২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

হেমন্তের রাতে অর্কেস্ট্রার সুরে আমার সোনার বাংলা...

  • সংস্কৃতি সংবাদ

মনোয়ার হোসেন ॥ রাজধানী যেন এখন সঙ্গীতের তীর্থভূমি। দেশের শিল্পীদের সঙ্গে বিশ্বের নানাপ্রান্তের প্রখ্যাত শিল্পীরা কণ্ঠ ও যন্ত্রসঙ্গীতের সুর মূর্ছনা ছড়াচ্ছেন এ শহরে। নবেম্বর মাসে এখানে হয়ে গেল উচ্চাঙ্গসঙ্গীত ও লোকসঙ্গীতের দুটি আন্তর্জাতিক উৎসব। অনুষ্ঠিত হয়েছে পশ্চিমাধারার জ্যাজ এ্যান্ড ব্লুজ মিউজিক ফেস্টিভ্যাল। সে ধারাবাহিকতায় শুক্রবার ছুটির দিনে অনুষ্ঠিত হলো আরেকটি স্মরণীয় সঙ্গীতসন্ধ্যা। শীতের আগমনী বার্তাবহ হেমন্ত রাতে অর্কেস্ট্রার সুরে উচ্চারিত হলো জাতীয় সঙ্গীত। ঐতিহ্যবাহী জিপসি বেহালার সঙ্গে চেলো, বেজ, ক্ল্যারিওনেট ও সিমব্যালের সুরের সম্মিলনে পরিবেশিত হলো বাঙালীর প্রাণের গান ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি।’ আর অনন্য পরিবেশনাটি উপস্থাপন করে হাঙ্গেরির প্রাচীন ও বিশ্বখ্যাত বাদ্যদল বুদাপেস্ট ফিলহারমোনিক অর্কেস্ট্রা। শ্রোতার হৃদয় আলোড়িত করা পরিবেশনার মাধ্যমে সৃষ্টি হলো জাতীয় সঙ্গীতের আদর্শ ও পূর্ণাঙ্গ স্টাফ নোটেশন। অর্কেস্ট্রার এ পূর্ণ স্বরলিপিটি এখন থেকে সংরক্ষিত হবে। বিশ্বের যে কোন বড় আয়োজনে উপস্থাপন করা হবে এই অর্কেস্ট্রা। বুদাপেস্ট ফিলহারমোনিক অর্কেস্ট্রা পরিবেশনাটির নির্দেশনা দিয়েছেন বাংলাদেশের সঙ্গীত পরিচালক সানি জুবায়ের।

জাতীয় সঙ্গীতের আদর্শ স্টাফ নোটেশন পরিবেশনার এ সঙ্গীতসন্ধ্যাটি অনুষ্ঠিত হয় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেমে। ক্রাউন সিমেন্ট আয়োজিত অর্কেস্ট্রেশন পরিবেশনায় বুদাপেস্ট ফিলহারমোনিক অর্কেস্ট্রা বাজিয়ে শোনায় জাতীয় সঙ্গীত। প্রতিষ্ঠানটির ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে নিবেদিত অনুষ্ঠানটি উৎসর্গ করা হয় এদেশের গণমানুষের প্রতি। বুদাপেস্ট ফিলহারমোনিক অর্কেস্ট্রার জাতীয় সঙ্গীতের অনবদ্য পরিবেশনা সঙ্গে দেশের বিখ্যাত শিল্পীদের পরিবেশিত চিরসবুজ বাংলার গানে আয়োজনটি হয়ে ওঠে মহিমান্বিত।

ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত সোয়া আটটা। মঞ্চে আসে হাঙ্গেরির বিখ্যাত বুদাপেস্ট ফিলহারমোনিক অর্কেস্ট্রার ৩৪ যন্ত্রশিল্পী। তাদের মধ্যে প্রায় ২০ জন ছিলেন বেহালাবাদক। অন্য যন্ত্রীরা বাজিয়েছেন চেলো, বেজ, সিমব্যাল আর ক্ল্যারিনেটের মতো সুরের স্রোতধারা বইয়ে দেয়া যন্ত্রগুলো। এ দলের শিল্পীদের পরিবেশনায় বেটোফেন, মোজর্টের মতো বিশ^খ্যাত ও বৈচিত্র্যময় সিম্ফনিক অর্কেস্ট্রা শুনেছে সারাবিশ^। এবার সেই শিল্পীরাই তাদের অর্কেস্ট্রায় বাজিয়ে শোনালেন বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি।’ দলটির অসাধারণ অর্কেস্ট্রেশনে জাতীয় সঙ্গীতের সুরটি যেন ছুঁয়ে যায় মিলনায়তনভর্তি শ্রোতার অন্তরাত্মা। সুরের আশ্রয়ে দৃশ্যমান হলো সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা বাংলার মোহময় রূপটি। পরিবেশনা শেষে ঝরে পড়ে হাজার শ্রোতার মুগ্ধতা মেশানো করতালি।

অনুষ্ঠানে প্রধান ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ক্রাউন সিমেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ খবিবরুদ্দিন মোল্লা, অতিরিক্ত ব্যবস্থপনা পরিচালক মোঃ আলমগীর কবির। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালকবৃন্দ, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘ক্রাউন সিমেন্ট একটি আধুনিক বিকাশমান উৎপাদনমুখী বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। বেসরকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে তাদের অগ্রযাত্রা উল্লেখ করার মতো।

অন্য বক্তারা বলেন, কোম্পানির অগ্রযাত্রা এখন আর দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বহির্বিশে^ও ছড়িয়ে পড়েছি আমরা। বাংলাদেশের মানুষ বিগত ২০ বছর ধরে ক্রাউন সিমেন্টের ওপর আস্থা রেখেছেন এবং এখনও রেখে চলেছেন বলেই গণমানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই এ আয়োজন। শুধু আমাদের জাতীয় সঙ্গীত সিম্ফনিক অর্কেস্ট্রায় পরিবেশনেই এ অনুষ্ঠান সীমাবদ্ধ ছিল না। অনুষ্ঠানে ব্যান্ডতারকা আইয়ুব বাচ্চু তার ব্যান্ড এলআরবিকে নিয়ে বুদাপেস্ট ফিলহারমোনিক অর্কেস্ট্রার সঙ্গে পরিবেশন করেন ব্যান্ডের ‘চলো বদলে যাই’সহ আরও কিছু গান। দর্শক-শ্রোতাদের জন্য এটাও এক নতুন এক অভিজ্ঞতা। কারণ এলআরবির গান লাইভে কোন অর্কেস্ট্রার সঙ্গে এবারই প্রথম। একই সময়ে বুদাপেস্ট ফিলহারমোনিক অর্কেস্ট্রার সঙ্গে ‘আমি বাংলার গান গাই’ গানটি পরিবেশন করেন মাহমুদুজ্জামান বাবু। গানটি পরিবেশনের সময় মিলনায়তনে এক আবেগতাড়িত পরিবেশের সৃষ্টি হয় পুরো মিলনায়তনে। এছাড়াও শ্রোতাদের মাতিয়ে তোলেন জনপ্রিয় লোকসঙ্গীতশিল্পী মমতাজ এবং ব্যান্ডদল অর্ণব এ্যান্ড ফ্রেন্ডস। রং-বেরঙের আলোকরশ্মির খেলায় লেজার শোর মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

থিয়েটার সপ্তাহ শুরু ॥ বিগত ৪৪ বছর নিরবচ্ছিন্নভাবে নাট্যচর্চা করছে নাট্যদল থিয়েটার। ল্যর স্মারক হিসেবে ৪৪ বছরের মঞ্চে এনেছে ৪৫টি প্রযোজনা। ‘সবার উপরে জীবন সত্য’ সেøাগানে শুক্রবার থেকে শুরু হলো ‘থিয়েটার সপ্তাহ-২০১৫’। আয়োজনটি উৎসর্গ করা হয়েছে এমন চারজনকে যারা নিজেদের কর্মের মধ্য দিয়ে আজও প্রাসঙ্গিক। এই চার কীর্তিমান মানুষ হলেন মুনীর চৌধুরী, মোহাম্মদ জাকারিয়া, আবদুল্লাহ আল মামুন ও কবীর চৌধুরী।

শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় বসে উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য নাট্যজন আতাউর রহমান এবং বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের চেয়ারম্যান ও শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থিয়েটার প্রবর্তিত মুনীর চৌধুরী সম্মাননা ও মোহাম্মদ জাকারিয়া স্মৃতিপদক প্রদান করা হয়।