১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গয়েশ্বরের দাবি সুষ্ঠু ভোট হলে ৮০ ভাগ পৌরসভায় জিতবে বিএনপি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সুষ্ঠু ভোট হলে ৮০ ভাগ পৌরসভায় বিএনপি বিজয়ী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। শুক্রবার সকালে ‘জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের’ ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় বিএনপির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) সরকারের নির্দেশে একটি বিশেষ দলের স্বার্থে কাজ করছে।

এদিকে বিকেলে নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের মুখপাত্র ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিতে গিয়ে যেসব এলাকায় বিএনপির প্রার্থীরা বাধার সম্মুখীন হয়েছেন সেসব এলাকায় নতুন তফসিল ঘোষণার দাবি জানাচ্ছি।

জিয়ার মাজারে গয়েশ্বর রায় বলেন, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন হিসেবে পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নিয়েছে বিএনপি। তিনি বলেন, সরকারী দলের প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘন করাই এখন আচরণবিধিতে পরিণত হয়েছে। আর যারা আচরণবিধি লঙ্ঘন করে তাদের কাছে আচরণবিধির অভিযোগ করে লাভ কী? সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পৌরসভা নির্বাচনে ফলাফল কী হবে সেটা আপনারাও জানেন, আমরাও জানি। নির্বাচন যদি সুষ্ঠু হয়, মানুষ যদি ভোট দিতে পারে তাহলে আমরা ৮০ ভাগ পৌরসভায় জয়লাভ করব। আর যদি সেটি না হয় তাহলে বিএনপির বিজয় শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে।

গয়েশ্বর বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা জেগে আছে এবং জেগে থাকতে হয়। সরকারের বাহিনী এক বছর ধরে প্রতিদিন বিএনপির নেতাকর্মীদের বাসায় হানা দিচ্ছে। তাই জেগে থাকতেই হয়। তবুও প্রয়োজন হলে নেতাকর্মীরা জীবন দিয়ে গণতন্ত্র রক্ষা করবে।

মঈন খান বলেন, আজ দেশে গণতন্ত্র মৃত। এ মৃত গণতন্ত্রকে জাগিয়ে তুলতে হবে। গণতন্ত্রকে সামনের দিকে নিয়ে অর্থনৈতিক মুক্তি লাভ করতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দেশ শাসন করে না, তারা ইতিহাস লেখে। সরকারের নির্দেশনার কারণে নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না। এ নির্বাচন কমিশন অতীতের নির্বাচনগুলোতেও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেনি। এবারের নির্বাচনেও তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারলে আসন্ন পৌরসভা নির্বাচন অর্থবহ হবে না। তিনি বলেন, মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময়ই ক্ষমতাসীন দলের দৌরাত্ম্য দেখা গেছে। দিন গড়ানোর সঙ্গে এটি আরও বাড়বে।

জিয়ার মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের সভাপতি শ্যামা ওবায়েদসহ সংগঠনের বিভিন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

যেখানে বাধা সেখানে নতুন তফসিল চায় বিএনপি ॥ বিকেলে নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের মুখপাত্র ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিতে গিয়ে যেসব এলাকায় বিএনপির প্রার্থীরা বাধার সম্মুখীন হয়েছেন সেসব এলাকায় নতুন তফসিল ঘোষণার দাবি জানাচ্ছি। মনোনয়নপত্র জমা দিতে গিয়ে বাধার মুখোমুখি হওয়ার পাশাপাশি যেসব এলাকায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেননি সেসব রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারের দাবিও জানাচ্ছি।

নির্বাচন কমিশন এবং সরকারের সমালোচনা করে রিপন বলেন, কমিশন যেভাবে নিত্যনতুন সংশোধনী দিচ্ছে তাতে নির্বাচন প্রক্রিয়া কঠিন হচ্ছে এবং কষ্টসাধ্য হচ্ছে। এটা প্রত্যাশিত নয়। বর্তমানে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ অনুপস্থিত দাবি করে রিপন বলেন, তফসিল ঘোষণার আগে বিএনপির কিছু পর্যবেক্ষণ ছিল সেগুলো আমলে নিলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা যেত। কিন্তু নির্বাচন কমিশন সেসব আমলে নেয়নি।