২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মুন্সীগঞ্জে বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে চলছে হিসাব-নিকাশ

মীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল, মুন্সীগঞ্জ ॥ মুন্সীগঞ্জে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর নতুন মেরুকরণ চলছে জনসংযোগ। সুবিধাজনক অবস্থা তৈরি করতে বিদ্রোহী প্রার্থী বসিয়ে দেয়া এবং দাঁড় করিয়ে রাখা নিয়েও চলছে নানা দৌড়ঝাঁপ। মুন্সীগঞ্জ ও মিরকাদিম এ দুটি পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ মোট ১২ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। দু’পৌর সভায়ই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। তবে বিএনপির কোন বিদ্রোহী প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেয়নি। এছাড়া সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৭৬ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১৯ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। সব মিলিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ১০৭ প্রার্থী। এই নির্বাচনী ঢেউ এখন মহল্লায় মহল্লায়। প্রচারণায় দেখা যাচ্ছে নানা রকম কৌশল। মার্কা বরাদ্দ না করতেই বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা ধানের শীষ ও নৌকা নিয়ে প্রচারে নেমেছে। মুন্সীগঞ্জে পৌরসভায় আওয়ামী লীগের হাজী ফয়সাল বিপ্লব, বর্তমান মেয়র বিএনপির একেএম ইরাদাত মানু ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহিউদ্দিন বেপারী ছাড়াও স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আমরা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান’র জেলা সভাপতি রেজাউল ইসলাম সংগ্রাম ও শহর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি যুবলীগ নেতা আরিফুর রহমান। এছাড়া নানা কারণে ফয়সাল বিপ্লবের চাচাতো ভাই যুবলীগ নেতা জালাল উদ্দিন রুমি রাজনও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এগুলো নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। ভোট বোদ্ধারা বলছে এ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা দুর্বল। কিন্তু তারপরও আওয়ামী লীগ ভোট কিছুটা হলেও ক্ষতি করতে তাদের দাঁড় করিয়ে রাখার প্রচেষ্টা চলছে। তাতে বিএনপি শিবিরের চেয়ে বেশি উৎসাহী আওয়ামী লীগের একটি পক্ষ। ভিন্ন চিত্র মিরকাদিম পৌরসভায়। মিরকাদিম পৌরসভায় মেয়র আওয়ামী লীগের বর্তমান মেয়র শহিদুল ইসলাম শাহীন, বিএনপি শামসুর রহমান, জেপির (মঞ্জু) সাবেক মেয়র মোহাম্মদ হোসেন রেনু ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুল গফুর মিয়া ছাড়াও স্বতন্ত্র হিসেবে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সদর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মনসুর আহম্মেদ কালাম ও আওয়ামী লীগের জামান হোসেন। এ আসনে বিএনপি প্রার্থী অপেক্ষাকৃত বেশ দুর্বল। এই দুর্বল প্রার্থী মনোনয়ন দেয়ার নেপথ্যে রয়েছে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মনসুর আহম্মেদ কালামকে সুবিধা দেয়া। আত্মীয়তার কারণে এ পৌরসভার বিএনপির নেতৃস্থানীয়রা সেভাবেই কাজ করছে। তবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিদ্রোহীদের বসানোর চেষ্টায় সব রকম প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। সবকিছু মিলিয়ে প্রাচার প্রচারণার পাশাপাশি প্রার্থীদের হিসাব-নিকাশ নিয়ে চলছে নানা রকমের কৌশল।

নির্বাচিত সংবাদ