২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বঙ্গবন্ধুর দেয়া পদকের মধ্যে সান্ত্বনা খোঁজেন

জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের নিজ হাতে দেয়া পদকের মধ্যে এখনও স্বামী হারানোর সান্ত¡না খুঁজে পাচ্ছেন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা সিপাহী আবদুল খালেক রাঢ়ীর সত্তরোর্ধ স্ত্রী সাজেদা বেগম। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর স্বামী ঢাকার পিলখানায় বিডিআর ক্যাম্পে সিপাহী পদে চাকরি করতেন।

পাকবাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে তিনি শহীদ হন। তাঁর এ আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানাতে ১৯৭৪ সালের ২৬ মার্চ জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান নিজ হাতে পদকটি দিয়েছিলেন সাজেদাকে। সেই পদকের মধ্যে স্বামী হারানোর সান্ত¡না খুঁজে বেড়াচ্ছেন সাজেদা বেগম।

মাত্র ২৭ বছর বয়সে বিধবা হন তিনি। এরপর তিন মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে শুরু হয় তাঁর বেঁচে থাকার যুদ্ধ। দীর্ঘ ৪৩ বছর ধরে এই বেঁচে থাকার যুদ্ধ করে তিনি বর্তমানে ক্লান্ত। তাঁর ছেলে শামীম রাঢ়ী বাবার কর্মস্থল সেই পিলখানায় ওয়ারলেস অপারেট পদে চাকরি করতেন। বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেয়া হয়। একমাত্র ছেলের এই অবস্থায় ভেঙে পড়েছেন তিনি। ছেলে, বউ, তিন নাতি-নাতনির ভবিষ্যত নিয়ে তিনি রয়েছেন দুশ্চিন্তায়। তার ওপর দুই মেয়ে শাহনাজ বেগম ও মরিয়ম বেগম সন্তানাদি নিয়ে স্বামীর ঘরে ভাল নেই। অভাবের সংসার তাদেরও। ছোট মেয়ে মরিয়ম বিএ পাস করেছে। মুক্তিযোদ্ধার কোটায়ও চাকরি হচ্ছে না তার। গ্রামের বাড়ি বাউফলের মদনপুরের সাপলাখালী। এখানে তাঁর চাল চুলো নেই। জমি নেই। তাই ছেলের সঙ্গে ঢাকায় বসবাস করছেন। ছেলে শামীম বে-সরকারী কোম্পানিতে অল্প বেতনে চাকরি করছেন। তিনি স্বামীর মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ও পেনশনের কিছু টাকা পাচ্ছেন। সব মিলিয়ে সংসার চলছে টেনেটুনে।

Ñকামরুজ্জামান বাচ্চু

বাউফল থেকে