১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পাকিস্তানীসহ আন্তর্জাতিক মুদ্রা ও মানবপাচার চক্রের ৬ জন আটক

  • বিপুল পরিমাণ জাল মুদ্রা, ২১টি পাকিস্তানী পাসপোর্ট ও জাল সিল উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আন্তর্জাতিক মাফিয়া ডনের সহযোগী পাকিস্তানে অবস্থানরত মানব ও মুদ্রা পাচারকারী একটি চক্র বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে বিভিন্নভাবে জাল মুদ্রা ভারতে পাচার করে আসছে। চক্রটি জাল সিল ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে বিভিন্ন ডকুমেন্ট তৈরি করে বাংলাদেশে মানব পাচারের সঙ্গেও জড়িত।

র‌্যাবের লিগ্যাল এ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান শুক্রবার দুপুরে র‌্যাব হেড কোয়ার্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান।

রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে ভারতীয় জাল রুপী প্রস্তুতকারক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা ও মানবপাচারকারী চক্রের এক পাকিস্তানী নাগরিকসহ ছয়জনকে আটক করে র‌্যাব-১-এর সদস্যরা। এ সময় তাদের কাছ থেকে এক কোটি ভারতীয় জাল রুপী, ছয় লাখ ২৪ হাজার টাকা, বিপুল পরিমাণ মার্কিন ডলার, পাকিস্তানী রুপী, দিরহাম, সৌদি রিয়াল, ২১টি পাকিস্তানী পাসপোর্ট ও মানবপাচারের কাজে ব্যবহৃত জাল সিল উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, বিমানবন্দর ফুটওভার ব্রিজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ভারতীয় জালমুদ্রা পাচারকারী চক্রের ‘মূল হোতা’ আব্দুল্লাহ ওরফে সেলিম (৪২), মোঃ জাহাঙ্গীর (৪৫), মোঃ আব্দুল খালেককে (৫৫) আটক করে র‌্যাব। এরপর তাদের দেয়া তথ্যমতে গভীর রাতে বিমানবন্দর থানার বাবুস সালাম মসজিদ-মাদ্রাসা সংলগ্ন আল আমিন রেস্তরাঁর সামনে থেকে ওই চক্রের আরও তিন সদস্য মোঃ কামরুল ইসলাম (২৮), মোঃ আবু সুফিয়ান (৪৮), মামুনুর রশিদকে (৪৫) আটক করা হয়।

আব্দুল্লাহ ওরফে সেলিম বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত পাকিস্তানের নাগরিক। আবদুল্লাহ ১৯৭৯ সালে পরিবারের সঙ্গে পাকিস্তানে যান এবং ২০০২ সাল পর্যন্ত করাচীতে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি ও ফার্মেসির দোকানে কাজ করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি সেখানে কর্মরত অবস্থায় জাল মুদ্রা তৈরি এবং মানবপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। জাহাঙ্গীর, আব্দুল্লাহ ও খালেক বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানবপাচার ও মুদ্রা পাচারকারী চক্রের প্রধান সমন্বয়ক।

সংবাদ সম্মেলনে মুফতি মাহমুদ বলেন, ‘পাকিস্তানে অবস্থানরত পাসপোর্টবিহীন যে সব বাংলাদেশী দেশে ফিরতে ইচ্ছুক, তাদের পাকিস্তানে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন কর্তৃক আউটপাস ইস্যু করে ভারতীয় জালমুদ্রাসহ বাংলাদেশে পাঠানো হয়। বাংলাদেশে অবতরণের পর বিমানবন্দরে একটি চক্র ওই যাত্রীদের ভারতীয় জালমুদ্রাসহ ইমিগ্রেশন ও গ্রিন চ্যানেল অতিক্রম করানোর দায়িত্ব নেয়, যার অন্যতম হোতা বিমানবন্দরে অবস্থিত একটি বেসরকারী ফাস্টফুডের দোকানে কর্মরত এক ব্যক্তি। পরে আব্দুল্লাহ ও আব্দুল খালেক বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন নাম ব্যবহার করে পাকিস্তান থেকে আগত যাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তারা ভারতীয় জালমুদ্রা রাজধানীর কাজীপাড়া, মিরপুর, গাবতলী ও গুলিস্তানসহ বিভিন্ন স্থানে আরেকটি চক্রের কাছে হস্তান্তর করে- যার অন্যতম সদস্য মামুনুর রশিদ। ওই জালমুদ্রার একটি বড় অংশ আরেকটি চক্রের মাধ্যমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলায় প্রবেশ করে এবং বাকি অংশ বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে প্রবেশ করে, যা ক্রয় করে বাংলাদেশী নাগরিকরা ভারতে গিয়ে প্রতারিত হন।

এই চক্রের সক্রিয় সদস্যরা দেশে অবস্থান করছে যাদের প্রত্যেকের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘চক্রটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার বাসিন্দা জামাল, নিস্ফল ম-ল, প্রশান্ত ম-ল ও উত্তম কুমার সিনহাসহ আরও অনেকের কাছে ভারতীয় প্রতি লাখ জালমুদ্রা ৪০ থেকে ৪৫ হাজার ভারতীয় মুদ্রার বিনিময় বিক্রি করত। আটকদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য জানা যায়।

এ ছাড়া ভারতীয় চক্রটি বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী চক্রটিকে জালমুদ্রার বিনিময়ে ভারতীয় গরু সরবরাহ করত। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী চক্রটি ঢাকার গাবতলীর গরু ব্যবসায়ীদের ওই ভারতীয় গরু সরবরাহ করত, যার বিনিময়ে গরু ব্যবসায়ীরা ঢাকায় অবস্থিত চক্রটিকে পেমেন্ট করত। যা বিভিন্ন মাধ্যম হয়ে অর্থ পাকিস্তানে অবস্থানরত চক্রটির হাতে পৌঁছে যেত। এ চক্রটি মানবপাচারের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। এ কাজে তারা জাল সিল ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে বিভিন্ন ডকুমেন্ট তৈরি করে মানবপাচার করে আসছিল। এ ছাড়া যে সমস্ত পাকিস্তানী নাগরিক বাংলাদেশে এসে অবৈধ হয়ে পড়েছে- তাদের জাল অনুমতিপত্র তৈরির মাধ্যমে বাংলাদেশে অবৈধভাবে অবস্থান করারও সুযোগ করে দিচ্ছিল চক্রটি। চক্রটি ইতোপূর্বে জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে বহু অবৈধ প্রবাসীকে দেশে প্রেরণ করেছে।