২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাজাকার গণনা হোক

বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। ৩০ লাখ মা-বোন-ভাইদের রক্তের বিনিময়ে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হয়েছে এই দেশ। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতি ১৯৪৭ পরবর্তী সময় থেকে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি নজর পড়ে পাকিস্তানী শাসকদের। বাংলা ভাষার বদলে উর্দু ভাষা চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়। বাঙালীর প্রতি ক্ষেত্রে চলে বৈষম্য। শোষকদের জুলুম নির্যাতনে বাঙালী জাতির পক্ষে শক্ত হাতে প্রতিবাদ করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পাকিদের পক্ষে, আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া, ভুট্টো গং বিশ্বনেতা মানবতার বন্ধু বাঙালীর সকল যুক্তি প্রত্যাখ্যান করলে বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালে মার্চে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। গোলাম আযম, নিযামী, মুজাহিদ, সাকা, বাচ্চু, সাঈদী এ জাতীয় শতাধিক ক্ষমতাপ্রাপ্ত রাজাকার যুদ্ধে জয়লাভ করার আশায় বাংলাদেশে অসংখ্য রাজাকার তৈরি করে কমিটি গঠন করে স্বাধীনতা যুদ্ধের বিপক্ষে যুদ্ধ শুরু করে। যুদ্ধে পাকিস্তান বাহিনী পরাজিত হয়ে আত্মসমর্পণ করে বিদায় নেয় আর তাদের তাঁবেদার রাজাকার, আলবদর, বাহিনীর নরপশুরা থেকে যায় বাংলাদেশে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করে এবং কাদের মোল্লা, কামারুজ্জামান, সাকা চৌধুরী এবং মুজাহিদের ফাঁসি কার্য হওয়ায় মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে।

বর্তমান সরকারের কাছে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কেন এখন পর্যন্ত রাজাকারদের পূর্ণাঙ্গ গণনা শেষ করা হলো না। আমরা প্রত্যাশা করি, অতি দ্রুত রাজাকার গণনার কাজ শুরু করা হোক।

মেছের আলী

শ্রীনগর, মুন্সীগঞ্জ।

সংবিধানের

মূলনীতি

সংবিধানের অন্যতম মূলনীতি গণতন্ত্র একটি জীবনদর্শন। গণতন্ত্রের মূলকথা কবির ভাষায় ‘সকলের তরে সকলে আমরা/প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।’ সকলের মতামত ও সম্মতি সাপেক্ষে রাষ্ট্র পরিচালনা গণতন্ত্রের মূলভিত্তি। গণতন্ত্রের মূল মন্ত্র হলো নিয়ম মেনে চলা, অন্যের মতামতকে শ্রদ্ধা করা, অন্যের অধিকারের প্রতি সম্মান দেখান বা অক্ষুণœ রাখার অঙ্গীকার।

শুধু নিজের স্বার্থ নয় অন্যের স্বার্থের প্রতিও নজর দেয়া। পেছনে ফেলে নয় সকলকে সঙ্গে নিয়ে চলা। রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধার সমবণ্টন, পরমতের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহিষ্ণুতা এবং সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সকল বিতর্কের মীমাংসা গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত। হরতাল, ঘেরাও জ্বালাও, পোড়াওসহ সকল ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ গণতন্ত্রের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। ভলতেয়ারের ভাষায় ‘আপনার মত আমি সমর্থন করি না। কিন্তু আপনার মত প্রকাশের অধিকার ও স্বাধীনতা আমি জীবন দিয়ে হলেও রক্ষা করব।’

গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির সাফল্য ও বিকাশের চাবিকাঠি এখানেই নিহিত। উবসড়পৎধপু রং ধহ ধৎঃ ড়ভ পড়সঢ়ৎড়সরংব ধহফ ধলঁংঃসবহঃ। তবে তা কোনভাবেই অসত্য, অন্যায় অনাচার, অবিচার ও বিভ্রান্তির সঙ্গে নয়। অবশ্যই নয় কোন জঙ্গী ও সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে। গণতন্ত্রকে শুধু সরকার পরিবর্তন বা ক্ষমতার পালাবদলের হাতিয়ার হিসেবে দেখা উচিত নয়।

ক্ষমতায় টিকে থাকা বা ক্ষমতায় আরোহনের লক্ষ্যে গণতন্ত্রের জন্য চিৎকার আর বাকি সকল সময়ে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির উপেক্ষা বা অবহেলা কোনভাবেই যৌক্তিক হতে পারে না।

রাখাল চন্দ্র মিত্র

পটুয়াখালী।