২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ইতিহাসের পাতায় নেই গজারিয়া গোসাইরচর

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বাংলার পরতে পরতে। পাক হানাদার বাহিনীর নারকীয় নির্যাতন এখনও নাড়া দেয় এই অঞ্চলের মানুষের মনে। এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় বধ্যভূমি গজারিয়া গোসাইরচর। এই বধ্যভূমিতে চিরনিদ্রায় শায়িত অসংখ্য শহীদ। ’৭১ সালের ৯ মে এই অঞ্চলে এদেশীয় দোসরদের সহযোগিতায় নারকীয় হত্যযজ্ঞ চালায় পাকিবাহিনী। মেঘনা তীরের ১০ গ্রামে ৩৬০ নিরস্ত্র বাঙালীকে হত্যা করে।

কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ও শহীদ পরিবারের সদস্য ফজিলাতুন্নেছা ইন্দিরা এমপি নিজ উদ্যোগে শহীদদের নামখচিত স্তম্ভ করেছেন। এছাড়া শহরের হরগঙ্গা কলেজের পূর্ব পাশের বধ্যভূমি, সদর উপজেলার সাতানিখিল বধ্য ভূমি, টঙ্গীবাড়ি উপজেলার পালবাড়ি বধ্যভূমিসহ জেলায় রয়েছে অসংখ্য বধ্যভূমি। তবে এগুলো চিহ্নিতসহ সংস্কারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই।

গজারিয়া থানা থেকে দুই শ’ কিলোমিটার পশ্চিমে প্রধান সড়কের পাশে সেই গণকবর অযতেœ পড়ে আছে। এছাড়া ১০ গ্রামজুড়েই রয়েছে বধ্যভূমি। স্বাধীনতার এসব স্মৃতিচিহ্ন রক্ষায় এখনও কার্যকরী উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না বলে এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে।

টঙ্গীবাড়ি উপজেলার আব্দুল্লাপুর পালবাড়ি বধ্যভূমি ছিল স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এই অঞ্চলের আলোচিত ঘটনা। যুদ্ধের সময় ২৬ বৈশাখ পুকুরের পাশে দাঁড় করিয়ে ব্রাশ ফায়ার করে ১৭ জনকে হত্যা করে পাকিবাহিনী। এই বধ্যভূমিটিও রয়েছে অনাদর আর অবহেলায়। শহীদদের স্মরণে এখানে স্মৃতি স্তম্ভ হলেও সেখানে স্থান পায়নি শহীদদের নাম। স্থান পেয়েছে আব্দুল্লাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের নাম। এই হত্যাকা-ের প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল লতিফ পাকিবাহিনীর সে দিনের স্মৃতি বলতে গিয়ে বলেন,“পাকিবাহিনী যে কতটা পাষাণ তা না দেখলে বোঝা যাবে না। খুব কাছে থেকে নারকীয় হত্যাকান্ড তিনি দেখেছেন।

এই অঞ্চলের আরেকটি বধ্যভূমি সরকারী হরগঙ্গা কলেজ ও আশপাশের এলাকা। এখানে অসংখ্য নরনারীকে নির্যাতনের পর হত্যা করে পাকিবাহিনী। এই কলেজটিই ছিল পাকিবাহিনীর এই অঞ্চলের প্রধান ক্যাম্প। এই মহকুমা ক্যাম্পে বহু নিরীহ নারী ধর্ষিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সেই নানাসব স্মৃতির সাক্ষী হয়ে আছে কলেজটি। কিন্তু এগুলো সংরক্ষণেও নেই তেমন প্রয়াস। কয়েক বছর আগে কলেজের পূর্বপাশে গণপূর্ত বিভাগ বধ্যভূমির স্তম্ভ করেছে। সেটি অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। এই সম্পর্কে আব্দুল্লাপুরের পালবাড়ির শশধর পাল সেই স্মৃতি মনে করে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তিনি বলেন, তার ভাই অমূল্য পালকে হরগঙ্গা কলেজের ক্যাম্পে নিয়ে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়। অমূল্য পাল পালবাড়ি ট্র্যাজেডির আগে পারিবারিক কাজে মুন্সীগঞ্জ শহরের ইদ্রিস আলী উকিলের চেম্বারে আসেন। এখান থেকেই রাজাকাররা ধরে নিয়ে পাক বাহিনীর কাছে তুলে দেয় অমূল্য পালকে। ইদ্রিস আলী উকিল পিস কমিটির সদস্য হয়েও নিরীহ মক্কেলকে রক্ষায় কোন ভূমিকা নেয়নি। বরং নীরব থেকে সহযোগিতা করেছে আলবদরদের।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আনিস-উজ-জামান জানান, আমরা বধ্যভূমি সংরক্ষণে সরকারের কাছে দাবি তুলেছি। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ থেকেও নানা উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। অধ্যাপিকা সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি এমপি জানান, আওয়ামী লীগ সরকার বধ্যভূমি সংরক্ষণে দেশব্যাপী নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

Ñমীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল

মুন্সীগঞ্জ থেকে