসর গ্রহণকারীদের অবস্থা আরও করুণ এবং দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন। এ শেষোক্ত শ্রেণীর সৎ প্রবীণরা চাকরিকালীন সময়ে ছেলেমেয়ের লেখাপড়া, মেয়ের বিবাহ অথবা মাথা গোঁজার ঠাঁইয়ের জন্য গৃহনির্মাণ ঋণ গ্রহণ করে অবসরকালে পিএফের টাকা এবং ১০০% পেনশন বিক্রি করে সমুদয় ঋণ পরিশোধ করেছেন তারাই বর্তমানে বেশি কষ্ট করছেন। সমাজ এবং পরিবারের কাছে তারা আজ অবহেলিত।

বর্তমান সরকার গণমুখী সরকার। সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জীবন-যাপন মান উন্নয়নের জন্য পে-স্কেল প্রদান করছেন যা বাস্তবসম্মত। ১০০% পেনশন সমর্পণকারীদের ক্ষেত্রে উৎসব বোনাসের ক্ষেত্রে সে বন্ধ্যত্ব ছিল তা অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রবিধি অণুবিভাগ, প্রবিধি শাখা-১ এর ১৯-১১-২০১৪ইং তারিখের ০৭.০০.০০০০.১৭১.১৩.০১৩-(অংশ-২)/১৫৭ নং বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিরসন করা হয়েছে, যা প্রশংসার যোগ্য।

এমতাবস্থায় ৬৫ বছর উর্ধে প্রবীণ পেনশনধারীদের পেনশন ১০০% বৃদ্ধি করার এবং ১০০% পেনশন সমর্পণকারীদের বর্তমান সমাজে সম্মানজনকভাবে বেঁচে থাকার জন্য গ্রেড অনুযায়ী মাসিক সম্মানী ভাতা নির্ধারিত করার এবং প্রবীণরা মৃত্যুর পর তার স্ত্রী সুবিধাদি পাবার নিয়ম চালু করার জন্য মাননীয়, অর্থমন্ত্রী ও গবর্নর মহোদয়ের সবিনয় অনুরোধ করা যাচ্ছে।

মোঃ ফকরুদ্দিন

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক, ঢাকা